গোপন প্রেমের নথি নগদ ৫ লাখ টাকায় কিনতে চেয়েছিলাম শম্পা ?

0
1070

মনোজ সিংহ, বর্ধমানঃ- নিজের গোপন প্রেমের সমস্ত নথি নগদ ৫ লাখ টাকায় কিনে নিতে চেয়েছিলেন শম্পা ধারা আর তার ‘প্রেমিক’ ভালবাসার দস্তাবেজ বেচতে না চাওয়ায় সটান ঠিকাদার, গন্ডা সঙ্গে নিয়ে সেই প্রেমিকের বাড়িই চড়াও হয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধারা। আত্মঘাতী প্রেমিক পবিত্র ঘোষ ওরফে বাপ্পার পরিবারের অভিযোগ সেই রকমই।

“ও সরকারি গাড়ি নিয়েই আমাদের গ্রামে আসে। বাড়ি থেকে খানিক দূরে স্কুলের কাছে গাড়ি রাখে, প্রসাদ মেটে কে সঙ্গে নিয়ে আমাদের ঘরে আসে। বাড়ির সকলের সামনে আমার ভাইকে ধমকাতে থাকে। বলে পাঁচ লাখ টাকা দিচ্ছি আমাকে সব ডকুমেন্টস দিয়ে দাও। ভাই দিতে চায়নি। তখন হুমকি দেয়, আমার হাতে পুলিশ আছে, উকিল আছে, তোমার কোমরে দড়ি পরিয়ে জেলে ঢুকাবো।” কাঁদতে কাঁদতে গড়গড় করে বলে গেলেন পবিত্রর দিদি মহুয়া ঘোষ। তিনি আবার বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকের নারী ও শিশু কল্যাণ কর্মাধ্যক্ষ। এদিন বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তখন প্রসাদের দেহের ময়না তদন্ত হচ্ছে। সেখানে ততক্ষণে প্রসাদের গ্রাম থেকে এসে গেছেন তার ছেলেবেলার বন্ধুরাও। একই ক্লাবের সদস্য সুমন মল্লিক, শ্যামসুন্দর মল্লিকেরা জোরের সাথে দাবি করেন “শম্পা ধারার সাথে পবিত্রর প্রেম কম করে সাত আট বছরের। সেই হায়ার সেকেন্ডারি পড়ার সময় থেকে। তবে ২০১৭ তে শম্পা জেলা পরিষদের সভাধিপতি হবার পর থেকে খানিকটা এড়িয়ে চলছিলেন পবিত্রকে। দিনের মধ্যে দু চার বার ফোনে কথা বলতো। তবে ২০১৯ এর শেষের দিকে থেকে পবিত্রর ফোন প্রায় কেটে দিত শম্পা। তখন আমাদের ফোন থেকে কল করতো। কথা-কাটাকাটিও হোত” বললেন শ্যামসুন্দর।

পবিত্র র বাড়ি খণ্ডঘোষ থানার দুবরাজহাট গ্রামে আর শম্পার বাড়ি সেখানকারই শ্যামাডাঙ্গায়। সোমবার রাত ১১:৪০ নাগাদ বিষ খাই পবিত্র| তারপর ১১:৪৩ সুইসাইড নোট লেখে| তাতে তার প্রেমিকা শম্পা ছাড়াও এক ঠিকাদার অতনু গুপ্ত ও জয়দেব বসু নামে এক যুবকের উল্লেখ করে পবিত্র বলে, এদের হুমকির জেরেই সে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে| পবিত্র লেখে “মিষ্টি দিয়ে বিষ খেলাম|”

রাত্রেই তাকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয় আশঙ্কাজনক অবস্থায়| মঙ্গলবার সকালে সে মারা যায়| তার পরেই উত্তেজনা ছড়ায় খণ্ডঘোষ থানা এলাকার গ্রামগুলিতে| অন্তত ৩০০ মানুষ খন্ডঘোস থানায় জড়ো হয়|

শম্পা অবশ্য তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করতে চেয়ে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন “ওকে চিনতাম এর বেশি কিছু আমার জানা নেই”

মৃত যুবকের পরিবারের তরফে শম্পার দুটি মোবাইল সিজ করার দাবি উঠেছে| পুলিশ অবশ্য পবিত্র’র মোবাইল বাজেয়াপ্ত করেছে| মৃত্যুর আগে ডাইরিতে পবিত্র লিখে গেছে “শম্পার সাথে অতনু গুপ্তের রেকর্ডিং গুলো সব জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি দেবু টুডুর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিও| সব কুকীর্তি ফাঁস হয়ে যাবে| সব প্রমাণ আছে|”

২০১৯ এর ২৮ শে জুন অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ খেয়ে সংকটজনক অবস্থায় বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন শম্পা| পবিত্রর সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েনই, নাকি অন্য কোন অধরা রহস্য রয়েছে তার ভেতরে? ঘুরপাক খাচ্ছে সেই প্রশ্নও|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here