দুর্গাপুরের আবিস্কারের রেডিওলজিস্টের ‘জাল’ ডিগ্রী আবিস্কার মেদিনীপুরে

0
5714

মনোজ সিংহ, দুর্গাপুরঃ- জাল আবিস্কার, নাকি আবিস্কারে ‘জাল’ ডাক্তার-! প্রশ্ন এখন এটাই দুর্গাপুরে।
আপাতত; যা জানা গেছে, তাতে আবিস্কারের ডাক্তারের ‘জাল ডিগ্রী’ বলাই ভাল। দুর্গাপুরের সিটিসেন্টারের একটি প্যাথলজিক্যাল সংস্থা ‘আবিস্কার’। আর সেখানেই পাঁচ বছর ধরে মৌরসী পাট্টা গেড়ে কারবার চালাচ্ছেন মেদিনীপুরের এক ‘জাল’ ডাক্তার। পেশায় তিনি রেডিওলজিস্ট। ডাঃ শশীভূষন পান্ডে। এখানকার ‘আবিস্কার ডায়াগনাস্টিকস’- র বিজ্ঞপ্তিতে ডাঃ পান্ডের নামের পাশে জ্বল জ্বল করছে- এম.বি.বি.এস, এম.ডি, ডি.এম.আর.ডি (রেডিওলজিস্ট)। সপ্তাহে অন্ততঃ তিনদিন সিটিসেন্টারের অম্বুজা কলোনীতে আবিস্কারে নগদ কড়ি ফেললেই বিতর্কিত ডাঃ পান্ডের পরিষেবা হাজির। “একেক দিনে ২০ থেকে ৩০ টি কেস এখানে করেন ডাঃ পান্ডে”, বলে জানালেন আবিস্কারের এক কর্মী।
প্রশ্ন হচ্ছে, – ওই রেডিওলজিস্ট কে নিয়ে কিসের এত জল্পনা, কিসেরই বা বিতর্ক?
ডাঃ পান্ডের এম.ডি ডিগ্রীটাই নাকি জাল। তাই তাঁকে নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গেছে মেদিনীপুর শহরে। যে শহরে ডাঃ সমীর দাস, ডাঃ সন্ধ্যা মন্ডল ধাড়া, ডাঃ কাঞ্চন ধাড়ার সাথে যৌথ অংশীদারিতে প্রাসাদোপম অট্টালিকায় আটটি তলা জুড়ে ডাঃ পান্ডের ‘নির্ণয় হসপিটাল’। যেটি নাকি ২০১৫ সালে আই.এস.ও ৯০০১- ২০১৫ শংসাপ্রাপ্ত একটি হাসপাতাল ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্র। ডাঃ পান্ডে কে ঘিরে গোলমালের সূত্রপাত সেখানেই। সেখানেই, কনসালটান্ট নিও ন্যাটালজিস্ট ও পেডিয়াট্রিশিয়ান ডাঃ সন্ধ্যা মন্ডল ধাড়া। তার প্রেসক্রিপশনে তিনি নিজেকে এম.ডি এবং ডি.এন.বি.টি বলে দাবি করেন। তার ডিগ্রী নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি ডাঃ পান্ডের এম.ডি ডিগ্রী ও এখন কাঠগড়ায়। মালিকানার পাশাপাশি তিনি নির্ণয় হাসপাতালে’র রেডিওলজি বিভাগেরও ইনচার্জ, ২০১৭ সাল থেকে। এরপরই শুরু আসল নাটক। মেদিনীপুর শহরেই তিনজন চিকিৎসক- ডাঃ রমেন সিনহা রায়, ডাঃ সৌমেন সিনহা রায় ও ডাঃ সমর দাস রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রীর সচীবালয়, এমন কি “দিদি কে বলো” তেও ডাঃ পান্ডে ও ডাঃ মন্ডল ধাড়ার জাল ডিগ্রী নিয়ে গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগ দায়ের হয়েছে রাজ্য পুলিশের সি.আই.ডি বিভাগেও।
এই সব গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও ডাঃ পান্ডে কিন্তু বহাল তবিয়তে ঘুরে ফিরে ল্যাবরেটরীতে প্র্যাকটিশ চালিয়ে যাচ্ছেন। শনিবারও দুর্গাপুরের সিটিসেন্টারের আবিস্কারে যথারিতী জাল এম.ডি, ডাঃ পান্ডে চেম্বার করে গেলেন। কথা বলতে চাইলে দু’-দু’বার ঝাঁঝের সাথে জানালেন- “কথা বলার সময় নেই”। আবিস্কারের বিপনন বিভাগের অধিকর্তা পূর্ণেন্দু ব্যানারজী বললেন, “স্যারের তো কোনো সমস্যা নেই। উনি তো নিয়মিতই আসছেন এখানে। উনি খুব ব্যস্ত, তাই কথা বলতে পারছেন না”। কিসের এত ব্যস্ততা পান্ডে জি? রোগী দেখার? ফটো তোলার?
এ দিনই মেদিনীপুরের নির্ণয় হাসপাতালের তরফে পিউ গুড়িয়া নামে এক কর্মচারী বলেন, “স্যার তো এখানে সোমবার থেকে বুধবার অব্দি চেম্বারও করছেন। সমস্যা নেই তো”!
সত্যিই? কোনো সমস্যা ই নেই??

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here