বর্ধমানের জেলা শাসক হানা দিয়ে ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করলেন জেলা পরিষদের অফিসে থেকে

0
489

সংবাদদাতা, বর্ধমান : জেলা পরিষদের রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেলের অফিসে হানা দিয়ে এক ঠিকাকর্মীর টেবিলের ড্রয়ার থেকে হিসাব বহির্ভূত ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করলেন জেলা শাসক। ড্রয়ার থেকে জেলা পরিষদে নিয়োগের ১৫৮টি অ্যাডমিট কাের্ডর কাউন্টার ফয়েলও উদ্ধার হয়েছে। টাকার বিষয়ে কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেন নি ওই ঠিকাকর্মী। হিসাব বহির্ভূত টাকা মেলায় ঠিকাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। টাকা ও অ্যাডমিট কাের্ডর কাউন্টার ফয়েল পুলিস বাজেয়াপ্ত করেছে। ধৃতের নাম তন্ময় রায় চৌধুরি। তিনি জেলা ট্রেনিং কো-অির্ডনেটর পদে কর্মরত। বীরভূমের শান্তিনিকেতনের সুরুলে তাঁর বাড়ি। বুধবার ধৃতকে বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতের হয়ে আইনজীবী সদন তা জামিন চেয়ে সওয়াল করেন। তিনি বলেন, অভিযোগে কোথাও ঘুষ নেওয়ার কথা বলা হয়নি। ধৃত ঠিকাকর্মী। তাঁর কাজে অসন্তুষ্ট হলে প্রশাসনের কর্তারা তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে পারেন। অ্যাডমিট কাের্ডর যে ফয়েল উদ্ধার হয়েছে তার নিয়োগের পরীক্ষা অনেক আগেই হয়ে গিয়েছে। মিথ্যা মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। সরকারি আইনজীবী অবশ্য জামিনের বিরোধিতা করেন। সওয়াল শুনে ধৃতকে সোমবার পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নিের্দশ দেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম সোমনাথ দাস।
পুলিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ২টো নাগাদ জেলা শাসক বিজয় ভারতী জেলা পরিষদের রুরাল ডেভেলপমেন্ট সেলের অফিস পরিদর্শনে যান। তাঁর সঙ্গে আর‌ও কয়েকজন আধিকারিক ছিলেন। জেলা শাসক অফিসের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। বিভাগের কাজকের্মর বিষয়ে দপ্তরের কর্মীদের কাছ থেকে খোঁজখবর নেন। তন্ময়ের সঙ্গে কথা বলার সময় তাঁর কাজকের্ম অসন্তোষ প্রকাশ করেন জেলা শাসক। আচমকা তাঁর টেবিলের ড্রয়ার খুলে দেখেন তিনি। ড্রয়ার থেকে ৮০টি ৫০০ টাকার নোট এবং গত বছরের ১৩ জানুয়ারি হওয়া জেলা পরিষদের নিয়োগের ১৫৮টি অ্যাডমিট কাের্ডর ফয়েল দেখতে পান জেলা শাসক। টাকা ও অ্যাডমিট কাের্ডর ফয়েলের বিষয়ে কোনও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা জেলা শাসককে দিতে পারেন নি তন্ময়। নিয়োগের পরীক্ষার ফল বের হওয়ার পরও কেন সে সংক্রান্ত ফাইল ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়নি তারও কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেন নি তন্ময়। এরপরই তাঁকে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনার বিষয়ে প্রোজেক্ট ডিরেক্টর মানস হালদার পুলিসে অভিযোগ দায়ের করেন। প্রশাসনের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত কর্মীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ উঠছিল। তাঁর কাজকের্ম অসন্তুষ্ট জেলা প্রশাসনের কর্তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here