করোনার পর গালওয়ানে ভারত-চীন দ্বৈরথে ফের বিপাকে খোট্টাডিহির বহু কোটি’র খনন যন্ত্র

0
641

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- ফ্রেব্রুয়ারির গোড়ায় করোনা ভাইরাস চীনের বন্দরেই আটকে দিয়েছিল যন্ত্রাংশ আমদানি, এবার গালওয়ান উপত্যকায় ভারত-চীন যুদ্ধ-পরিস্থিতি রুখে দিল ওই যন্ত্রাংশ জোড়ার কাজে বরাত পাওয়া চীনা বিশেষজ্ঞদের দুর্গাপুরে আসা। তাই, লাট-লাট বাক্স-বন্দী কোটি কোটি টাকার কয়লা কাটার মেশিন এখন হাওয়া-বদলের অপেক্ষায় হাওয়া খাচ্ছে এখানকার খোট্টাডিহি খনিতে।
কয়লা কাটায় গতি আনতে ২০১৮-১৯ অর্থবর্ষে খোট্টাডিহি কয়লা খনিতে কন্টিন্যুয়াস মাইনার বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় রাষ্ট্রায়ত্ব ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড। বলা হয়, ২০১৯-র অগস্টে বার্ষিক ৬ লক্ষ টন কয়লা উত্তোলনের ক্ষমতা সম্পন্ন ওই মেশিন বসে যাবে খোট্টাডিহিতে। সেই মোতাবেক, উখড়ার কোল মাইনস অ্যাসোসিয়েট ট্রেডারস সংস্থাকে চীনা সংস্থার কাছ থেকে ১২৭ কোটি টাকার ওই মেশিন কেনার বরাত দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ২০১৯-র জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মেশিন ইসিএলের খনিতে পৌঁছে যাবে বলে ঠিক হয়। কিন্তু, ততোদিনে চীনে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ায় চীনের তাইয়ান শহর থেকে মেশিন বোঝাই জাহাজ ছাড়া স্থগিত হয়ে যায়। এ দেশে লকডাউন ঘোষনার পরদিন, মার্চের শেষ সপ্তাহে মেশিন নামে হলদিয়া বন্দরে। কিন্তু, লকডাউনের জেরে, আন্তর্জাতিক উড়ান বন্ধ থাকায় মেশিন সংযুক্তির কাজে তাইয়ান থেকে দুর্গাপুরে পৌঁছতে পারেন নি চীনা খনি বিশেষজ্ঞরা।


“এখন আবার ভারত-চীন সমস্যায় ওদের আসা আরো অনিশ্চিৎ হয়ে পড়েছে। তাই চিন্তায় আমরাও”, বললেন সন্দীপ দে। তিনি চীনের সরকারি সংস্থা ‘স্যাংক্সি তিয়ান্ডি কোল মাইনিং মেশিনারি কোম্পানী’ থেকে ওই মেশিন আমদানির বরাত পাওয়া সংস্থার কর্ণধার। তিনি বলেন, “মেশিন গুলো এসে পড়েই আছে। তাই, এখন আমরা দেশীয় বিশেষজ্ঞদের খোঁজ করছি, যারা ওই সব মেশিন সংযুক্তির বিষয়ে দক্ষ। আমাদের ১৮ জন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার দরকার”।
এ দিকে, গালওয়ানে ভারত-চীন দ্বৈরথে নতুন করে কপালে ভাঁজ পড়েছে ইসিএলের খনি কর্তাদের। ইসিএলের পান্ডবেশ্বর এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজার অমিত ধর বলেন, “আশা করছি, অগস্টের শেষে, সবকিছু ঠিক থাকলে এখানে এসে যাবেন চীনা বিশেষজ্ঞরা। তবে, সবটাই নির্ভর কড়ছে পরিস্থিতির ওপর”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here