আবাস যোজনায় উপভক্তার কাছ থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তৃণমূল নেতা প্রভাত চ্যাটার্জীর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে

308

নিজস্ব সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ– এবার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় উপভক্তার কাছ থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠলো দুর্গাপুরের প্রাক্তন মেয়র পারিষদ তথা তৃনমূল নেতা প্রভাত চ্যাটার্জী সহ স্থানীয় তৃনমূল নেতার বিরুদ্ধে । রাজ্য জুরে যখন শাসক দলের নেতা নেত্রীদের বিরুদ্ধে আবাস যোজনায় দুর্নীর অভিযোগ উঠছে তখন দুর্গাপুরের দাপুটে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রীতিমতো বিড়ম্বনায় তৃণমূল শিবির। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক তথা পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। অন্যদিকে বিষয়টি হাতিয়ার করে রাজনীতিতে নেমেছে পদ্ম শিবির।

দুর্গাপুরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভিড়িঙ্গির বাসিন্দা তথা দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রাক্তন স্বাস্থ্য কর্মী সন্ধ্যা নায়েকের দাবি আবাস যোজনার বাড়ির জন্য ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা মেয়র পারিষদ তৃণমূল নেতা প্রভাত চ্যাটার্জীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। তাঁর কথা মতোই দুর্গাপুর নগর নিগমে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির জন্য আবেদন করেন এবং তাঁর সেই আবেদন মঞ্জুর হয়। কিন্তু অভিযোগ প্রভাতবাবু সন্ধ্যাদোবীকে জানান তাঁদের ঠিক করে দেওয়া ঠিকাদারকে দিয়ে বাড়ি তৈরির কাজ না করলে অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে না। তাই বাড়ির তৈরির জন্য ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা বর্তমান ওয়ার্ড কনভেনার সুধীর বাউড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন প্রভাতাবাবু। সেই মতো সুধীর বাউড়ির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি শিবশঙ্কর বার্ণওয়াল নামে এক ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। সন্ধ্যা দেবীর দাবি এরপর ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তিপত্র সই করে কয়েক দফায় বাড়ি তৈরির জন্য পুরো টাকাটাই দিয়ে দেন তিনি। প্রথম কয়েক দফা টাকা পাওয়ার পর বাড়ি তৈরি শুরুও করেন ঠিকাদার। কিন্তু কিছুদিন পর থেকেই তিনি বেপাত্তা হয়ে যান। বন্ধ হয়ে যায় বাড়ির কাজ। ফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাড়াতাড়ি কাজ শুরু হবে বলে শুধু প্রতিশ্রুতি দিতে থাকেন ওই ঠিকাদার। এইভাবে প্রায় বছর কেটে গেলেও বাড়ি তৈরির কাজ আর শুরু হয়নি।

এরপরই বৃহস্পতিবার পুরো বিষয়টি জানিয়ে দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক, নগরনিগমের পুর প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান অনিন্দিতা মুখার্জী এবং মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সন্ধ্যাদেবী। এদিকে বিষয়টি সামনে আসতেই অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা সুধীর বাউড়ি দাবি করেন, সন্ধ্যাদেবী তাঁর পরিচিত ও তাঁর সঙ্গে খুবই ভালো সম্পর্ক। তিনি আবাস যোজনার টাকা পাওয়ার জন্য সন্ধ্যাদেবীকে সাহায্যও করেছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যাদেবীই তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন মিস্ত্রি দিয়ে বাড়ি তৈরি করে দিতে তাই তিনি ওই ঠিকাদারের সঙ্গে সন্ধ্যাদেবীর যোগাযোগ করিয়ে দেন। এরবেশী তিনি কিছু জানেন না। অন্যদিকে অভিযুক্ত ঠিকাদার শিবশঙ্কর বার্ণওয়াল এদিন দাবি করেন মিস্ত্রীর অভাবে বাড়ির কাজ বন্ধ আছে। খুব শীঘ্রই সেই সমস্যা মিটে যাবে ও তিনি পুনরায় কাজ শুরু করে দেবেন।

অন্যদিকে ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। এদিন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, তৃণমূল নেতৃত্বের মদতে বাড়ি সম্পূর্ণ না করে পুরো টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। শুধু দুর্গাপুর নয় সারা রাজ্য জুরেই চলছে এই দুর্নীতি। অবিলম্বে ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here