কয়লার যোগানে ঘাটতি, পরিণাম রাজ্য জুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, উদাসীন কেন্দ্র-রাজ্য

0
1220

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ গ্রীস্মের মরশুমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট রাজ্যে নতুন কথা নয়, প্রত্যেক বছরই রাজ্যে গ্রীষ্মের দুমাস লোডশেডিং এবং বিদ্যুতের ঘাটতি লেগেই থাকে। কিন্তু সম্প্রতি অর্থাৎ এবছরের গ্রীষ্মের মরশুমে বিদ্যুৎ বিভ্রাট রাজ্য তথা শিল্প শহরের এক চূড়ান্ত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ হিসেবে ডিভিসি বা ডিপিএল কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল কয়লার যোগান কয়লার যোগান এবং জলের সমস্যাকে প্রধান দায়ী করলেও এছাড়াও বেশ কিছু কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এই মুহূর্তে চরম সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা। সমস্যার প্রথম তালিকায় রয়েছে দিনের পর দিন বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং দুর্গাপুর তথা রাজ্যের বিভিন্ন শিল্প তালুকের একাধিক কারখানার কয়েক কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার কারণ কেউ বিদ্যুৎ ঘাটতির অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। ডিভিসি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ বর্তমান রাজ্যে বিভিন্ন শিল্পশহরগুলির প্রায় ৮০% কারখানাতেই বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়ে রয়েছে। যার মূল্য প্রায় কয়েকশো কোটি টাকার কাছাকাছি। এরকম পরিস্থিতিতে বিশাল পরিমাণ এই বকেয়া টাকা উদ্ধার করতে না পারায় বাইরে থেকে কয়লার যোগান যেমন কমছে তেমনি স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে ডিপিএল কর্তৃপক্ষের বাঁকুড়া জেলায় যে একাধিক কয়লা খাদান রয়েছে সেই কয়লা খাদান থেকেই বা কেন কয়লা উত্তোলন করে কাঁচামালের যোগান এর ঘাটতি পূরণ করছে না ডিপিএল কর্তৃপক্ষ? এ প্রশ্নের উত্তরে জানা গেছে বাঁকুড়ার বড়জোড়া দুর্লভপুর রাস্তার ধারে ডিপিএলের খোলামুখ খনি রয়েছে সেখান থেকেও বর্তমানে কয়লা উত্তোলনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসীর বিক্ষোভে। কারণ এলাকাবাসীর অভিযোগ ওই খোলামুখ খনি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে রয়েছে জনবসতিপূর্ণ গ্রাম। ফলে সেখানে ডিপিএল কর্তৃপক্ষ কয়লা উত্তোলন করতে গেলে মাটির নিচে বিস্ফোরণের ফলে স্থানীয় ঘরবাড়ি গুলিতে ফাটল দেখা দিচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ঘরে খনিতে বিস্ফোরণে ফাটল দেখা দেওয়ায় ওই খনির কয়লা উত্তোলন বন্ধ করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। তাদের দাবি ডিপিএল কর্তৃপক্ষ আগে তাদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন দিক তারপরেই কয়লা উত্তোলন শুরু করুক। একই অবস্থা বাঁকুড়ার এলাকার চুনপড়া খোলামুখ খনিরও। সেখানকার কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের ফলে কয়লা খনির পার্শ্ববর্তী তাদের চাষযোগ্য জমি যেমন দূষিত হয়ে পড়েছে তেমনি খনি থেকে নিয়মিত মাটি উত্তোলনের ফলে তাদের কয়েক একর জমি ইতিমধ্যেই ভরাট হয়ে গেছে। ফলে ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়েছেন তারা। চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে তাদের আর্থিক ক্ষেত্রেও। তাই স্থানীয় কৃষকদের দাবি, আগে ডিপিএল কতৃপক্ষ ন্যায্যমূল্যে সাধারণ কৃষকদের কাছ থেকে সেই সমস্ত জমি কিনে নিক, তারপরেই সেখানে কয়লা উত্তোলন শুরু করা হোক। আর কৃষকদের এহেন বিক্ষোভের মুখে পড়েই ডিপিএলের ওই কয়লা খনি থেকেও কয়লা উত্তোলন বর্তমানে বিশবাঁও জলে। স্বাভাবিক কারণেই একদিকে আর্থিক ঘাটতি, অন্যদিকে দিনের পর দিন কয়লার যোগান কমতে থাকায় ডিপিএলের বিদ্যুৎ উৎপাদন গত কয়েক বছরে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে কমে গেছে। যার প্রভাব শিল্প শহরে লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাট। অন্যদিকে, একই অবস্থা ডিভিসির জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও। গত বছর বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত একদমই কম হওয়ায় গ্রীষ্মের শুরু থেকেই দামোদর প্রায় জলশূন্য। দুর্গাপুর ব্যারেজ, মাইথন, পাঞ্চেত সহ বিভিন্ন জলাধারে জল প্রায় নেই বললেই চলে। যার ফল ডিভিসির বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি। একদিকে খনি এলাকা গুলির পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের পুনর্বাসনের দাবি একদিকে শিল্প তালুকের বেশিরভাগ কারখানা গুলির কোটি কোটি টাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিল এবং সর্বোপরি বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম কাঁচামাল জল এবং কয়লা যোগান এর অভাব ডিভিসি এবং ডিপিএল-এর সমস্যা বাড়িয়েছে কয়েক গুণ। এহেন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক করতে রাজ্য বা কেন্দ্রের তরফে এখনো কোনো বিকল্প রাস্তা খুঁজে বের করার কোন উদ্যোগ দেখতে পাওয়া যায়নি। তাই শিল্প শহরের এহেন বিদ্যুৎ বিভ্রাট আর কতদিন চলবে বা আদৌ এই সমস্যার কোন স্থায়ী সমাধান হবে কিনা তা আপাতত জানা নেই কোন পক্ষেরই।