দুর্গাপুরের শিক্ষক চিরন্জিত ধীবর, পশ্চিমবঙ্গে প্রথম ! করোনার ঔষধ সংক্রান্ত পরীক্ষার জন্য নিজের শরীর দান করার জন্য এগিয়ে এলেন

0
4535

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- করোনা আতঙ্কে ভুগছে সমগ্র বিশ্ববাসী, এই মূহুর্তে বিশ্ববাসীর মনে একটাই চিন্তা কবে আবিষ্কার হবে এই করোনাভাইরাসের ঔষধ, কবে উদ্ধার পাবে বিশ্ববাসী এই মারন রোগের হাত থেকে। 

দেশজুড়ে চলছে দ্বিতীয় দফার লকডাউন, কিন্তু কতদিনই বা লকডাউন করে রক্ষা করা যাবে সমগ্র দেশবাসীকে, তাই প্রয়োজন রোগ নিরাময়ী ঔষধ। দেশজুড়ে চলছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য ঔষধ আবিস্কারের চেষ্টা, ঔষধ হোক বা ভ্যাকসিন্ তা তৈরি করার পর পরীক্ষার জন্য মানুষের শরীরে প্রয়োগ করে দেখা হয় তা কতটা কার্যকর। 

কিন্ত করোনাভাইরাসের মতো মারন রোগের ঔষধ বা ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা পরীক্ষা কীভাবে করা হবে, এই পরিস্থিতিতে করোনার ঔষধ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য পরীক্ষার জন্য নিজের শরীর দানের জন্য আবেদন করেছেন দুর্গাপুর নিবাসী শিক্ষক চিরন্জিত ধীবর। তিনি আর.এস.এস প্রভাবিত শিক্ষক সংগঠন “বঙ্গীয় নব উন্মেষ প্রাথমিক শিক্ষক সঙ্ঘ “এর রাজ্য কমিটির সদস্য।  সারা ভারতবর্ষে  উত্তরপ্রদেশের দুজন ব্যক্তির পর তৃতীয় ব্যক্তি হিসাবে এবং পশ্চিমবঙ্গে প্রথম ব্যক্তি হিসাবে এগিয়ে এলেন তিনি।

চিরঞ্জিত ধীবর নামে ওই শিক্ষকের বয়স ৩০ বছর। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের কাঁকসা ব্লকের মানিকাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ান তিনি। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের পুরোনো স্বয়ং সেবক। সঙ্ঘের অনুপ্রেরণায় সেবার কাজে বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা নেন। লকডাউন এর প্রথম পর্বে ইতিমধ্যেই সঙ্ঘের সেবাকাজের সাথে যুক্ত হয়ে টানা ২১ দিন দূর্গাপুর এর বিভিন্ন জায়গায় দুবেলা প্রায় ১৪,০০০ অভুক্ত মানুষ এর মুখে অন্ন তুলে দিয়েছেন।  সোমবার প্রথমে মহকুমা শাসক এবং পরে পশ্চিম বর্ধমান জেলার জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি, কে তিনি ই-মেল করেন। জেলাশাসকের দপ্তর জানায়, বিষয়টি তাদের হাতে নেই। আই.সি.এম.আর এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রককে চিঠি দিতে হবে। সেইমতো দুই জায়গায় ই-মেল করেন চিরঞ্জিত। ICMR’র সদর দপ্তর দিল্লি থেকে বাংলার শিক্ষকের চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর ডঃ লোকেশ শর্মা জানিয়েছেন, “আপাতত আমরা প্লাজমা থেরাপির ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করছি। প্লাজমা দাতারা প্রত্যেকে এক সময় করোনা আক্রান্ত ছিলেন, কিন্তু এখন সুস্থ হয়েছেন। ভবিষ্যতে নন কোভিডদের উপর পরীক্ষা করা হলে আবেদনকারীদের মধ্যে থেকে কাউকে বাছাই করা হবে। তবে তা হিউম্যান এথিকস কমিটি অনুমোদন করবে। একটি নির্দিষ্ট প্রোটোকল মেনে সেই পরীক্ষা হবে।”এইরকম সিদ্ধান্ত সমগ্র বঙ্গবাসি ও দেশবাসীর সাথে বিশ্ববাসীর কাছে এক অপরিসীম সাহসিকতার নিদর্শন রেখেছেন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here