কাজ দেওয়ার নামে হাসপাতালেই মহিলার শাড়ী খুলছেন ডেপুটি সুপারঃ কাটোয়ায় ভিডিও ভাইরাল, ঘুমের ওষুধ খেলেন ডাক্তার

0
2597

সংবাদদাতা, কাটোয়াঃ- কাজ দেওয়ার ছুতো’য় মহিলাদের হাসপাতালের ফাঁকা ঘরে ডেকে সহবাস করছিলেন খোদ হাসপাতালেরই ডেপুটি সুপার। এমন ঘটনার গুঞ্জন কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ছিলই, তবে, ডেপুটি সুপারের অবাধ যৌন লীলার ভিডিও ভাইরাল হতেই শহর জুড়ে যেমন চাঞ্চল্য ছড়ালো, তেমনি সামাজিক লজ্জা থেকে মুখ লুকাতে ডজন খানেক ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন ডাঃ অনন্য ধর। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হল ওই হাসপাতালেই।
পূর্ব বর্ধমান জেলার অন্যতম গুরত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল। কিন্তু ডাঃ ধর ডেপুটি সুপার হয়ে যোগ দেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই হাসপাতাল জুড়ে স্বাস্থ্য পরিষেবার সাথে যুক্ত কর্মীরা বুঝে যান যে ডাঃ ধর তীব্র ভাবে মহিলা-আসক্ত মানুষ। দু’জন গ্রুপ-ডি মহিলাকে পালাবদল করে নির্জন ওয়ার্ডে তিনি যে ডেকে পাঠাচ্ছেন সে নিয়েও ফিসফাস শুরু হয়। এরপরই, ২০১৩ সালের জুন মাসে শারিরিক প্রতিবন্ধী এক রোগীর শরীরের যত্র-তত্র হাত বোলানোর অভিযোগ ওঠে। কাটোয়া থানায় বিষয়টি নিয়ে অভিযোগও জানান নির্যাতিতার স্বামী। জানা যায়, কিছু টাকা শুনাগার দিয়ে ‘ছাড়’ পান ডাঃ ধর।
মাঝে ২০১৫ তে এক নার্সিং স্টাফও মৌখিক অভিযোগ জানান, ডাঃ ধর তাকে অশালীল ইঙ্গিঁৎ করছেন যখন তখন। প্রভাব খাটিয়ে পরে সে সব অবশ্য ধামাচাপা দেন ডাঃ ধর, বলে অভিযোগ।
তবে, সমস্ত কিছু ছাপিয়ে গেছে সোমবার রাত্রে সোস্যাল মিডিয়ার একটি ভিডিও। যা নিয়ে শহর তথা স্বাস্থ্য-প্রশাসনেও ব্যাপক চাঞ্চল্য। ওই ৫৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের একটি ঘরে এক ছাপা শাড়ী পরা মহিলার শাড়ী পায়ের গোছা থেকে ওপরে তুলছেন ডাঃ ধর। ভিডিওটি শীতকালের, কারন ডাঃ ধর ক্রীম কালারের হাফ-সোয়েটার পরে আছেন। মহিলার চোখে চশমা। যেটুকু জানা গেছে, স্বাস্থ্য পরিষেবায় ঠিকার কাজ পাইয়ে দেবার নামে ওই মহিলাকে যৌন সংসর্গে বাধ্য করেন ডাঃ ধর।
এদিকে, ভিডিওটি ভাইরাল হতেই কাল রাতে দ্রুত হাসপাতাল ছেড়ে নিজের কোয়ার্টারে চলে যান ডঃ ধর। রাত্রী ১১টা নাগাদ তিনি প্রায় ১২টি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। দ্রুত খবর যায় হাসপাতালে। সেখান থেকে স্বাস্থ্যকর্মীরা এসে তাকে হাসপাতালেরই জরুরী বিভাগে স্থানান্তরিত করেন। গোটা ঘটনায় কাটোয়া হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট রতন শাসমল বলেন, “ডঃ ধরের চিকিৎসা চলছে। এখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। “
ভাইরাল হওয়া ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি বলেন,”জেলা স্বাস্থ্য অধিকর্তার কাছে বিষয়টি পৌঁছেছে। ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করে যা কিছু ব্যবস্থা তা ওনারাই নেবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here