৭৪ তম স্বাধীনতা দিবসে ডিজিট্যাল ড্রইঙ্গ দিয়ে নারী স্বাধীনতার ভাবনা

0
308

সংবাদদাতা, পুরুলিয়াঃ- সুন্দরী পুরুলিয়া জেলার জে কে কলেজের ছাত্রী সোহিনী ভট্টাচার্য তার ডিজিটাল ড্রয়িং এর মাধ্যমে তুলে ধরেছেন এক সামাজিক বাস্তব চিত্র। ভারতের ৭৪ তম স্বাধীনতা দিবসে এক প্রাণবন্ত ছবি এঁকেছেন তিনি। এই চিত্র সম্পর্কে সোহিনী ভট্টাচার্য মহাশয়াকে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, তার চিত্রে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে এক চলন্ত নৌকার উপর দাঁড়িয়ে আছে এক ছেলে ও মহিলা। তাদের সামনে রয়েছে ভারতবর্ষের জাতীয় পতাকা। এবং মধ্যেখানে অবস্থান করছে অশোক চক্র। একজন পুরুষ একজন মহিলার কানের পাশে আলতো ভালোবাসার ছোঁয়া দিয়ে, স্নেহের পরশ দিয়ে এই কথায় বলতে চাইছে – তোমার স্বাধীনতার আধিকার (নারী স্বাধীনতা) আমি রক্ষা করবো। তোমার স্বাধীনভাবে বাঁচার পথে তোমাকে যদি সমাজ পরাধীনতার শিকলে বাঁধার চেষ্টা করে আমি তোমাকে রক্ষা করবো সেই পরাধীনতার শিকল ভেঙে তুমি এগিয়ে চলো এক উজ্জল ভাবিস্বতের দিকে (এখানে নৌকাতে চড়ে সাদা উজ্জ্বল এর দিকে এগিয়ে যাওয়াই তা পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে, অশোক চক্র কে একটা স্বাধীন মেয়ের জীবন চক্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন) আমাদের স্বাধীন ভারতবর্ষে বা ভারতীয় সংবিধানে নারী স্বাধীনতার কথা বলা থাকলেও বাস্তবে কি নারীরা স্বাধীন? তারা কী স্বাধীন ভাবে বেঁচে থাকে? একথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে প্রায় প্রতি ক্ষেত্রে পুরুষ দ্বারা মহিলারা অপমানিত হচ্ছে, ক্ষুন্ন করা হচ্ছে তাদের স্বাধীনতাকে।

এমনকি ছবিতে এবং বাস্তবেও ছেলে রা পরে আধুনিক জামা কাপড় আর মেয়েরা শাড়ী। কেনো সমাজ এখনো আধুনিক জামা কাপড় পরা মেয়ে দিকে বাঁকা চোখে তাকাই? যদিও পুরুষেরা সকলেই স্বাধীন, কিন্তু ভারতীয় সংবিধান এ বড় বড় করে নারী স্বাধীনতার কথা লেখা থাকলেও কোথাও না কোথাও নারীরা পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হতে পারেনি। এই পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করার জন্য আশা, ভালোবাসা এবং স্নেহের পরশ নিয়ে এই নৌকা এগিয়ে যাচ্ছে নারী স্বাধীনতার দিকে।

আমাদের পক্ষ থেকে সেলুট জানাই শিল্পীকে, সেলুট জানাই সোহিনী ভট্টাচার্য ম্যাম এর এই ভাবনাকে। সত্যেই আজ সকল পুরুষ মানুষের এবং সমগ্র মানব জাতির ভাবার সময় এসেছে। স্বাধীনতার ৭৪ বছর পরেও কি আমাদের বাড়ীর,পাড়ার, গ্রামের, জেলার, রাজ্যর,দেশের মেয়েরা/মহিলারা স্বাধীন? কেন এতো হিংসা। আট থেকে আশি বছরের কোনো মেয়ে/মহিলায় আজ সুরক্ষীত নয়। কেন মানুষ মেয়েদের শুধুমাত্র ভোগ্যপণ্য হিসাবে ব্যবহার করে? কেন ছেলেরা/ পুরুষেরা শারীরিক চাহিদা মেটানোর জন্য নারীখাদকে পরিণত হয়েছে? মেয়েদের কি স্বাধীন ভাবে বেঁচে থাকার আধিকার নেই? কেন একটা মেয়ে নিজের ইচ্ছা মত তার পড়াশুনা থেকে শুরু করে ইচ্ছা মত প্রফেশন বেছে নিতে পারবেনা? কেনো অনিচ্ছা সত্বেও পড়াশুনা থামিয়ে তার ভবিষ্যতে পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দিয়ে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়? কি লাভ এই ৭৪তম স্বাধীনতা দিবস পালন করে যদি না দেশের মেয়েরা স্বাধীন, সুরক্ষীত না থাকে। যদি না দেশের মেয়েরা সবদিক দিয়েই স্বাধীন না হয় কি লাভ এই আয়োজনের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here