এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি করতে গিয়ে প্রতারিত বর্ধমান মেডিকেল কলেজের এক চিকিৎসক

0
1005

সংবাদদাতা, বর্ধমান:- ছেলেকে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি করতে গিয়ে প্রতারিত হয়েছেন বর্ধমান মেডিকেল কলেজের এক চিকিৎসক। ড্রপ-আউট কোটায় তার ছেলেকে ভর্তি করে দেওয়ার নাম করে কোর্স ফি’র কথা বলে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এক প্রতারক। ঘটনার কথা লিখিতভাবে বর্ধমান থানায় জানিয়েছেন প্রতারিত চিকিৎসক। অভিযোগের তদন্তে নেমেছে পুলিশ। বর্ধমান থানার এক অফিসার বলেন অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার ধারায় মামলা রুজু হয়েছে তদন্ত চলছে ।

অভিযোগে ওই চিকিৎসক জানিয়েছেন এ বছর ১৫ অক্টোবর রাতে বিহারের কিশান্গঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তি তাকে ফোন করে ২০১৯ – ২০ বেচে এমবিবিএস কোর্সের ড্রপ-আউট কোটায় একটি আসন ফাঁকা রয়েছে বলে তাকে জানানো হয়। ছেলেকে সেই কোটায় ভর্তির জন্য যোগাযোগ করেন ওই চিকিৎসক। আলোচনার পর ছেলেকে ভর্তি করতে রাজি হন তিনি। তাকে ই মেইলে ভর্তি সংক্রান্ত নথিপত্র পাঠানো হয় । অনলাইন ভর্তির ফরম পূরণ করে ওই চিকিৎসকের ছেলে। এরপর চিকিৎসককে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও ভর্তির বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়। টিউশন বাবদ তাকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা পাঠাতে বলা হয়। মেডিকেল কলেজের একাউন্ট নম্বর ও আই এফ সি কোড পাঠানো হয় তাকে। চিকিৎসক তার স্ত্রীর একাউন্ট থেকে এন ই এফ টি করে একাউন্ট নাম্বারে টাকা পাঠান। টিউশন ফির বাকি সাড়ে তিন লক্ষ টাকা তাকে চেক দিতে বলা হয়।

এর দিন দুয়েক পর ফোন করে তাকে বাকি টাকা চেকের না পাঠিয়ে এন ই এফ টি করে পাঠাতে বলা হয় এতে চিকিৎসকের মনে সন্দেহ দেখা দেয়। খোঁজখবর নিয়ে চিকিৎসক জানতে পারেন যে একাউন্টে তিনি টাকা পাঠিয়েছেন সেটি মেডিকেল কলেজের নয়। অ্যাকাউন্টটি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সিলিগুরি শাখার এক ব্যক্তির নামে রয়েছে । তিনি টিউশন ফির দ্বিতীয় কিস্তির টাকা সেই একাউন্টে পাঠাতে অস্বীকার করেন। এরপর তাকে স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে মেডিকেল কলেজে যেতে বলা হয় । সেখানে কলেজের অফিসে চেকে টাকা দিতে বলা হয়। চিকিৎসককে টাকা জমার পরে তার ছেলেকে ভর্তি নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। চিকিৎসক সন্দেহ করে ছেলেকে এবং স্ত্রীকে নিয়ে শিলিগুড়িতে যান। সেখানে গিয়ে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিকে ফোন করেন পরের দিনই তাকে কলেজে যেতে বলা হয়। এসবের মধ্যে চিকিৎসক মেডিকেল কলেজে একটি ফোন নাম্বারে যোগাযোগ করেন। সেই নম্বরে কিশান্গঞ্জ মেডিকেল কলেজের ফোন করে তিনি জানতে পারেন সেখান থেকে কোন ভর্তির চিঠি দেওয়া হয়নি । একাউন্টে কোন টাকা জমা পড়েনি । প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেন । ফিরে এসে তিনি পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here