ড্রাগ নেশাখোর ছেলের কুকীর্তির তদন্ত শুরু, মৃত মায়ের সমস্ত সরকারি টাকা হাতানোর অভিযোগ

0
555

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- সারাদেশ আজ গৃহবন্দি। করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের মনে আজ ভীতির সঞ্চার করেছে। মানুষ তাদের প্রিয়জনদের কে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। পরিবারের সকল সদস্যের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে পরিবারের বয়স্করা। কিন্তু সেই পারিবারিক বন্ধনে ও এখনো রয়ে গিয়েছে অনেক ফাঁক-ফোকর।

মৃত মায়ের সমস্ত সরকারি টাকা অনৈতিক পথে হাতানোর অভিযোগ নেশাখোর গুণধর ছেলের বিরুদ্ধে। জানা গেছে দুর্গাপুরের ইস্পাত নগরী এর স্থায়ী বাসিন্দা এক ব্যক্তি তার সমস্ত অর্জিত অর্থ থেকে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের সেপকোতে একটি বাড়ি নির্মাণ করেন। ছোট্ট সংসারে স্বামী স্ত্রী আর ছেলে। স্বামী ইস্পাত কারখানায় কর্মরত ছিলেন ও স্ত্রী ছিলেন হাসপাতালের স্টাফ নার্স। অগাধ প্রাচুর্যের মধ্যে মানুষ হওয়া সেই ছেলে মা বাবার অজান্তেই কখন ড্রাগসের মরণনেশায় লিপ্ত হয়ে পড়ল সকলের অজান্তে। ধীরে ধীরে সমস্ত সম্পত্তি মা বাবাকে ভয় দেখিয়ে লুট করতে শুরু করে ছেলে। যদিও মা বাবা সন্তানের জন্যই ওই অর্জিত অর্থ রেখেছিলেন তাই তারাও সেরকম ভাবে বিরোধ করেননি। দিন যেতে যেতে একদিন তাদের ওই নেশাখোর গুণধর ছেলের বাবা প্রয়াত হয়। মা একা, সেই মায়ের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে নেশাখোর গুণধর ছেলে দৈনন্দিন অত্যাচার চালাতে শুরু করে মায়ের উপর। অত্যাচার এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে অসুস্থ হয়ে পড়েন মা। হাঁটাচলার শক্তিও হারিয়ে ফেলেন তিনি। গুণধর সেই নেশাখোর ছেলে তার মাকে সিটি সেন্টারের সেপকোর ওই বাড়িতে বন্দি করে রাখেন ও তার সমস্ত সোনাদানা ও ক্যাশ টাকা লুট করে নেন। গৃহবন্দী থাকতে থাকতে বহুদিন পর তার মা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। মৃত্যুর প্রায় দু-তিন দিন পর যখন বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু হয় তখন আশেপাশের পড়শীরা খবর দেন পুলিশকে। পুলিশ দরজা ভেঙে উদ্ধার করেন বৃদ্ধার দেহ। নেশাখোর ওই গুণধর ছেলের কোন ভ্রুক্ষেপই নেই তার মায়ের মৃত্যুতে। সবসময়ই নেশায় বুদ হয়ে রইল সে। যখন তার মায়ের কাছ থেকে পাওয়া টাকার আর কোনো রাস্তা রইল না তখন সে সিটি সেন্টারে অবস্থিত তার সেপকোর ওই বাড়িটি অনৈতিকভাবে বিক্রি করে দেন এক ব্যক্তিকে ৩৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে। সেই টাকা নিয়ে চলে আরো বেশ কয়েক মাস নেশাখোর গুণধর ছেলের আনন্দ ফুর্তি। একদিন সেই টাকাও শেষ হয়ে যায়। তখন তার মনে পড়ে তার মা একজন সরকারি কর্মী ছিলেন এবং সরকারের ঘরে তার মায়ের পি এফ ও গ্র্যাচুইটির বহু টাকা পাওনা রয়েছে। তখন সেই নেশাখোর গুণধর ছেলে দুর্গাপুরের সি-জোন এলাকার এক দালাল মারফত অনৈতিক রাস্তায় কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ ওই সংস্থা থেকে টাকা বার করার পদ্ধতি শুরু করেন। জানা গেছে দুর্গাপুরের সি-জোন এলাকার ওই দালাল মোট ৫ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ ওই সংস্থা থেকে কিছু অফিসারের যোগসাজসে বেশকিছু টাকা নেশাখোর গুণধর ছেলের একাউন্টে দিয়ে দেন। নেশাখোর গুণধর সেই ছেলে কয়েকবছর সেই টাকা নিয়ে করল আনন্দ ফুর্তি। হঠাৎ তার রানাঘাটে এক দম্পতির সাথে পরিচিত হয়। ওই দম্পতির সংসার ভেঙ্গে রাতারাতি তার স্ত্রী পুত্র কে নিয়ে পালিয়ে আসে দুর্গাপুরে। থাকতে শুরু করে বেনাচিটির নিবেদিতা প্লেসের একটি ভাড়া বাড়িতে। কোনরকম বৈবাহিক সম্পর্ক ছাড়াই দুজনে একসাথেই ঘর সংসার করছেন নিশ্চিন্তে, চলছে রোজ নেশার আখড়া বাড়িতেই। এবার এতকিছুর পর কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ ওই সংস্থার বেশকিছু বড়কর্তাদের নজরে আসে যে তাদের সংস্থা থেকে যে টাকা বের হয়েছে তা অনৈতিক পথে হস্তান্তর হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ভিজিলেন্স দপ্তরকে জানানো হয় ব্যাপারটি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা গেছে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ ওই সংস্থার ভিজিলেন্স দপ্তর ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছেন। এই খবর দালাল মারফত পৌঁছে যায় নেশাখোর গুণধর ছেলের কাছেও। গা ঢাকা দেয় সেও। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ ওই সংস্থার তরফ থেকে একটি সূত্র মারফত জানা গেছে অবিলম্বে তারা এই বিষয়ে পুলিশি তদন্তের জন্য দাবি জানাবেন এবং গ্রেপ্তার করার অনুরোধ করবেন প্রশাসনকে ওই নেশাখোর ছেলেকে।

ওই তদন্তের বিস্তারিত তথ্য নাম, ছবিসহ অভিযুক্ত নেশাখোর গুণধর ছেলে, ও অভিযুক্ত সমস্ত কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ ওই সংস্থার অফিসারগণ ও সি-জোন এলাকার সেই দালালের ছবি সহ বিস্তারিত তথ্য আমরা আমাদের পরবর্তী সংবাদে তুলে ধরব আপনাদের জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here