দুর্গাপুরের ফুচকা বিক্রেতা খুনের প্রতিবাদে বাম-রাম দু’পক্ষের বিক্ষোভ অভিযান

0
654

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুরের ফুচকা বিক্রেতা তথা বিজেপি বুথ সভাপতির বাবাকে খুনের ঘটনায় একই দিনে বিজেপি ও সিপিএম বিক্ষোভে সরব হল। ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলর শিপুল সাহা সহ তার অনুগামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সোমবার এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করে বিজেপি। পাশাপাশি খুনের ঘটনায় বিচার চেয়ে, তৃণমূল কাউন্সিলরের গ্রেফতারের দাবিতে ও শহরের আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দাবি তুলে এদিন সিপিএম-ও একটি মিছিল করে। দু’পক্ষের তরফেই মহকুমা শাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।

এদিন বিজেপি সিটিসেন্টার থেকে মিছিল করে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙ্গে মহকুমার শাসকের অফিসের সামনে বসে পড়ে ও বিক্ষোভ দেখায়। পরে একটি প্রতিনিধিদল মহকুমা শাসকের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি দেয়। এই বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন দুর্গাপুরের পশ্চিম কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই, আসানসোল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দিলীপ দে, দুর্গাপুর নগর নিগমের কাউন্সিলর চন্দ্র শেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন শতাধিক বিজেপি কর্মী সমর্থক।

অন্যদিকে সিপিএমের পক্ষ থেকে সিটিসেন্টার চত্বরে মিছিল করে মহকুমাশাসকের দপ্তরে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এদিনের কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন পশ্চিম বর্ধমান জেলার সিপিএমের সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য পঙ্কজ রায় সরকার।

উল্লেখ্য, গত সোমবার দুর্গাপুর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রমিক নগর এলাকায় ফুচকা বিক্রেতা রামপ্রসাদ সরকারের (৫০) সাথে একজন বৃদ্ধ প্রতিবেশীর বচসা হয়। সেই বচসার জেড়ে বৃদ্ধ’র ছেলে ও তার দলবল রামপ্রসাদ সরকারকে ব্যাপক মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর জখম অবস্থায় রামপ্রসাদবাবুকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার ভোররাতে তার মৃত্যু হয়। ঘটনায় মৃতের পরিবার কোকওভেন থানা খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযুক্ত তিনজন যুবককে গ্রেপ্তার করে।
এর পরেই তার মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হয় রাজনীতি। বিজেপি ও সিপিএম অভিযোগ তোলে তৃণমূলের কাউন্সিলারের মদতে খুন হয়েছে রামপ্রসাদবাবু।

ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করলেও বাকিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ বিজেপির। তাই এই খুনের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে জন্য সিবিআই তদন্তের দাবিতে মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে চলেছে বিজেপি নেতৃত্ব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here