চুপি চুপি ‘ফি’ কমিয়ে এবার বড়গলা দুর্গাপুরের দিদিমনির

0
4055

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- সরকারি নিষেধ সত্বেও লকডাউনের মধ্যেই অভিভাবকদের মোবাইল নম্বরে বর্ধিত ফি-র তালিকা পাঠিয়ে কার্যতঃ ফাঁপড়ে পড়ে যায় দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের কিছু বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। এ নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের পরিবারে ক্ষোভ ছড়ায়, হস্তক্ষেপ চাওয়া হয় জেলা প্রশাসনের ও। বিষয়টি সংবাদের মাধ্যমে জনসমক্ষে আনে পোর্টাল চ্যানেল ‘এই বাংলায় ডট কম’। তারপরই হৈচৈ শুরু হয় শিল্পাঞ্চল জুড়েই।

কাজটা যে ভাল হয়নি, তা বুঝতে পেরে শাক দিয়ে মাছ ঢাকার কায়দায় চুপি চুপি স্কুলের পোর্টালে রাতারাতি নিজেদের অবস্থান বদল করে কিছু স্কুল। যার মধ্যে অন্যতম দুর্গাপুরেরই বেনাচিতি লাগোওয়া সেন্ট পিটারর্স স্কুল। এরপরই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার খয়রাতি জমিতে চলা স্কুলটির আধিকারিকেরা নিজেদেরকে ধোওয়া তুলসী পাতা প্রমাণ করতে তাদের ‘বড়গলা’ উঁচিয়ে শোরগোল শুরু করেন। স্কুলটির অধ্যক্ষা অর্চনা অধিকারী গত ২৮ এপ্রিল সরকারিভাবে জানান “আমাদের স্কুলে কোন রকম ফি-বৃদ্ধি করা হয়নি। বাজারে এসব গালগপ্প প্রচার করে স্কুলের সুনাম নষ্ট করতে সক্রিয় হয়েছে কিছু মানুষ।” অর্চনা ক্রদ্ধ হয়ে দাবি করেন, “বহু অভিবাবক ফোনে আমাদের কাছে বর্ধিত ফি-র ব্যাপারে জানতে চান। তাদেরকে আমরা সাফ জানিয়ে দিই যে এবছর কোনোরকম স্কুল- ফি বাড়ানোই হয়নি।” বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও খ্রিষ্টান মিশনারির দুর্গাপুর ডায়াসিসের বিশপ রেভারেন্ড সমীর আ্যইজাক খিমলার দপ্তরেও অঙ্গীঁকার করেছেন। তাতে বলা হয়েছে ” কিছু ছাত্র-ছাত্রী ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফি জমা করেনি। তাদের আগে বকেয়া জমা করতে হবে। তারপর ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ফি জমা নেওয়া হবে।”

এসবই গেল সেন্ট পিটারর্স স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে সাফাই। তবে অন্তরতদন্তে অবশ্য মিলল আলাদা রকম তথ্য। যা স্কুলটির কাছে অস্বস্তিকর হতেই পারে।

১) অভিভাবকদের কাছে গোড়ায় যে বর্ধিত ফি-কাঠামো পাঠানো হয়, তাতে রি -অ্যাডমিশন ৮০০/- টাকা ও ট্যুশন ফি ১৪৪০/-টাকা ধার্য করা হয়। শোরগোল শুরু হতেই নিজেদের পোটালে আচমকাই ট্যুশন ফি ১০০ টাকা কমিয়ে ১৩৪০/- টাকা করা হয়। কেন?
২) এস.আর.বি.এফ চার্জ ৭০/- টাকা থেকে কমে ৬০/- টাকা হল কি করে?

৩) বিল্ডিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফি আরো ১০/- টাকা কমে ৯০/- টাকা কেন হয় হয়ে গেল?

৪) বিদ্যুৎ খরচা ৫/- টাকা কমিয়ে ৬৫/- টাকা হল। কি করে?

৫) ল্যাবরেটরি ফি ও কম করা হল। কি করে?

স্কুলটির অধ্যক্ষা অর্চনা অধিকারী এ নিয়ে অবশ্য খোলসা করে কিছুই বলতে পারেননি। তার ব্যস্ততা ছিল গোটা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ধমক- চমকের সাহায্য নেওয়া।

তিনি যাই করুন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কিন্তু গোটা বিষয়টির ওপর খুঁটিয়ে নজর রাখছে। যেমন নজর রাখা হয়েছে লকডাউনে টানা আড়াই মাস ছাত্রছাত্রীরা স্কুল মুখো হওয়ার কোন সম্ভাবনা না থাকলেও বিদ্যুৎ বিল, কম্পিউটার ফি, ল্যাব ফি, গেমস ফি, নেওয়ার যৌক্তিকতা কি- তার ওপরেও। অবশ্য, শুধু সেন্ট পিটারর্স ই নয় – এই রকম অযৌক্তিক টাকা পয়সা জমা করার হুকুম জারি করেছে বেশ কিছু নামী ইংরেজী মাধ্যম স্কুলও। অভিভাবকদের একাংশ, লকডাউন ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here