রাজ্যের কারখানাগুলিতে ভোটের মরসুমে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের হুমকি আদতে বিজেপি মদতপুস্ট বলে অভিযোগ

0
1275

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ ভোটের মুখে শিল্পাচঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন কলকারখানাগুলিকে বকেয়া বিল মেটানোর চাপ ডিভিসির। যার জেরে মহা সংকটে প্রায় দুর্গাপুরের শতাধিক কারখানা। ২০১৯ লোকসভা ভোটের তৃতীয় দফার ভোট সম্পন্ন, এখনও বাকি ৪ দফার ভোট। সেই চারদফার ভোটের মধ্যেই শিল্পাঞ্চলের ভোটও রয়েছে। কিন্তু জানা গেছে সম্পতি ডিভিসি কর্তৃপক্ষ দুর্গাপুর, অঙ্গদপুর, আসানসোল, বামুনাড়া, বড়জোড়া ও বাশকোপা সহ শিল্পতালুকে এই মুহূর্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রায় ২০০-র মতো কলকারখানা কর্তৃপক্ষকে এই মর্মে নোটিশ জারি করেছে যে, এখনও পর্যন্ত কারখানাগুলির যে বকেয়া বিল রয়েছে তা দ্রুত মিটিয়ে দিতে হবে, অন্যথায় যেকোনো মুহূর্তে কেটে দেওয়া হবে সেই কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ। আর এই নোটিশ পৌঁছাতেই শিরে সংক্রান্তি অবস্থা সমস্ত কারখানার মালিকপক্ষের। কারণ, এক একটি কারখানার বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা, কোনও কারখানার ৬ মাসে বিল বাকি আবার কোনও কোনও কারখানার বকেয়া বিলের পরিমাণ তারও বেশি। ফলে এই মুহূর্তে এত পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল মেটানো নিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ। কারণ, বিদ্যুত বিল না মেটালে যেকোনো সময় বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ। আর তা যদি হয় তাহলে একদিকে যখন কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে, তেমনি কারখানাগুলিতে এইমুহুর্তে কর্মরত শ্রমিকরাও আচমকায় তাদের কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে যাবেন। ফলে চূড়ান্ত সমস্যায় পড়বেন শ্রমিক ও তাদের পরিবারেরা। এরকম পরিস্থিতিতে কোনও বিকল্প রাস্তা খুঁজে পাচ্ছেন না দুর্গাপুরের ছোট-বড় প্রায় শতাধিক কারখানার কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে ডিভিসির এহেন খামখেয়ালিপনায় ষড়যন্ত্রের আঁচ পাচ্ছেন বিভিন্ন কারখানার তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত শ্রমিক সংগঠনগুলি। তাদের অভিযোগ, বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গুলি হেলনে ভোটের আগে রাজনৈতিক খেলা খেলছে ডিভিসি। পরিকল্পনা করে শিল্পশহরে ভোটের আগে শ্রমিক মহলে অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে বিজেপি ও ডিভিসি। এখানে প্রশ্ন উঠতে পারে, কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আখেরে বিজেপি কিংবা ডিভিসির ফায়দা কী? সেখানেও যুক্তি দেখিয়েছে শাসক দল। তাদের বক্তব্য, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিলে শ্রমিকরা যদি এই মুহূর্তে কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে যায় তাহলে সেইসমস্ত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের একটা বড় অংশ শাসক দলের ওপর আস্থা হারিয়ে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার দিকে ঝুঁকবে, ফলে ভোট ব্যাঙ্ক শক্তিশালী হবে বিজেপির। অন্যদিকে, ভোটের এই লড়াইয়ের মাঝে বিজেপির সঙ্গে আঁতাত করে কারখানাগুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নোটিশ দিলে এক ঝটকায় প্রায় সমস্ত কারখানার বকেয়া বিল আদায় হয়ে যাবে। ফলে আর্থিকভাবেও লাভবান হবে ডিভিসি। শাসকদলের তরফে অভিযোগ মূলত, এইকারনেই বিজেপি ও ডিভিস দুই তরফে আঁতাত করে শিল্পাঞ্চলের কারখানা মালিকদের ওপর বকেয়া বিল মেটানোর জন্য ভোটের মুখে চাপ দিচ্ছে। তাদের বক্তব্য, বছরের পর বছর কারখানাগুলির সঙ্গে এভাবেই ব্যবসায়িক সংযোগ রেখে আসছে ডিভিসি, কিন্তু লোকসভা ভোটের মুখে হঠাত করে ডিভিসির ভোলবদল বিজেপির রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে মনে করছে শাসকদল।