প্রচন্ড দাবদাহে তীব্র জলসংকটে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর

0
1048

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ বৈশাখ শেষের তপ্ত শহর দুর্গাপুর। তাপমাত্রার পারদ নিম্নমুখী নয় ক্রমশ চড়ছে উর্ধ্মুখী, মাঝে মধ্যে কালবৈশাখীর ঝাপটায় বৃষ্টি স্নাত বিকেলে দুর্গাপুর শহর সাময়িক স্বস্তি পেলেও সকাল হতেই সেই স্বস্তি উধাও। সকালে সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রার পারদ ছুঁয়ে ফেলছে ৩৫-৪০ ডিগ্রীর কোটা বেলা বাড়তেই তা ৪২ থেকে ৪৩ ডিগ্রীর আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। আর এই ভয়াবহ গরমে যখন নাজেহাল অবস্থা দুর্গাপুরবাসীর তখন সেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করেছে শহর জুড়ে তীব্র জলংকট দেখা দেওয়ায়। প্রবল দাবদাহে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের একমাত্র ভরসা দামোদর নদী দিনের পর দিন শুকিয়ে চলেছে, ফলে স্বাভাবিকভাবেই জলের যোগান কমেছে প্রবলভাবে। গ্রীষ্মের দাবদাহ শুরুর পর থেকেই শিল্পশহরের কোথাও পর্যাপ্ত জল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। শহরের বেশ কিছু এলাকায় দীর্ঘ বেশ কয়েকদিন ধরে সম্পূর্ণভাবে জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় বিধাননগর অঞ্চলের আরএইচই হাউসিংয়ের ঘটনা। টানা দু-সপ্তাহেরও বেশি জল না পেয়ে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন আবাসিকরা। বর্তমানে পানীয় জল এলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল বলে জানাচ্ছেন বিধাননগর এলাকার ওই আবাসিকরা। শুধু বিধাননগর বলে নয় শিল্পশহরের বিভিন্ন এলাকায় এই মুহূর্তে পানীয় জলের আকাল নেমেছে। কিন্তু এইবছর গরমের শুরু থেকেই দুর্গাপুরে অত্যধিক জল সংকটের কারণ কী? কারণ প্রত্যেক বছরই দুর্গাপুরে বেশ ভালোই গরম পড়ে কিন্তু জলের এহেন সংকট দুর্গাপুর শহর তেমন একটা প্রত্যক্ষ করেনি। এই প্রশ্নের উত্তরে দুর্গাপুর পুরসভার মেয়র জানিয়েছেন একেই বৃষ্টি কম হয়েছে তারওপর বৈশাখের প্রবল দাবদাহ চললেও কালবৈশাখীর ঝড়ে সেরকম বৃষ্টি হয়নি। এই কারণেই দামোদরের জল যেমন দ্রুত কমতে কমতে প্রায় তলানিতে ঠেকেছে তেমনি শহরের বিভিন্ন এলাকার কুয়ো ও ছোট-বড় জলাশয়গুলিও শুকিয়ে ফাঁকা মাঠে পরিণত হয়েছে। মেয়র জানিয়েছেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের বেশ কিছু জায়গায় ডিপ টিউবওয়েল বসানো হয়েছে, সেখান থেকে জল তুলে জলের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু জলের স্তর এতটাই নেমে গেছে যে সেখানেও জলের সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। অথচ যেখানে বিধাননগর, সিটিসেন্টারের অম্বুজা আবাসন এলাকায় প্রায় জলের সমস্যা লেগেই রয়েছে সেখানে তুলনামূলকভাবে জল সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে দুর্গাপুর স্টীল টাউনশিপ এলাকায়। যদিও টাউনশিপ এলাকায় জল সরবরাহের দায়িত্ব ডিএসপির। কিন্তু জলের এহেন সংকট প্রত্যক্ষ করে ডিএসপিও একদিন পর পর জল সরবরাহ করছে। বৈশাখ শেষ হলেও এখনও পুরো জ্যৈষ্ঠ মাস বাকি, ফলে এখনও তীব্র দাবদাহের আরও এক মাস। একদিকে অসহনীয় গরম আর অন্যদিকে তীব্র জলকষ্ট, আপাতত এই দুইয়ের দাপটে নাজেহাল শহর দুর্গাপুর।