সামনেই পুজো, চলছে ঢাকিদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

0
1013

সঞ্জীব মল্লিক, বাঁকুড়া : আকাশে ভেসে বেড়েছে সাদা পেঁজা তুলো মেঘ। আপমনে সাদা কাশ ফুল মাথা দোলাচ্ছে। ভোরের বেলা শিশির ভেজা শিউলী জানান দিচ্ছে শরৎ এসেছে। শরৎ মায়ের আগমণী সুর দিকে দিকে। পুজো পুজো গন্ধে মম করছে বাংলার আকাশ বাতাস। ঠিক প্রাক্ পুজো মুহূর্তে সেই উৎসবের অন্যতম অঙ্গ ঢাকিরা কেমন আছেন তা দেখতেই আমাদের ক্যামেরা পৌছে গেল বাঁকুড়ার রুইদাস গ্রামে। পাত্রসায়রের নারায়নপুর পঞ্চায়েতর রুইদাসপাড়া গ্রাম। বাঁকুড়া শহর থেকে প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার দুরের এই গ্রামের ঢাকিদের চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। পুজোর আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি । চারিদিকে পুজো পুজো প্রস্তুতি তুঙ্গে। মাঠে কাশফুলের দোলা, আকাশে পেজা তুলোর ভেসে বেড়ানোর বয়ে আনছে আগমনের বার্তা। আর জোর বার্তা আরও বহন করে আনে ঢাকের আওয়াজ। সেই ঢাকে বাদ্দি মনকে খুশিতে ভড়িয়ে তোলেন যারা তাদের পুজোতে ঢাক বাজাতে যাবার প্রস্তুতি তুঙ্গে। এ ছবি বাঁকুড়া জেলার পাত্রসায়ের থানা থেকে বেশ কয়েক কিলোমিটার দুরে রুইদাস গ্রামের। এই গ্রামেই ত্রিশ থেকে চল্লিশটি ঢাকি পরিবারের বসবাস। সেই ঢাকিদের চলছে বিভিন্ন জায়গায় পুজোতে ঢাক বাজাতে যাবার প্রস্তুতি। কিন্তু সেই প্রস্তুতি পুজোর আনন্দে গা ভাসানোর জন্য নয়, রুজি রোজগারের তারনায় বিভিন্ন জায়গায় যাবার জন্য চলছে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি। এই গ্রামের যে চল্লিশটি পরিবার আছে তারা বিভিন্ন পুজোতে ঢাক বাজিয়েই সংসার চালায়। উৎসবের মরশুমে বেশির ভাগ ঢাকি পাড়ি দেন দিল্লী, মুম্বাই, পাঞ্জাব, বিহার এর মত ভিন রাজ্যের বিভিন্ন পূজো মণ্ডপে। ঢাকের আওয়াজে যখন পূজো আনন্দে ভড়ে ওঠে, তখন রুইদাস গ্রামের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা, বৃদ্ধা, মহিলারা পথ চেয়ে বসে থাকেন ঘড়ের মানুষটির বাড়ি ফেরার আশায়। কারন সেই রোজগারের টাকাতেই আগামী কয়েকটা দিন কাটবে সুখ ও স্বাচ্ছন্দ্যে। কেননা সারাবছর তেমন রোজগার হয়না এই পুজোর কয়েকটা দিনই তাদের দুপয়সা ঘরে আসে।রাজু রুইদাস নামে একজন ঢাকি বলেন পূর্ব পুরুষের পেশা এবং রোজগারের তাগিদে পরিবার ছেড়ে আমাদের ভিন রাজ্যে ডাক বাজাতে যেতে হয়, তিনি আরো বলেন এই গ্রামে চল্লিশ ঘর ঢাকির মধ্যে দশ জন শিল্পী ভাতা ভাতা পায়। আমাদের সকলের জন্য যদি সরকার শিল্পী ভাতার ব্যবস্থা করে তাহলে খুব উপকার হয়| রাজেন্দ্র রুইদাস নামে অন্য একজন কি বলেন দুর্গা পুজোয় যখন সবাই নতুন জামা কাপড় পরে আনন্দ করে আমরা তখন পরিবারের লোকজন ছেড়ে পেটের তাগিদে ভিন রাজ্যে যাই ডাক বাজাতে| রুইদাস পাড়া গ্রামের প্রায় বাড়ির পুরুষেরা পুজোতে ঢাক বাজাতে চলে ভিন রাজ্যে, ব্যাথাতুর হৃদয় নিয়ে পথ চেয়ে বসে থাকে এই গ্রামের সকল কল্পনারা| দুর্গাপুজোয় সবাই প্রিয়জনকে কাছে চায় কিন্তু এই গ্রামের কল্পনাদের পুজোর মধ্যে প্রিয়জনদের ছেড়ে থাকতে হয়| পুজোর পর যখন রুইদাস পাড়ার ঢাকিরা ঘরে ফিরে তখন পরিবারের সকল মানুষ সমস্ত কষ্ট ভুলে যায়| তবে তারা সরকারি ভাতার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। কেউ কেউ ভাতা পাচ্ছেন তবে বেশিরভাগ ঢাকিরাই তা পাচ্ছেন না। তাই তারা সরকারের সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। সরকার একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তাদের সংসারের অভাব অনটন কিছুটা হলেও মিটবে। এ বিষয়ে পাত্রসায়ের পঞ্চায়েত প্রধান তোতন মল্লিকের সাথে যোগায়োগ করা হলে তিনি বলেন, এখন যারা সরকারি ভাতার জন্য আবেদন করেননি তারা আবেদন করুক, তারা যাতে ভাতা পায় আমরা তার চেষ্টা করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here