লালকির খোঁজে পোস্টার পড়েছে দুর্গাপুর শহরে

0
749

নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ- লালকির খোঁজে পোস্টার পড়েছে দুর্গাপুর শহরে। কেউ খুঁজে দিতে পাড়লেই মিলবে হাতে নগদ পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার। তবে শুধু পোস্টারই না, সোশ্যাল মিডিয়াতেও পোস্ট দিয়ে খোঁজ চলছে লালকির।

বেনাচিতির রামকৃষ্ণ পল্লীর বাসিন্দা ইন্দ্রজিৎ ভট্টাচার্য ও তার স্ত্রী দেবস্মিতা ভট্টাচার্য। ছর ৪৪ এর ইন্দ্রজিৎবাবুর একটি চোখে দৃষ্টি নেই। স্ত্রী দেবস্মিতা ভুগছেন জটিল দুরারোগ্য রোগে। ভিন রাজ্যের হাসপাতালে ব্যায় বহুল চিকিৎসা চলছে তার। এদিকে ইন্দ্রজিতবাবু একটি বেসরকারি সংস্থার চিফ অ্যাকাউন্টেন্ট হিসেবে কাজ করলেও করোনা কালে কর্মচ্যুত হয়েছেন তিনি। দেবস্মিতাদেবীর বাপের বাড়ির আর্থিক সহযোগীতায় চলছে তার চিকিৎসা। এই পরিস্থিতিতেও এলাকার প্রায় ২০ টি বিড়াল ও ১০ টি সারমেয়কে পোষ্য হিসাবে পালন করছেন এই ভট্টাচার্য দম্পতি। তাদের অভিযোগ, বেশ কিছু এলাকাবাসী বিড়াল ও সারমেয় গুলির উপর অত্যাচার চালায়। শেষমেশ তারা প্রায় ১৫ টি বিড়ালের নিরাপত্তা দিতে ঘরের ভেতর ক্যাট হাউস তৈরি করেছেন। লালকি এদেরই একজন। গত জানুয়ারি মাসে লালকি নামের বিড়ালটি নিখোঁজ হয়ে যায়। লালকির শোকে খাওয়া দাওয়া ভুলে রীতিমতো বিহ্বল পড়েন ভট্টাচার্য দম্পতি। তখনই স্যোশাল মিডিয়ায় ছবি বিবিরণ দিয়ে লালকির খোঁজ চালানো হয়। এমনকি ২০০ টাকা পুস্কারও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও লালকির খোঁজ মেলেনি। তবু হাল ছাড়তে নারাজ ইন্দ্রজিৎ ওদেবস্মিতা। সন্তান তুল্য লালকির খোঁজ চলছেই। তাদের আশা একদিন ঠিক ফিরবে লালকি। তাই এবার পুরস্কারের অর্থ এক ধাপে ৩০০০টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন ভট্টাচার্য দম্পতি। বর্তমান আর্থিক অনটনের মধ্যেও। ইন্দ্রজিৎবাবু জানান স্ত্রী’র চিকিৎসার টাকা বাঁচিয়ে ৫০০০ টাকা পুরষ্কার রেখেছেন।

প্রসঙ্গত বছর সাতেক আগে ইন্দ্রজিতের সঙ্গে বিয়ে হয় দেবস্মিতার। বিয়ের পর থেকেই পশুপ্রেমী এই নিঃসন্তান দম্পতি পাড়ার বিড়াল ও সারমেয়দেরই সন্তান তুল্য হিসেবে মানুষ করতে থাকেন। এর জন্য পড়াপ্রতিবেশীদের চক্ষুশূলেরও কারণ হয়েছেন তারা। এই দম্পতির মতে জীবনের এত প্রতিকূলতার মধ্যেও এই বিড়াল ও সারমেয়গুলিই তাদের বেঁচে থাকার প্রেরণা জোগায়। তাই লালকির খোঁজ চলবেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here