নীরবে অসহায়দের সাহায্য করে চলেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের দুর্গাপুরের মাধব শাখা

0
1269

অমল মাজি ,দুর্গাপুর:- করোনা রুখতে সারা দেশজুড়ে লকডাউন চলছে। সাধারণ মানুষ গৃহবন্দী। পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর। ঠিক তখন একদিকে আতঙ্ক, অন্যদিকে করোনা মোকাবিলার মাঝে পড়ে দিন আনা দিন খাওয়া , ভিক্ষাবৃত্তি করা , ভবঘুরে ,একেবারে দুস্থ, দরিদ্র শ্রেণীর মানুষগুলোর এক করুণ অবস্থা হয়েছে। তারা সারা দিনে একমুঠো অন্নের জন্য প্রাণপাত করছে। সেই সমস্ত অভুক্ত মানুষগুলোর কথা চিন্তা করেই তাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সমাজের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন , ক্লাব , নেতা , ব্যাবসায়ী , ব্যক্তি বিশেষ। এই বিপর্যয়ের সময় রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে এক ছাতার তলায় নিয়ে এসেছে।

ঠিক তখন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের দুর্গাপুরের মাধব শাখা এই লকডাউনের সময় তারা প্রতিদিন দুস্থদের সাহায্য করে চলেছে নীরবে। দুর্গাপুর -১, গান্ধীনগর, ইন্দিরা কলোনি, আম্বেদকর কলোনি, করঙ্গপাড়া, সুভাষপল্লী, রবীন্দ্রপল্লী, ব্যারেজ কলোনি, বার্নকোম্পানি, লিলুয়াবাঁধ, ভগৎ সিং কলোনি, দুর্গাপুর বাজার এরিয়া, রায়ডাঙ্গা, বাস স্ট্যান্ড ও স্টেশন এরিয়াতে নিয়মিতভাবে খাদ্য সামগ্রী দান করে চলেছে সেই লকডাউন ঘোষণার দিন থেকে। সকালে ১০০-১৫০ জন অসহায় মানুষের জলখাবারের ব্যবস্থা। টিফিনে কোনোদিন লুচি তরকারি। কোনোদিন পাউরুটি, ঘুগনীর মতো তরকারি,সঙ্গে কলা।

প্রথম সপ্তাহে ৬০০ র অধিক দুস্থ পরিবারের হাতে ৩ কেজি চাল, ৫০০ গ্রাম ডাল, দেড় কেজি আলু, হলুদ ও জিরে গুঁড়োর একটি করে প্যাকেট। এরপর থেকে দু কেজি চাল, ২৫০ গ্রাম ডাল , এক কেজি আলু , ও মশলা দেওয়া হচ্ছে। এই কাজের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত রয়েছেন বিপ্লব রাজবংশী, শান্তনু নাগ, মানস দাস, ড. অজয় কুমার সাঁই এবং মাধব শাখার প্রাপ্ত বয়স্ক সদস্যবৃন্দ।

এই সেবার পাশাপাশি অসহায়দের মাস্ক ও বিস্কুট বিলি করেছে । প্রথম দিকে স্বয়ংসেবকরা নিজেদের মধ্যে অর্থ সংগ্রহ করে ১০০ অসহায় পরিবারকে সেবা দেওয়ার কাজ শুরু করে। পরে স্বয়ংসেবকদের এমন মহতী কাজে সন্তুষ্ট হয়ে সমাজে বেশ কিছু সহৃদয় ব্যক্তিবর্গ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
ওই স্বয়ংসেবকদের বক্তব্য , এই কাজের জন্য তাদের কোনো প্রচার চান না। তারা মনে প্রাণে চান, এই বিপর্যয়ের দিনে সমস্ত অসহায় , দুস্থ , গরীব মানুষগুলো যেন অভুক্ত না থাকে। তার জন্যই এমন দান ধ্যান করে চলেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here