এই বাংলায়-র খবরের জের, বাস্তুঘুঘুর আড্ডা ভাঙতে উদ্যোগ পিএফ কমিশনারের, এখনও শীত ঘুমে দুর্গাপুর শ্রমবিভাগ

0
979

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ অভিযোগ ছিল বহুদিনের। সম্প্রতি শিল্পশহরের বেসরকারি সংস্থার শ্রমিকদের প্রাপ্য ইএসআই ও পিএফের টাকা বেআইনিভাবে বেসরকারি একাধিক সংস্থা আত্মসাৎ করেছে এই খবর এই বাংলায় ওয়েব পোর্টালে প্রকাশিত হতেই শিল্পশহর তথা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শ্রমিকদের একাধিক অভিযোগ জমা পড়তে শুরু করে। দুর্গাপুর তথা রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিকদের একের পর এক পিএফের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আসতেই তদন্তে নামে আঞ্চলিক পিএফ দফতর। আর তাদের তদন্তে গতি আসতেই কেঁচো খুড়তে বেরিয়ে পড়ে কেউটে। এক, দুটি নয় তদন্তে নেমে সরকারী এই দফতর দুর্গাপুর, আসানসোল, বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া সহ বিভিন্ন জেলায় একাধিক বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে পিএফের টাকা আত্মসাতের খোঁজ পেয়েছেন। জানা গেছে ইতিমধ্যেই ওই সমস্ত সংস্থাগুলিকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নিতে চলেছে পিএফ দফতর। স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিকদের প্রাপ্য সরকারী সুবিধা হল ইএসআই ও পিএফ। যে প্রক্রিয়ায় কোনও কর্মীর মাসিক বেতন থেকে একটা নির্দিস্ট পরিমাণ টাকা কেটে তার সঙ্গে সরকারী ও বেসরকারি সংস্থা নির্দিস্ট পরিমাণ টাকা যুক্ত করে সেই টাকা ওই শ্রমিকের অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে জমা করে। কিন্তু এক্ষেত্রে, বেশ কিছু সংস্থা শ্রমিকদের প্রাপ্য পিএফের টাকা তো দিচ্ছেই না, উল্টে ওই শ্রমিকের কাছ থেকে পিএফ এবং ইএসআই বাবদ টাকা কেটে নিয়ে তা আত্মসাৎ করছে। সম্প্রতি দুর্গাপুরের একাধিক নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগকারী সংস্থা থেকে শুরু করে সিটিসেন্টারের বুকে অবস্থিত আনন্দ অ্যামিউজমেন্ট পার্কে এক বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে। সেখানে ১৫ জন কর্মীকে ২০১৫ সাল থেকে কাজ করিয়ে পিএফ এবং ইএসআই-র টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে এক বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে। এই প্রতারণার জাল দুর্গাপুরেই যেমন বিস্তৃত তেমনি রাজ্যের বিভিন্ন জেলাতেও এই একই ঘটনা ঘটেছে বলে তদন্তের পর জানিয়েছে আঞ্চলিক পিএফ দফতর। আঞ্চলিক পিএফ কমিশনার অজয়কুমার সিং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়েছেন যেসমস্ত সংস্থা পিএফের টাকা নিয়ে প্রতারনা করেছে তাদের তালিকা প্রস্তুত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। কোনোভাবেই শ্রমিকরা যাতে তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত না হন সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনে পিএফের টাকা আদায়ে সংস্থা এবং সংস্থার মালিকদের সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার অধিকার পিএফ দফতরের রয়েছে। তবে একদিকে দুর্গাপুর তথা রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে পিএফ এবং ইএসআই-র টাকা আত্মসাতের মতো গুরুতর অভিযোগে যখন সরগরম রাজ্য তখন দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখনও শীত ঘুম ভাঙলো না দুর্গাপুরের শ্রম দফতর (DLC) বিভাগের। গত কয়েকদিনে একাধিকবার দুর্গাপুর শ্রম দফতরের শরনাপন্ন হয়েছেন শিল্পশহরের শ্রমিকরা। কেউ পিএফ এবং ইএসআই-র প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত আবার কেউ দিনের পর দিন কাহ করে গেলেও পাওনা বেতনটুকু পর্যন্ত পাননি। এইসমস্ত নানান অভিযোগ নিয়ে বেশকয়েকবার শ্রমিকরা ডিএলসি অফিসে অভিযোগ জানালেও এখনও পর্যন্ত সরকারি ওই দফতরের তরফে অভিযুক্ত সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কোনোরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই স্থানীয় কিছু শ্রমিকের অভিযোগ নিয়ে দুর্গাপুরের ৩২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মানস রায় মহাশয়ও শ্রম দফতরে লিখিত অভিযোগ জমা করলেও সেই চিঠিও লাল ফিতের ফাঁদে আটকে। ফলে দিনের পর দিন ক্রমশই প্রকাশ হয়ে পড়ছে দুর্গাপুর শ্রম দফতরের অকর্মন্যতা ও দায়িত্বহীনতার মুখোশ। যার ফল ভুগতে হচ্ছে শিল্পশহরের খেটে-খাওয়া শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে, অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের বেড থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে শ্রমিকদের পরিবারকে। কিন্তু এতকিছুর পরেই কেন শীতঘুম ভাঙছে না সরকারী এহেন দফতরগুলির তা অজানাই।