ইস্কন মন্দিরের সাধু-সন্ন্যাসীরা দুর্গাপুরের ভালোবাসার বদলে ঘৃণার পাত্র — মন্তব্য উত্তম মুখার্জীর

0
1623

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুরঃ গত শনিবার অর্থাৎ ২রা ফেব্রুয়ারি দুর্গাপুরের নেহেরু স্টেডিয়ামে বিজেপির একটি রাজনৈতিক জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত হয়েছিলেন ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই দিন প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি উপলক্ষ্যে জনজোয়ার নেমেছিল নেহেরু স্টেডিয়াম চত্বরে। তবে সাধারন মানুষ ও বিজেপি সমর্থকরা ছাড়াও সেইদিন নরেন্দ্র মোদীর জনসভায় ভিআইপি আসনে বসেছিলেন দুর্গাপুরের ইস্কন মন্দিরের প্রধান, কোষাধ্যক্ষসহ ওই সংগঠনের একাধিক সাধুসন্তগন। আর এই নিয়েই দুর্গাপুরে শুরু হয়েছে আলোড়ন। বিজেপি ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে তীব্র ভর্তসনা করা হচ্ছে দুর্গাপুরের ইস্কন মন্দিরের ওই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। সবারই একটাই প্রশ্ন, একটি কৃষ্ণনাম প্রচার করা আন্তর্জাতিক ধর্মীয় সংগঠন কী করে ও কেনই বা বিজেপির রাজনৈতিক জনসভায় যোগ দিল। তাহলে কী অলিখিতভাবে তাঁরা কৃষ্ণনামের আড়ে মোদীর গুন-গান জপ করছেন ও নিজেদের ভক্তবৃন্দকে প্রভাবিত করছেন মোদীভক্ত হওয়ার? প্রশ্ন এখন সমগ্র দুর্গাপুরবাসীর। এই বিষয়ে এই বাংলায়-র প্রতিনিধি যখন তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি উত্তম মুখার্জীকে প্রশ্ন করেন এই বিষয়ে তাঁদের মতামত কী? উত্তরে তৃণমূল জেলা সভাপতি যে ভাষায় ঘটনার তীব্র নিন্দা করলেন তাতে সমস্ত দুর্গাপুরবাসী তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করলেন। কী বললেন তিনি? উত্তরে তিনি জানালেন, ইস্কনের ওই সমস্ত সাধু-সন্ত যারা সেদিন ওই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন তাঁরা আদৌ সন্ন্যাসী নন, কারণ তাঁরা ব্রহ্মচর্য পালন কী তা জানেনই না। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, কোনও ব্রাহ্মণ সন্তানের যখন পৈতে হয়, তখন তাকে তিনদিন ব্রহ্মচর্য পালন করতে হয়। যেখানে সকল প্রকার খাদ্য (ফল, জল ব্যতীত)থেকে, মিথ্যে কথা বলা থেকে বিরত থাকতে হয় সেখানে এই সাধু-সন্তরা ব্রহ্মচর্য তো দূর অস্ত, সামান্য নিয়ম-নিষ্ঠাও পালন করেন না, তাঁরা চিকেন-চিলি আহার করেন এবং নিজেদের কলঙ্ক ঢাকতে ও সিবিআইয়ের নজর থেকে বাঁচতে ভাঁওতাবাজ নরেন্দ্র মোদীর সভায় যোগ দিয়েছিলেন। খবর নিয়ে দেখুন, আমার কথায় সত্য প্রমাণ হবে, মন্তব্য উত্তম মুখার্জীর। তিনি আরও বলেন, বিজেপির ওই জনসভাতে ইস্কনের ওই সদস্যরা ছাড়া আর কোনও ধর্মীয় সংগঠন উপস্থিত ছিল না। দুর্গাপুর ইস্কন মন্দিরের যে চার-পাঁচ জন্য সদস্য সেই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা দুর্গাপুরের ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁদেরকে আবার নতুন করে ব্রহ্মচর্য পালন করে পুনরায় আসতে হবে দুর্গাপুরের মানুষের কাছে ভালবাসা ফিরে পেতে। আজ থেকে আমরা ও দুর্গাপুরবাসী তাঁদেরকে ঘৃণার চোখে দেখব। স্বাভাবিকভাবেই লোকসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে সদর দফতর থাকা এই ইস্কন সংগঠনটিকে যে ভালো নজরে রাজ্যবাসী নিচ্ছেন না তা পরিষ্কার জেলা সভাপতির বক্তব্যে। রাজ্যে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী বহুবার ইস্কনের বহু অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন ও তাঁদের এই ধর্মীয় সংগঠনটিকে সম্মান জানিয়ে এসেছেন। কিন্তু গত ২রা ফেব্রুয়ারি বিজেপি রাজনৈতিক জনসভায় উপস্থিত থেকে দুর্গাপুর ইস্কন মন্দিরের কর্মকর্তারা প্রমাণ করে দিলেন যে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গবাসীর পিঠে ছুরির আঘাত করতে পিছপা হবেন না। দুর্গাপুরবাসীর অভিযোগ, কৃষ্ণনাম ও মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগের আড়ালে তাঁরা নিঃশব্দে তাঁদের ভক্ত ও অনুগামীদের বিজেপির রাজনৈতিক দীক্ষায় দীক্ষিত করছেন। সমগ্র দুর্গাপুরবাসী দুর্গাপুরের ইস্কন মন্দির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ঘৃণায় ও ক্ষোভে ফুসছেন, এখন দেখার কোথাকার জল কোথায় গিয়ে থামে। দেখুন জেলা সভাপতির সেই বক্তব্যের ভিডিও।