রাজ্যে ঢোকার অনুমতি দিলো প্রশাসন দুর্গাপুরের আটকে পড়া রোগী এবং তাঁদের পরিবারকে

0
3202

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুরের যে সকল মানুষজন ভেলোরে চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন তারা আটকে পড়েছিলেন বাংলা উড়িষ্যা সীমান্তে রাজ্যে ঢোকার অনুমতি দিলো প্রশাসন। বাংলার পুলিশ তাদের আটকায়ে ছিল। গাড়ি চলাচলের প্রয়োজনীয় অনুমতি পত্র, হাসপাতালে কাগজ দেখানোর পরেও পুলিশকর্মীরা জানিয়ে দেন বাংলায় ঢোকা যাবে না। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা সাফ জানিয়ে দেন, করোনা সংক্রমণ তথা লকডাউনের কারণে অন্য রাজ্য থেকে বাংলায় কোন যানবাহন ঢোকার অনুমতি নেই। ফাঁপড়ে পড়েন রাজ্যে ফেরত বাসিন্দারা। পুলিশের বিরুদ্ধে অমানবিকতার অভিযোগে সোচ্চার হয়েছিলেন সবাই। দুর্গাপুর এ জোনের ৭২ বছরের প্রবীণ দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী রঞ্জিতকুমার চট্টোপাধ্যায় কিংবা দুর্গাপুরের বি জোনের বাসিন্দা রঞ্জিত সিকদার অনেকেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন। ভোর রাত থেকে খোলা আকাশের নীচে রাস্তার ধারে দিন কাটাছিলেন।

রোগীর পরিবারগুলির অভিযোগ করেন “হাতে টাকা-পয়সা নেই, খাবার নেই, এমনকি নিয়মিত জীবনদায়ী ওষুধ খাওয়ার মত জলও নেই। কী করবো কিছু ভেবে উঠতে পারছি না। আমাদের বাড়ি ফেরানোর ব্যাপারে এখানে কারও কোনও হেলদোল নেই। শুনশান রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে বসেই সময় কাটছে। কী করব ভেবে উঠতে পারছি না। অপর এক ভুক্তভোগীর কথায়, ‘অনেকটা বেশি টাকা খরচ করেও অসুস্থ আত্মীয়কে নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারলাম না। জানিনা কবে পৌঁছব। একরাশ উদ্বেগ, আশঙ্কা আর উৎকণ্ঠায় প্রতিটি মুহূর্ত কাটছিল এক কঠিন লড়াইকে সঙ্গী করে। এই লড়াইয়ের শেষ কবে? প্রশ্ন ছিলো, তবে উত্তর তখনও অজানা অসহায় পরিবারগুলির কাছে ছিলো।

সূত্র থেকে জানা গেছে পশ্চিমবঙ্গবাসী রোগীর পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ালেন রাজ্যের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার এক প্রাভাবশালী মন্ত্রী। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে ওই সমস্ত রোগী ও তাদের পরিবারদের কে জেলার ভেতরে ঢোকার অনুমতি দিয়ে তাদেরকে খড়গপুর আই.আই.টি তে রাজ্য সরকারের কোয়ারেণ্টাইন সেণ্টার রাখার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। ওই পরিবারগুলির সাথে বেশ কিছু এমন লোক রয়েছেন যাদের শরীরে জ্বর ও সর্দির আভাস মিলেছে তাই তাদেরকে এবং তাদের পরিজনদেরকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here