দুর্গাপুরে নৃশংসতার নজির, রাস্তার কুকুরকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা

0
2910

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ যত দিন যাচ্ছে তত মানসিকভাবে নৃশংসতার নতুন নতুন নজির গড়ছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে পরিচিত আমরা অর্থাৎ মনুষ্য সমাজ। “মান” আর “হুঁশ” এই দুই শব্দের মিলনেই আজ আমরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম জীবের তকমা পেয়েছি। কিন্তু আদপে তা কতটা সত্য? কারণ বর্তমান এই সমাজে প্রত্যেক দিন এই মনুষ্য সমাজ থেকেই যে ধরণের ঘৃণ্য, নৃশংস, পৈশাচিক ঘটনা আমাদের কাছেই উঠে আসছে, তাতে বোধহয় ধীরে ধীরে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীবের তকমা আমরা হারাতে চলেছি। নিজেদের মানসিক পরিতৃপ্তি মেটাতে গিয়ে আমরা দিনের পর দিন যে নৃশংস কাজ করে চলেছি তার আরও এক জ্বলন্ত উদাহরণ ধরা পড়ল আমাদের প্রিয় দুর্গাপুর শহরেই। যেখানে রাস্তার এক কুকুরের গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে তার গায়ে আগুন লাগিয়ে তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ উঠল দ্বাদশ শ্রেণির এক পড়ুয়া ও তার অভিভাবকের বিরুদ্ধে। নৃশংসতা ও অমানবিকতার চরম নিদর্শন দুর্গাপুরের সি-জোন এলাকার ৩৮, রাজেন্দ্রপ্রসাদ রোড এলাকার। জানা গেছে দুর্গাপুরের হেমশিলা স্কুলের দ্বাদশ শ্রেনির পড়ুয়া তুহিন মল্লিক ও তার বাবা দুলাল মল্লিক কয়েক দিন আগে তাদের বাড়ির সামনেই একটি রাস্তার কুকুরের গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করে। অল্পের জন্য কুকুরটি প্রাণে বাঁচলেও আগুনে তার মুখের প্রায় বেশিরভাগ অংশই পুড়ে গেছে। ঘটনার পর স্থানীয় এক পশুপ্রেমী কুকুরটিকে তার হেফাজতে নিয়ে বর্তমানে চিকিৎসা করলেও গুরুতর দগ্ধ কুকুরটি বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। বুধবার সেই আহত কুকুরটি এবং অভিযুক্ত ওই ছাত্র ও তার বাবার ছবি ফেসবুকে পোষ্ট হতেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। আর এই ছবি ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্কের ঝড় বয়ে গেছে দুর্গাপুর জুড়ে। অনেকেই অভিযুক্ত ওই দুজনের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তির দাবিও জানিয়েছেন। পৈশাচিক এই ঘটনা দেখে শিউরে উঠেছে শিল্পশহর দুর্গাপুর। শহরবাসীর বক্তব্য, দুর্গাপুরের হেমশিলা স্কুলের মতো নামী ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ার মধ্যে এইধরনের নৃশংস মনোবৃত্তি কী করে জাগতে পারে? অনেকেই সরাসরি স্কুল ও অভিযুক্ত ওই পরিবারের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলে জানিয়েছেন, একটা সময় এই হেমশিলা স্কুলের সমগ্র ক্যাম্পাস মাত্র ১ টাকায় ডিএসপির কাছ থেকে অনুদান হিসেবে পেয়ে বর্তমানে তা বিশাল স্কুলে পরিণত করা হয়েছে। বর্তমানে দুর্গাপুরের এই নামী স্কুলে নার্সারিতে কোনও পড়ুয়াকে ভর্তি করাতে গেলেও মোটা টাকা ফি বাবদ নেওয়া হয়। কিন্তু কোনও নামী ইংরেজী মাধ্যম স্কুলে পড়েলেই যে পড়ুয়াদের মানসিকতাই বদল আসে না, তার জন্য দরকার পড়ে মানবিকতার সহজ পাঠ পড়া, তা এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেল। এক স্কুল পড়ুয়ার অভিভাবক হিসেবেই বা ছেলের এই ধরণের অমানবিক ও নৃশংস কর্মকান্ড সামনে দাঁড়িয়ে থেকে উপভোগ করলেন তাও ভেবে পাচ্ছেন না গোটা দুর্গাপুর থেকে শুরু করে পশুপ্রেমীরা। ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত পড়ুয়া তুহিন মল্লিক ও তার বাবা দুলাল মল্লিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে এক পশুপ্রেমী সংস্থা। যদিও ইতিমধ্যেই অভিযোগ তোলার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কারা দিচ্ছে এই চাপ? কেনই বা দেওয়া হচ্ছে এই চাপ? তারা কী আদৌ মানুষ? সেইসব প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে শিল্পশহর। দেখা যাক পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সময় তার জবাব দেবে।