“ঠুঁটো জগন্নাথ প্রশাসন”- (২)……হাউজিং কলোনির জায়গা এবং জল নিকাশির সমস্ত নালা আজ জবরদখলদের হাতে, গড়ে উঠেছে একের পর এক দোকান

0
847

অমল মাজি, দুর্গাপুরঃ- সগর ভাঙা হাউজিং কলোনির ফাঁকা জমি আজ জবরদখলকারীদের হাতে চলে গেছে | যার জেরে সগর ভাঙা কলোনির বাসিন্দাদের নাজেহাল অবস্থা । উল্লেখ্য, হাউজিং কোয়ার্টার কারোর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় | সমস্তটাই রাজ্য হাউজিং-এর অধীনে রয়েছে | এখানে অবশ্য বেশিরভাগ বাসিন্দাদের নিজেদের নামে কোয়ার্টার এলোটমেন্ট আছে | হাউজিং অফিসে তারা প্রতিমাসে ভাড়া দেন | তবে যারা কোয়াটারে অবৈধ নির্মাণ করেছেন তাদের থেকে ২০১৪ সাল থেকে ভাড়া গ্রহণ করছে না হাউজিং কর্তৃপক্ষ | অর্থ্যাৎ ২০১৪ সাল থেকে ভাড়া বাকি আছে বহু মানুষের | তাসত্বেও অবৈধ নির্মাণ বন্ধ হচ্ছে না | নিজস্ব সম্পত্তি না হয়েও অনেকে আবার এক তলা কোয়ার্টারের উপর দোতলা বানিয়েছে বেআইনিভাবে |

দুর্গাপুর নগর নিগমের ২৯ নং ওয়ার্ডে অন্তর্গত সগর ভাঙা কলোনির মাঝের মোড় থেকে গ্রাফাইট গোলপার্ক পর্যন্ত রাস্তার দুইদিকের ফাঁকা জায়গা দখল করে বেআইনিভাবে গড়ে উঠেছে একের পর এক দোকান ঘর | রাস্তার পাশে ড্রেনের জায়গা গিলে ফেলেছে দখলকারীরা | কারোর কিছু বলার নেই, প্রশাসনও ঠুঁটো জগন্নাথ | ফলে সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে রাস্তা | নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা | কলোনির বয়স্ক নাগরীকদের বক্তব্য, আজ থেকে ২০ বছর পূর্বে সগর ভাঙা কলোনিতে এইভাবে এতো বেআইনি দোকানঘর গড়ে উঠেনি | তখন কোয়ার্টারের সংলগ্ন ফাঁকা জায়গা পর্যাপ্ত ছিল | সেইসব ফাঁকা জায়গা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কাজে লাগতো বাসিন্দারা | এখন সেইসব জায়গা জবরদখল করে গড়ে উঠেছে একের পর এক গাড়ি রাখা গ্যারেজ, দোকান ঘর ইত্যাদি | এরফলে কলোনির সৌন্দর্য একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে | পরিবেশও তলানিতে ঠেকেছে রাজনীতির যাঁতাকলে | এই হাউজিং কলোনির বিভিন্ন প্রান্ত আজ জবরদখলকারিদের হাতে চলে গেছে। ডিএমসি’র পাঁচিল ভেঙে হাউজিং-এর ২নং পাম্প হাউসের পাশের জমি জবরদখল করে কাঠের দোকান, লেপ বালিশের দোকান, গাড়ির গ্যারেজ বানানো হয়েছে। এখন আবার একটা নতুন দোকানঘর বানানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, এই জমিটি হাউজিং-এর, আর পাঁচিলটা দিয়েছে ডিএমসি | এই জমির নিচে রয়েছে হাউজিং-এর পাম্প হাউসের জলের মেইন পাইপ লাইন । প্রশ্ন উঠছে জলের মেইন পাইপ লাইনের উপর কিভাবে অবৈধ নির্মাণ হচ্ছে ? এছাড়া সগর ভাঙা কলোনির মাঝের মোড়ে সরকারি হাউজিং-এর হাই ড্রেনের উপর অবৈধ নির্মাণ করা হয়েছে । রীতিমতো টাকার লেনদেন এর মাধ্যমে বলে অভিযোগ |

এইসম্পর্কে হাউজিং-এর এক অফিসার বলেন, অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে, অবৈধ কোয়ার্টার কেনা-বেচা’র বিরুদ্ধে কড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেক কোয়ার্টারে লক করে সিল করা হয়েছে | এইনিয়ে নেতা এবং নেতার ছেলেদের রোষানলে পড়তে হয়েছে আমাদের | তবে এই অবৈধ নির্মাণের সমস্ত কিছুর রিপোর্ট ছবি সহ কলকাতার হেড অফিসে পাঠানো হচ্ছে নিয়মিত | এব্যাপারে একদিন না একদিন কড়া সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার |

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here