দুর্গাপুর ব্যারেজের সুইচ গেট মেরামতির জন্য ২৩শে মে থেকে ৩রা জুন বন্ধ থাকবে রাত্রে যান চলাচল

0
1893

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- সারা দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। করোণা ভাইরাসের দাপটে ইতিমধ্যেই মানুষজন আতঙ্কিত, খুব জরুরী কাজ ছাড়া বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না কেউ। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ২২শে মে থেকে বেশ কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করে দেওয়া হয়েছে। তাই নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা কাজগুলো দ্রুত শেষ করার জন্য এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন সংস্থা। কারণ আর কয়েক দিনের ভেতরে বর্ষা প্রবেশ করবে রাজ্যে। যে সকল নদী বাঁধ ও ব্রিজ গুলি আছে সেগুলি অবিলম্বে দ্রুততার সাথে মেরামতির কাজ করে নিতে হবে রাজ্য সরকারকে। সেই উদ্দেশ্যকে মাথায় রেখে বর্ষাকালের আগেই দুর্গাপুর ব্যারেজের সুইচ গেট মেরামতের কাজ শুরু করে দেওয়া হয়েছিল গত বছরই। কিন্তু বেশ কিছু কাজ এখনো রয়ে গিয়েছে বাকি। তাই দুর্গাপুর ব্যারেজের সুইচ গেট মেরামতির জন্য আগামী ২৩শে মে থেকে ৩রা জুন পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ১১ টা থেকে ভোর ৪ টে পর্যন্ত যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন। জানা গেছে শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্স, দমকল ও অত্যাবশ্যক সামগ্রী নিয়ে চলাচল করা গাড়িকেই শুধুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে। কিন্তু ভোর ৪ টে থেকে রাত্রি ১১ টা পর্যন্ত সমস্ত রকম যানবাহনে যাতায়াত করতে পারব।

দুর্গাপুর ব্যারেজের সেতুর ক্ষতি আটকাতে ইতিমধ্যেই ব্রিজের উপর গাড়ির গতিবেগ ১০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা করা হয়েছে। দুর্গাপুর পুলিশ প্রশাসন ও বাঁকুড়া পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে যাতে আগামী ২৩ শে মে থেকে সমস্ত রকম যানবাহনের ওপর নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বাঁকুড়া জেলাশাসক অরুন প্রসাদ বলেন “দামোদর ব্যারেজের সুইচ গেট এর মেরামতির কাজের জন্য আগামী ২৩ শে মে রাত বারোটা থেকে আগামী ৩ রা জুন ভোর ৪ টে পর্যন্ত প্রতিদিনই রাত্রি ১১ টা থেকে ভোর ৪ টে পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভোর ৪ টে থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত সমস্ত রকম যানবাহন চলবে ব্যারেজের ওপর দিয়ে। মেরামতির জন্য সকাল দিকে যান চলাচলে কোন বিঘ্ন ঘটবে না।” তিনি জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই তিনি বাঁকুড়া জেলার সমস্ত বেসরকারি পরিবহন সংস্থার সাথে কথা বলে রেখেছেন যাতে দুর্গাপুর-বাঁকুড়া বাস পরিষেবা অবিলম্বে চালু হয়ে যায়। নিঃসন্দে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য কাজের খতিয়ান এই করোনা কালে পাওয়া গেল। বাঁকুড়া জেলার মানুষ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় বাঁকুড়া জেলা লকডাউন পিরিয়ডের প্রথম দিন থেকেই গ্রীন জোন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল।

উল্লেখ্য এর আগেও তিন দফায় দুর্গাপুর ব্যারেজের সুইচ গেট গুলি নির্মাণকাজ চলেছিল। প্রথম পর্যায় সেপ্টেম্বর ২০১৯ এর ৯ তারিখ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত, দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪ ঠা অক্টোবর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত ও তৃতীয় দফায় এবার ২৩ শে মে থেকে ৩ রা জুন অবধি সংস্কারের কাজ করা হবে। দুর্গাপুর ব্যারেজ নির্মাণ হয় ১৯৫৫ সালে। মূলত তখন বর্ষাকালে দামোদরের জল যথে বন্যা না ডেকে আনে তাই অবিভক্ত বর্ধমান, হুগলি, বাঁকুড়া জেলাকে বাচাতে এই ব্যারেজ নির্মাণ করা হয়েছিল কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে। কৃষিকাজে জলের চাহিদা এবং পানীয় জলের স্রোত হিসেবে দুর্গাপুর, আসানসোল ও বাঁকুড়া শহরকে এই দামোদরের জলের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। দুর্গাপুর ব্যারেজ শুধুমাত্র জল ও বন্যা রোদের জন্যই নয় এখানকার বেশ কয়েকটি জেলার কল কারখানাতে যে সমস্ত জল লাগে তার চাহিদা মেটায় এই দুর্গাপুর ব্যারেজ। অন্যদিক দুর্গাপুর ব্যারেজ সেতুটি বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মেদিনীপুর ও আসানসোলের সাথে মেলবন্ধন ঘটায়। দীর্ঘদিন হয়ে যাওয়ায় এই সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে তাই জেলা প্রশাসন থেকে এই সেতুর মেরামত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল অনেক আগেই। ধাপে ধাপে কাজ এগিয়েও গেছে অনেকটা। বাকি ও আছে বেশ কিছুটা। বর্ষাকাল আসার আগেই তাই দ্রুততার সাথে এই সুইচগেট মেরামতির কাজে হাত লাগিয়ে দিলেন জেলা বাঁকুড়ার প্রশাসন। বাঁকুড়ার জেলাশাসক অরুন প্রসাদ জানিয়েছেন ব্রিজ মেরামতির জন্য সকাল দিকে যান চলাচলে কোন বিঘ্ন ঘটবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here