মরণোত্তর দেহ ও চক্ষুদানে বাঁকুড়ার মানুষের আগ্রহ বাড়ছে

0
500

সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ-

মরণোত্তর দেহ ও চক্ষুদানে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। ফের প্রমাণ করলো বাঁকুড়া। বৃহস্পতিবার বিষ্ণুপুরের সংকটতলার বাসিন্দা মণিকা মুখার্জী (৭২) -র চক্ষু ও দেহ দান করলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। চক্ষু সংগ্রহ করলেন রুবাল মেডিক্যাল প্রেকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশানের সেনপুর রুবাল মেডিক্যাল লাইব্রেরীর সদস্যরা, পরে তাঁর মৃতদেহ চিকিৎসা বিজ্ঞানের সহায়তার জন্য বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের এনাটমি বিভাগের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, এবছরের ৫ জুলাই স্থানীয় রাধানগর গ্রামে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির উদ্যোগে মরনোত্তর দেহদান অঙ্গীকার শিবিরে উপস্থিত হয়ে মণিকা মুখার্জী এবিষয়ে অঙ্গীকারপত্রে সই করেন। বুধবার রাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের তরফে বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর পরিবারের তরফে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। খবর দেওয়া হয় মরনোত্তর চক্ষু সংগ্রহকারীরুবাল মেডিক্যাল প্রেকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশানের সেনপুর রুবাল মেডিক্যাল লাইব্রেরীর সঙ্গেও। সেখানকার সদস্যরা হাসপাতালে চক্ষু সংগ্রহ করেন।

মৃতা মণিকা মুখার্জীর ছেলে অংশুমান মুখার্জী ও বৌমা সুস্মিতা মুখার্জী বলেন, বাবা হঠাৎ করেই মারা গিয়েছিলেন। সেই সময় মরণোত্তর দেহ ও চক্ষুদান বিষয়ে আমাদের ঠিকমতো জানা ছিলনা। পরে ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৌম্য সেনগুপ্তের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। ঐ সংগঠনের এবিষয়ে এক কর্মসূচীতে মা সহ আমাদের পরিবারের সকলেই মরণোত্তর দেহ ও চক্ষুদানে অঙ্গিকার করি। এদিন মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছানুসারে চক্ষু ও দেহদান করা হলো। এভাবে বাকিরাও এগিয়ে এলে অনেক মানুষ উপকৃত হবেন বলে তারা মনে করেন।

ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সৌম্য সেনগুপ্তের কথায়, তাদের সংগঠনের এক কর্মসূচীতে মণিকা মুখার্জী সহ তাঁদের পরিবারের সকলে মরনোত্তর দেহ ও চক্ষুদানের অঙ্গীকার করেন। এদিন তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের তরফে চক্ষু ও দেহ দান করা হলো। একজন অশীতিপর বৃদ্ধা যেভাবে চক্ষু ও দেহ দান করে গেছেন তা আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাবে বলে তিনি মনে করেন।

বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপার ডাঃ মানস বাউরী বলেন, মণিকা মুখার্জী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। উনি মরণোত্তর দেহ ও চক্ষুদানের অঙ্গীকার করে যাওয়ায় ওনার পরিবারের তরফে চক্ষু ও দেহ দান করা হচ্ছে। আগামী দিনে এবিষয়ে কেউ আগ্রহী হলে তাদের তরফে সমস্ত ধরণের সহযোগীতা করা হবে বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here