দুর্গাপুর গাছপ্রেমী সংগঠনের মিলন সভা

0
258

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী, দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুর মানেই নিছক শিল্পতালুক নয়। একটা সময় গাছগাছালিতে ভর্তি ছিল। চারদিকে সবুজে ভরপুর। দেখলে মনে হতো একটা সবুজ কার্পেট যেন বিছানো আছে। বর্তমানে নগরায়ন, শিল্পায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শহর যত বেড়েছে তত ধ্বংস হয়েছে বনাঞ্চল। দারুণ ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রকৃতি তথা পরিবেশ। বেড়েছে দূষণের মাত্রা। পরিস্থিতি অনুধাবন করে এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী সহ সমস্ত স্তরের বুদ্ধিজীবীরা যথেষ্ট চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত স্তরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করলেও সমষ্টিগত ভাবে এগিয়ে এসেছে দুর্গাপুর ‘গাছপ্রেমী’ সংগঠন।
গত ছ’মাস ধরে এই সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের মধ্যে গাছের আদান প্রদান করলেও গত ২৫ শে জুলাই দুর্গাপুরের চিত্রালয়ের মিলন মাঠে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতিতে আয়োজিত হয় এক মিলন সভা।


সদস্য সংখ্যা শতাধিক হলেও করোনা নিষেধাজ্ঞা জনিত কারণে সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রায় ত্রিশ জন বৃক্ষপ্রেমী সদস্য। প্রত্যেকেই সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন একাধিক গাছ। উপহার হিসাবে একে অপরের হাতে তুলে দেয় নিজ নিজ বাড়ির ভিতর রোপণের উপযুক্ত সেই গাছ। শুধু তাই নয় কিভাবে এইসব গাছের যত্ন নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে কিভাবে দুর্গাপুরকে আবার সবুজে ভরিয়ে দেওয়া যায় সেটা নিয়েও পরিকল্পনা করা হয়। এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন কবি অন্তরা সিংহরায় , জীবনানন্দ লায়েক , মামনি লায়েক , ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য্য , অনুপম বিশ্বাস , চয়নিকা বৈরাগ্য , বিপাশা পাল , শঙ্কর বৈরাগ্য , রীমা ঘোষ সহ শহরের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।


দুর্গাপুরকে বাঁচাতে সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিটি ঘর, বাগান, ফাঁকা জায়গা , রাস্তার ধার সবুজে ভরে দেওয়া। বাড়ি বা ফ্ল্যাটের অভ্যন্তরে ছোট ছোট গাছ লাগানোর প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি করার চেষ্টা করে যাচ্ছে এই সংগঠনটি। আগামী দিনে সমগ্র দুর্গাপুর জুড়ে নিজেদের কর্ম পরিধি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই সংগঠনে যোগ দেওয়ার জন্য দুর্গাপুর বাসীদের আহ্বান জানানো হয়।


সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন – আমাদের লক্ষ্য আগামীতে গোটা দুর্গাপুরকে আবার সবুজ কার্পেটে মুড়ে দেওয়া। ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে আরও বেশি সংখ্যক দুর্গাপুরবাসীকে তাদের কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত করা। যেভাবে মানুষের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে তাতে তিনি ভবিষ্যত নিয়ে খুব আশাবাদী। প্রসঙ্গত পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শরদিন্দুবাবু বাঁকুড়ার অরণ্য প্রকৃতির মধ্যে বড় হয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই গাছ তথা অরণ্যের প্রতি তার ভালবাসা জন্মগত। সদ্য দুর্গাপুরে এসে তিনি সঙ্গে পেয়ে গেছেন বেশ কিছু স্থানীয় বৃক্ষপ্রেমী মানুষকে। ফলে তার সামনে এসে গেছে স্বপ্ন পূরণ করার সুযোগ।

      

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here