সেচ ক্যানেলের কাঠের সেতুর ওপর অবৈধ টোল আদায়ের তদন্ত শুরু

0
338

দেব লাহা, দুর্গাপুরঃ- সেচক্যানেলের ওপর কাঠের সেতু তৈরী। আর তার ওপর যান চলাচলের সুবিধার নামে কোটি কোটি টাকার অবৈধভাবে টোল আদায়। গলসী-১ নং ব্লকের পারাজ-শিল্ল্যা রোডের ওপর সেচ ক্যানেলের কাঠের সেতুতে অবৈধ টোল আদায় হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রশাসনের তৎপরতায় টোল আদায় বন্ধ হলেও, আদায় হওয়া টোলের হদিস পাওয়া যায়নি। এবার ওই টোলের হদিস খুঁজতে সেচ দফতর সহ পুর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রাজ্যে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ বালি, মাটি চোরাচালান থেকে দুর্নীতি দমন তৎপর হয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জেলা সফরে গিয়ে আমলা থেকে দলীয় কর্মী ও দলের জনপ্রতিনিধিদের কড়া বার্তাও দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে তৎপরতার সঙ্গে পালন করছেন রাজ্যের আমলারা। গত ২১ জুলাই দলীয়কর্মীদের স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গলসী-১ নং ব্লকের পারাজ- শিল্ল্যাঘাট সড়কের ওপর পারাজ সেচ ক্যানেলের কংক্রীটের সেতু দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। মেরামতের কাজ হলেও ভারি যান চলাচল নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে। এদিকে দামোদর নদের শিল্ল্যাঘাট, সোদপুর বালিঘাটের বালি বোঝাই লরি, ডাম্পার যাতায়াত থমকে যায়। বালির লরি যাতায়াতের সুবিধার জন্য জরাজীর্ন সেতুর অদুরে কাঠের বিকল্প সেতু তৈরী করে এক বালি ব্যাবসায়ী হেমন্ত ঘোষ বলে অভিযোগ। অভিযোগ, বালি ব্যাবসায়ী হেমন্ত ঘোষের ওই রোডের ওপর দামোদরের শিল্ল্যাঘাটে কোন বৈধ বালিঘাট ছিল না। প্রশ্ন, তারপরও তিনি কোন উদ্দেশ্যে সেচ দফতরের অনুমতি নিয়ে ওই কাঠের সেতু তৈরী করলেন? অভিযোগ, ওই সেতুর ওপর অবৈধভাবে লরি পিছু ২৫০ টাকা করে টোল আদায় করা হয়েছে। তাও আবার রশিদ ছাপিয়ে। দৈনিক প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকার ওপরে টোল আদায় হচ্ছিল। কিন্তু ওই আদায় করা টোল কোথায় জমা পড়ছে তার কোন হদিস নেই। সব মিলিয়ে বছরে প্রায় কয়েক কোটি টাকার টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কাঠের সেতুর ওপর অবৈধ টোল বন্ধের দাবীতে মাস কয়েক আগে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু কর্মী বিডিও’র কাছে ডেপুটেশন দেয়। বিষয়টি নজরে পড়তেই নড়েচড়ে বসে পুর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন ও গলসী-১ নং ব্লক প্রশাসন। সরজমিন তদন্ত করে কাঠের ওই সেতুর ওপর টোল আদায়ে বন্ধ করে। শুধু তাই নয়। টোল আদায়ের এলাকায় সেচ ক্যানেল পাড়ে অবৈধভাবে তৈরী করা বিল্ডিং ভেঙে ফেলা হয়। এমনকি দামোদরের ওপর অবৈধভাবে বালির চোরাচালেনের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেয় গলসী-১ নং ব্লক প্রশাসন।

প্রশ্ন ওঠে, অবৈধ টোল আদায় বন্ধ হলেও, আদায় হওয়া টোল কোথায় জমা পড়ল? কাদের মদতে সরকারি সম্পত্তির ওপর অবৈধভাবে টোল আদায়ের রমরমা কারবার চলত। পুর্ব বর্ধমান জেলা বিজেপির সহ সভাপতি রমন শর্মা বলেন,” তৃণমূলের মন্ত্রীদের যেভাবে দুর্নীতির প্রমান পাওয়া যাচ্ছে। তাদের ঘনিষ্টজনের কাছে কোটি কোটি টাকা বেরিয়ে আসছে। তখন নীচুতলার কর্মীরাও দুর্নীতিতে জড়িত। সিবিআই, ইডি তদন্ত হলে সব বেরিয়ে আসবে। পারাজের কাঠের সেতুতে শাসকদলের মদতে ওই টোল আদায় চলছিল। আমাদের দাবী, ওই অবৈধ টোল আদায়ের টাকা কোথায় জমা পড়ল, তার সত্যতা প্রকাশ্যে আসুক। তাই সিবিআই তদন্তের দাবী জানাচ্ছি।” 

এদিকে খবর চাউর হতেই আদায় হওয়া টোলের হদিশ খুঁজতে এক সমাজসেবী সংগঠনের আবেদনে সাড়া দিয়ে ইতিমধ্যে সেচ দফতর সহ জেলা সমস্ত প্রশাসনিক মহলে তদন্ত সুরু হয়েছে। সমাজসেবী সংগঠনের পক্ষে এক কর্মকর্তা বলেন,” সরকারি সম্পত্তির ওপর অবৈধভাবে টোল আদায় হয়েছে। গত দু বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকার মত আদায় হয়েছে। কিন্তু সরকারি অনুমতি ছাড়া কিভাবে টোল আদায় হল, কোথায় সেই টাকা জমা পড়ল? তাই সঠিক তদন্তের জন্য অভিযোগ জানানো হয়েছে। ন্যায় বিচারের জন্য প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করা হবে।” যদিও এবিষয়ে হেমন্ত ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গলসী-১ নং পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি তথা তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি জনার্দ্দন চ্যাটার্জী বিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান,” সাধারন মানুষ অভিযোগ করেছিল, কাঠের সেতুর ওপর অবৈধ টোল বন্ধ হোক। বিষয়টি ব্লক ও জেলা প্রশাসনকে জানোন হয়েছিল। টোল আদায় বন্ধ হয়েছে। সাধারন মানুষের প্রশ্ন , আদায় হওয়া টোল কোথায় জমা পড়ছে। বিষয়টি জেলা ও ব্লক প্রশাসন তদন্ত করবে।” দুর্গাপুর সেচ দফতরের আধিকারিক সঞ্জয় মজুমদার জানান,” বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here