বাসস্থানের জমিতে কেক পেস্ট্রিজ কারখানাঃ ফ্যাসাদে দুর্গাপুরের আলী’জ

0
2209

মনোজ সিংহ, দুর্গাপুরঃ- বাসস্থানের জন্য সরকারের বরাদ্দ করা জমিতে পুরোদস্তুর কারখানা বানিয়ে এবার বিতর্কের কেন্দ্র বিন্দুতে আলী’জ । শহর দুর্গাপুরের অন্যতম নামে এই বেকারি ব্র্যান্ড কে ঘিরে চাঞ্চল্য শুরু ও হয়েছে প্রশাসনিক মহলে । বিষয়টি নিয়ে তদন্ত নামছে রাজ্য সরকারের একটি সংস্থা ।

তবে, নিজের মুখে জমির বাণিজ্যিক ব্যবহারকে ‘অনৈতিক’ না বললেও সংস্থার কর্ণধার শেখ মোস্তফা আলীর পক্ষে এক অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার আমিরুল সিদ্দিকি বললেন “যে কোনও রকম তদন্তে আমরা সরকারকে পুরোপুরি সহায়তা করতে রাজি আছি ।”

এখানকার সিটি সেন্টারের অম্বুজা উপনগরীর ইস্ট এভিনিউ তে শাহনাজ বেগমকে বসবাসের জন্য তিন কাঠা জমি দেয় রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন সংস্থা এ ডি ডি এ । সেই ২০০৪ সালে বরাদ্দ করা জমিতে ক্রমে একটি বসতবাড়ি নির্মাণ করেন শাহনাজ। কিন্তু কার্যত দেখা যায় বসবাসের বদলে পুকুর লাগোওয়া ওই বাসস্থানে পুরোদস্তুর একটি বেকারি ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট বসিয়ে ফেলেছে শহরের নামী ব্র্যান্ড আলী’জ । সেই কারখানায় কেক, পেস্ট্রি, ক্রিম রোল, কুকিজের উৎপাদন শুরু ও হয়ে যায় ২০১৬ সালে ।

এযাবৎকাল অবধি আলী’জ এর কারখানাকে ঘিরে এলাকায় কোনো সমস্যা দেখা না দিলেও , সম্প্রতি স্থানীয় বাসিন্দাদের তরফে দুর্গাপুর নগর নিগম, এ ডি ডি এ, সহ মহকুমা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয় এই মর্মে- যে বসবাসের জন্য বরাদ্দ করা জমিতে অনৈতিক ভাবে কারখানার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ‘সিটিজেন্স অফ বেঙ্গল অম্বুজা’ নামে একটি সংস্থার পক্ষ থেকে আচমকাই বিভিন্ন মহলে ওই অভিযোগ জমা হতে থাকে। জনৈক এম সাহা’র পক্ষে দাখিল করা অভিযোগ পত্রে দাবি করা হয়, তারাশংকর বিথী, আম্বেদকর সরণি, ঊর্বশী কমপ্লেক্সের নর্থ, ইস্ট, ওয়েস্ট এভিনিউ সহ অ্যাকোয়াপলিশ এবং অম্বুজা উপনগরীর ২৮, ৩০, ৩২, ও ৩৪ নম্বর স্ট্রীটের বাসিন্দাদের আপত্তি রয়েছে সেখানকার আর. এ- ২৪ নম্বর বাড়িটিতে কারখানা বসানো নিয়ে। এদিকে, অভিযোগ পাওয়ার পর দুর্গাপুর নগর নিগম এবং এ ডি ডি এ আলাদা করে তদন্ত করবে বলে জানা গেছে। দুর্গাপুর নগর নিগমের পুর কমিশনার পুষ্পেন্দু মিত্র বলেন ” বসবাসের জন্য দেওয়া জমি ব্যবহার করে কেউ কারখানা বসাতে পারেন না । আমরা এটার তদন্ত করবো । ” এদিকে, এই নগর নিগমই আবার আলী’জ এর জন্য ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করেছে ওই আর. এ- ২৪ নম্বর বাড়িটির ঠিকানায়। সংস্থার অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার আমিরুল বলেন ” হঠাৎ কিছু লোকের কি সমস্যা হল ঠিক বুঝতে পারছি না। তিন বছর আগে এখানকার বাসিন্দারাই নগর নিগমকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন – টাটকা কেক , রুটি পাওয়ায় তাদের সুবিধা হয়েছে আমাদের এই কারখানার জন্য। তাই নগর নিগম ও আমাদের পক্ষে ট্রেড লাইসেন্স দেয়।”

গোটা বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হতেই শহরের অন্য কয়েকটি বেকারী ব্র্যান্ড অবশ্য ইতিমধ্যেই ওই ঘোলা জলে মাছ ধরতে তৎপরও হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here