ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসগরের স্মৃতি বিজড়িত চট্টোপাধ্যায়দের বাড়ির ২০০ বছরের দুর্গাপুজো

0
681

সঞ্জীব মল্লিক , বাঁকুড়া :

আকাশে নীল সাদা মেঘ পেঁজা তুলোর মতো ভেসে বেড়াচ্ছে , শরতের কাশফুল আর শিশির ভেজা শিউলী ফুল জানান দিচ্ছে মা আসছে । আর সেই মত মায়ের আগমণী বার্তা নিয়ে ২০০ বছর ধরে দুর্গাপুজো করে আসছেন বাঁকুড়ার সোনামুখী থানার ডিহিপারা পঞ্চায়েতের পলাশডাঙ্গা গ্রামের চট্টোপাধ্যায় বনেদি বাড়িতে । তবে এই বনেদি বাড়ির পুজো বিশালাক্ষী পুজো নামেই পরিচিত । এই বাড়ির মালিক দুর্গাদাস চট্টোপাধ্যায় তিনিই প্রথম এই দুর্গাপুজা শুরু করেছিলেন । দুর্গাদাস চট্টোপাধ্যায়ের নাতনি সুমনা দেবি আবার তার নাতি আদিনাথ চট্টোপাধ্যায় , প্রীয়নাথ চট্টোপাধ্যায় ও দেবনাথ চট্টোপাধ্যায় নামে তিন ভাই বর্তমানে এই পুজো করে আসছেন ।

চট্টোপাধ্যায় পরিবার সুত্রে জানা যায় , দুর্গাদাস চট্টোপাধ্যায়ের সাথে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসগরের বন্ধ্যত্ব ছিল । আর সেই সুত্রে নাকি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এই বাড়িতে চারদিন ছিলেন এবং ১৮৫৬ সালের ৭ ই ডিসেম্বর নিজের পুত্রের সাথে এই বাড়ির আশ্রিতা কালিমতি দেবির প্রথম বিধবা বিবাহ দিয়েছিলেন ।

তবে ইতিহাস বলে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রাজকৃষ্ণ বন্ধ্যোপাধ্যায় এর বাড়িতে নিজের উপস্থিতিতে প্রথম বিবাহ দিয়েছিলেন । ইতিহাস থেকে জানা যায় ১৮৫৬ সালে বিধবা বিবাহ আইন সিদ্ধ হওয়ার পর তিনি বিভিন্ন জেলায় গিয়ে নিজের উদ্যোগে বহু ” বিধবা বিবাহ ” দিয়েছিলেন । হয়ত সেই সময় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর পলাশডাঙ্গার এই দুর্গাদাস চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে এসে বিধবাবিবাহ দিয়েছিলেন ।

তবে দুর্গাদাস চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে প্রথম বিধবাবিবাহ নাকি রাজকৃষ্ণ বন্ধ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে প্রথম বিধবাবিবাহ দিয়েছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তানিয়ে বিতর্ক রয়েই গেল ।

বর্তমান এই বাড়ির সদস্য দেবনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন , আমাদের বাড়ির এই পুজো ২০০ বছর ধরে চলে আসছে । কোন পরিস্থিতিতে আমরা এই পুজো বন্ধ করিনি । এছাড়াও গ্রামবাসীদের সহযোগীতায় স্বয়ং ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নিজের পুত্রের সঙ্গে এইবারির আশ্রিতা কালী দেবীর ১৮৫৬ সালে প্রথম বিধবা বিবাহ দিয়েছিলেন । এই মুহূর্তে তারা সরকারের কাছে বিশেষ অনুরোধ রাখেন সরকার তাদের এই বাড়িটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করে সংস্কারের উদ্যোগ নিলে খুবই ভালো হয় । বাড়ির পুত্রবধূ মল্লিকা চ্যাটার্জী বলেন আমাদের বাড়িতে মহালয়ার দিন থেকেই পূজোর ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায় গ্রামের সকল মানুষই আমাদের এই পুজোতে অংশগ্রহণ করে । পুজোর বিশেষত্ব হলো , সপ্তমীর দিন দোলা আসে নদী থেকে মাকে স্নান করিয়ে নিয়ে । এছাড়াও প্রতিবছরই একশো আটটি পিতলের প্রদীপ জ্বালানো হয় , জালানো হয় একশ আটটি মাটির প্রদীপ জালানো হয় । এবং অষ্টমীর দিন কুমারী পূজার প্রচলন রয়েছে আমাদের বাড়িতে । আর প্রতি বছরই আমরা সেই রীতিনীতি মেনেই পুজো করি ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here