দিদিকে বলো ভার্সাস, মিসড কলঃ জলে, শাঁসে অনেক নেতা, মন্ত্রী কি করবেন পি. কে!

0
1516

সূবর্ণ ন্যায়ধীশ

‘মা-মাটি-মানুষে’র সরকার। এই ট্যাগলাইনের গায়ে রয়েছে মাটির কাছাকাছি নেমে, মানুষের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি আর ঘামের গন্ধ। যে গন্ধ নাকে এলে কালার-প্লাসের জামা পরা, উডল্যান্ডের জুতো পায়ে শহরের ডাকসাইটে কমরেডরা সিপিএমের মুষল পর্বে নাক সিঁটকাতেন, তার ফলে বামবাদীরা আট বছর আগেই লাল বাড়ী থেকে “টা-টা বাই বাই” হয়ে উধাও হয়ে গেছেন।
তাতে ঘামওয়ালা লোকেরা কি ভালো আছে? এখন এ প্রশ্ন তোলা যেতেই পারে। লোকে ইতিউতি তুলছেও। বিরোধীরা তো বটেই, তুলেছেন খোদ রাজ্যের দিদিমণিও। তাই তো আদর করে নতুন আবদার এনেছেন – “দিদি কে বলো।”
তবে, দাদাদের ছোট-বড় শহরগুলিতে দাদাগিরির খবর ঠিক কতটা দিদিকে বলছে লোকে, সেটা যেমন প্রশ্ন, তেমনি জানার আগ্রহ – দিদি নিজে আদৌ কতটা নিজের কানে তুলছেন সে কথা? এখনো পর্যন্ত তার পর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়া মেলেনি। সময় লাগবে।
তবে, আমজনতার একাংশ ‘দিদি কে বলো’ নিয়ে বিস্তর উৎসাহিত হলেও পাড়ার, নগরের দাদাদের অনেকেরই কিন্তু পাশকাটানো হাবভাব। কেউ বলছেন-‘ওতে কি আর হবে? কত ফোনের সুরাহা করা যাবে? এভাবে কি প্রশাসন চালানো যায়?’ আবার কোনো নেতার সাফাই – “গাঁগঞ্জে গিয়ে এম.এল.এ-রা রাত কাটালেই হয়ে গেল? এক একটা বাড়ীতে ডজন ডজন সমস্যা। দশটার মধ্যে পাঁচটা না মেটাতে পারলেই ফল হবে উল্টো। বিরোধীরা সে সব এনক্যাশ্ করবে। ওদের দলে ভিড় বাড়বে।” তৃণমূল কংগ্রেসের এক জেলা নেতার এই আশংকাটা এক্কেবারে ফেলে দেওয়ার নয় কিন্তু। গতহপ্তায় চিন্তন বৈঠকে দুর্গাপুরে এসে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ তো বলেই বসলেন, “দিদি কে বলো” ওদের কাছে ব্যুমেরাং হবে। ভবিষ্যতে মমতা ব্যানার্জীর এই চালাকি একটা বড়ো রাজনৈতিক ভুল বলে চিহ্নিত হবে।” কেন্দ্রের ‘হাফমন্ত্রী’ বাবুল সুপ্রিয় তো বলেই বসলেন, “দিদিকে নয়, রাজ্যের মানুষ এখন যা বলার আমাদেরকে বলে। ওসব করে কিস্যু হবেনা।”
সত্যিই কি কিস্যু হবেনা? বাস্তব কিন্তু ছোট ছোট করে ছোটো মুখে বড় কথা বলা শুরু করেছে। কি রকম? পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া, গুসকরা, হুগলীর তারকেশ্বর, বীরভূমের রামপুরহাট, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট, পুরুলিয়ার পুঞ্চাতে দিদি কে বলার পর কেউ পেলেন বাংলা আবাস যোজনার বাড়ী, কেউ পেলেন শৌচাগারের টাকা, কেউ কেউ আবার ফেরৎ পেলেন নেতাকে দেওয়া কাটমানির টাকা। তাহলে? ব্যাপারটা নিছকই গিমিক নয় তবে?
হয়তো নয়।
হয়তো বা।
