রেণুর ঘটনাকে ‘বিরলতম হিংস্র ঘটনা’র আখ্যা রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সনের

0
91

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- মঙ্গলবার দুর্গাপুরের বেসরকারি হাসপাতালে রেণু খাতুনের সঙ্গে দেখা করলেন রাজ্য মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। রেনুর হাত কেটে নেওয়ার ঘটনাটিকে লজ্জাজনক ও বিরলতম হিংস্র ঘটনার আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর কর্মজীবনে এমন জঘন্য ঘটনা তিনি দেখেননি। তিনি আবেদন করেন এই ঘটনাটিকে বিরলতম হিংস্র ঘটনা হিসেবে দেখে তবেই যেন দোষীদের বিচার হয়। পাশাপাশি তিনি বলেন এই ঘটনার রেনুর স্বামী শুধু দোষী নন, তাকে ওই ঘটনা ঘটাতে যারা যারা সাহায্য করেছে তারা প্রত্যেকে দোষী ও তাদের যেন কঠিন শাস্তি হয়। এছাড়া রেণু যাতে তার সরকারি চাকরিটি পান সে বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তিনি আবেদন জানাবেন বলে এদিন জানান।

অন্যদিকে মঙ্গলবারই রেণুর স্বামী শের মহম্মদকে পূর্ব বর্ধমান-মুর্শিদাবাদ সীমানার হলদি গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ। ধৃত শের মহম্মদকে বুধবার কাটোয়া মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়। রেণুর শ্বশুর ও শাশুড়িকে আগেই গ্রেফতা হলেও স্বামী পলাতক ছিল। অন্যদিকে জানা গেছে, শনিবার রাতে স্ত্রীর হাত কাটার সময় কেতুগ্রামের বাড়িতে শের মহম্মদ ছাড়াও আরও দু’জন ছিলেন যারা কব্জি কাটার ঘটনায় শের মহম্মদকে সাহায্য করেছিলেন। যদিও ওই দু’জনের পরিচয় এখনও জানতে পারেনি পুলিশ।

প্রসঙ্গত সরকারি চাকরি পেয়ে ছেড়ে যেতে পারেন স্ত্রী। এই আশঙ্কায় গত শনিবার নৃশঃসভাবে স্ত্রী রেণু খাতুনের ডান হাতের কব্জি কেটে দেন পূর্ব বর্ধমানের কেতু গ্রামের বাসিন্দা শের মহম্মদ। জানা গেছে ভালোবেসে শের মহম্মদকে বিয়ে করেছিলেন রেণু খাতুন। বিয়ের পর ২০২০ সাল থেকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করছিলেন তিনি। কিন্তু স্ত্রীর চাকরি করার বিষয়টিতে বরাবর আপত্তি ছিল তার স্বামীর। সেই আপত্তি উপেক্ষা করেই সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিয়েছিলেন রেণু। সেই পরীক্ষায় পাশ করে নিয়োগপত্রও পান তিনি । আর সেটাই কাল হল। সরকারি চাকরি পেয়ে স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে যাবে, এই সন্দেহে বন্ধুদের সঙ্গে মিলে স্ত্রীর হাত কেটে নেওয়ার পরিকল্পনা করে শের মহম্মদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here