বছরভর অনুষ্ঠানের ঠেলায় বন্ধ হতে বসেছে চতুরঙ্গ ময়দানের ফুটবল প্রশিক্ষণ শিবির

0
247

নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ– মান্না দের বিখ্যাত গানের কলি ‘সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল’ । বাঙালির ফুটবল প্রেমের কথা তুলে ধরে আজও স্মরণীয় ও অন্যত জনপ্রিয় বাংলা ছায়াছবির এই গান। বাঙালির স্মরণে মননে ফুটবল প্রীতির কথা কারো অজানা নয়। ১৯১১ সালে ব্রিটিশদের পরাস্ত করে মোহনবাগানের ঐতিহাসিক শিল্ড জয়,আজও বাঙালিকে নস্টালজিক করে তোলে। এর পর একে একে মহামেডান স্পোর্টিং ও ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের উত্থান ও বাঙালির সংস্কৃতি ও আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে যায় ফুটবল। স্বাধীন ভারতে প্রথম থেকেই ঘরোয়া ফুটবল বাঙালির জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু বর্তমানে ফুটবল নিয়ে জার্সি-টুপি -কপালবন্ধনী -রঙিন মুখ আর সোশ্যাল মিডিয়ায় তর্ক-বিতর্ক কোনও ক্ষেত্রেই বাঙালি খুব একটা পিছিয়ে না থাকলেও বাঙালির ফুটবল সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় কোথাও যেন একটা ছেদ পড়েছে।

বাংলায় আজও ফুটবল আছে, এ টি কে  মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান সহ বিভিন্ন ক্লাব আছে, কিন্তু বাংলার ফুটবলাররা সেই দলগুলোতে প্রায় নেই। কারণ পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারের জাঁতাকলে ফুটবল বাঙালির নতুন প্রজন্মের জীবন থেকে হারিয়ে গেছে। আবার অনেকের ফুটবলে আগ্রহ থাকলেও ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার দাপটে বর্তমানে ফুটবল কোচিং সেন্টারের খোঁজ মেলা ভার। তবুও কিছু ফুটবল পাগল মানুষজনের উদ্যোগে এখনও কোথাও কোথাও চলেছে কিছু ফুটবল কোচিং সেন্টার। তারই মধ্যে অন্যতম দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্র সিটিসেন্টারের চতুরঙ্গ ময়দানে নন কোম্পানি রিক্রিয়েশন ক্লাব পরিচালিত শিশু কিশোরদের ফুটবল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি। গত তিন  চার ধরে চলছিল ফুটবল কোচিংটি। কিন্তু চতুরঙ্গ ময়দানে সারা বছর ধরে বিনোদনমূলক সহ নানান অনুষ্ঠান ঠেলায় সেটিও বন্ধ হওয়ার মুখে। বর্তমানে এই প্রশিক্ষণ শিবির চলছে সিটি সেন্টারের বিদ্যাসাগর স্কুল ময়দান ও সিটি সেন্টার সংলগ্ন কলাবাগান বস্তির ময়দানে।

এই প্রশিক্ষণ শিবিরটি বাঁচিয়ে রাখতে এগিয়ে এসেছে শাকম্বরী গ্রুপ। এদিন এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে কলাবাগান বস্তি সংলগ্ন ময়দানে নন কোম্পানি রিক্রিয়েশন ক্লাব পরিচালিত ফুটবল প্রশিক্ষন কেন্দ্রের শিশু ও কিশোর ফুটবলারদের হাতে ফুটবল ও ফুটবল খেলার নানান সরঞ্জাম তুলে দেন শাকম্বরী গ্রুপের এইচ আর ডি গ্রুপের প্রধান মৃত্যুঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় ও রণজয় খাসনবিশ। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের সহায়তারও আশ্বাস দেন তাঁরা।

প্রসঙ্গত বাঙালির এই ফুটবল সংস্কৃতিতে জড়িয়ে রয়েছে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের নাম। দুর্গাপুর একদিন অনেক ফুটবলার বাংলাকে উপহার দিয়েছে। দুর্গাপুরে ছিল সেল মোহনবাগান ফুটবল অ্যাকাডেমি। ছিল আরও কত ফুটবল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। দুর্গাপুর থেকে মোহনবাগানে খেলেছিলেন সুব্রত সিনহা । এরপর আরও কিছু কিশোর,তরুণ ফুটবলার উঠে এসেছিল সেল মোহনবাগান অ্যাকাডেমি থেকে। বর্তমানে দুর্গাপুর থেকে সম্ভবত বিবেক সিং নামে এক তরুণ কলকাতার প্রথম শ্রেণির ক্লাব ইস্টবেঙ্গলে খেলছে। বেশ ওইটুকুই।

দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের ফুটবলের এই করুণ অবস্থা দূর করতে হলে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি এগিয়ে আসতে হবে বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনগুলিকেও। এমনটাই মনে করছেন শহরের ফুটবল প্রেমী মানুষজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here