তৃণমূল কংগ্রেসেরই একশ্রেণির নেতা তবে কেন বিরস বদনে, নীরস মুখে উলটো কথা বলছেন? গত আট বছরে একশ্রেণির নেতার সম্পদ, অহংকার আর ভোগের যে যে আস্ফালন রাজ্যবাসী দেখেছে, তাঁরাই কিন্তু ভীত বেশি। তাদের ভয়-আমজনতার হাতে এখন সহজলভ্য দুটি অপশন্
(ক) অঢেল সময়
(খ) ফ্রি-তে কথা বলার দেদার সিমকার্ড।
রাজ্যের যে কোনও প্রান্ত থেকে লাগাতার ট্রাই করলেই হয়! একবার না একবার তো লাইন পেয়ে যেতেই পারে – আর “যদি সব বলে দেয়!” এই ভয়টা পেয়ে বসেছে বহু নেতা, মন্ত্রীকে। তাই, তারা তাদের বশংবদ চামচা-বেলচাদের কাছে আলগোছে বলেই দিচ্ছেন – “ধুস্। চিন্তা করিসনা। কিস্যু হবেনা।” তবে, ওই সব নেতা, মন্ত্রীরা তলায় তলায় বিজেপির ফোন নম্বরে নিজেদের গোপন সিমকার্ড থেকে মিসড কল দিয়েও রাখছেন। বিজেপি সভাপতি তো খুল্লামখুল্লা বলেই দিলেন, ”মিসড কল মানেই সে অলরেডি আমাদের পার্টি সদস্য হয়েও গেল। এভাবেই তো আমাদের সদস্য এরাজ্যে এখন ৫২ লাখ।” ঠিক সেই কারণেই দিলীপ ঘোষরা বুক বাজিয়ে বলে বেড়াচ্ছেন, “তলায় তলায় অনেকেই আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন”। গত সপ্তাহে ‘বৈশাখী-কানন’ কান্ড সে কথা প্রমাণও করল। অর্থাৎ, শ্যাম আর কুল দুটি থানেই চুপিচুপি মাথা ঠুকে ওনারা বেশ ‘কুল-কুল’ গোলাপ ফুল। এই দ্বিচারীদের নীট ইনভেস্টমেন্ট বলতে – “আইফোন বা স্যামসাঙ নোট টেনে ফ্রি তে পাওয়া সিমকার্ড ভরে বিলকুল ফ্রিতে ঝক্কাস একটা মিসড কল। তাও আবার প্রেমিকাকে লুকিয়ে কল করার মতো, গোপনে।” ব্যাস্‌, কেল্লাফতে” চিৎ ভি মেরী, পট ভি মেরা, আমি ডরাই কোন শা-কে!!” ডরাই না, তবে কায়দা করে মা-মাটি-মানুষকে ব্ল্যাকমেল করার অপশন বা পাসওয়ার্ড এখন আমার মুঠোফোনে বন্দী-‘আ-হা, আ হা হা হা!!’
দিলীপ ঘোষরা তো ‘ডগ ক্যাচার স্ক্যোয়াড’ খুলে বসেই আছেন – ঝুপ করে একবার দিল্লী চলো আর ঝপ করে ‘জয় শ্রীরাম বলো’, সব ‘পাপ’ গঙ্গা জলে ধুয়ে দেবতা হয়ে শহরে ফেরো। কে. সি. নাগের পাটিগণিত তো বাচ্চা ছেলের ইকির মিকির, এটা হচ্ছে আসলি পার্টিগণিত। এর মহিমা-ই আলাদা।
তাই, ‘দিদি কে বলো’ তে ফোনের চেয়ে, এনাদের কাছে ভাজপার মিসড কলের দাম ঢের বেশি। এক কে সাথ এক ফ্রি। বাড়ীর ড্রাইভার, চৌকিদারদের সুকৌশলে ভাজপাতে ঢুকিয়ে রেখেছেন,- এমন ‘মাল’ তৃণমূল কংগ্রেসে যেমন আছে, সিপিএমে ভুরি ভুরি। লোকসভা ভোটে যে হারে পদ্মপ্রেম উথলে উঠেছে ‘ছিপিএমের’, তাতে অবশ্য সন্দেহের অবকাশও আর নেই। আর, টি এম সির কেউ বউকে রামভক্ত হতে বলেছেন, নিজে সদাশিব। কারো কারও আবার ভিসা পাসপোর্ট বাই ডিফল্ট রেডি হয়েই আছে কুটুম্বিতার জোরে। এক্কেবারে “আইনত” দাদা-ভাই। রুখবে কে? কি করবেন নতুন কোচ পি.কে – প্রশান্ত কিশোর!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here