জোড়া ‘জাল’ আই.এ.এসের সুরা, নারী, সিংহাসন লুঠ থেকে এবার স্বস্তি চাইছে দুর্গাপুর

0
984

মনোজ সিংহ, দুর্গাপুর:- ‘জাল’ আধিকারিকদের জালে আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়েছে দুর্গাপুর। সাম্প্রতিক কালে দুজন এরকম জালের কীর্তি প্রশাসনের নজরে এসেছে। যার মধ্যে একজন ইতিমধ্যেই সি.আই.ডি.র হেফাজাতে। পদস্থ আধিকারিকদের দাবি,- এরকম প্রায় আধ ডজন ভুয়ো আধিকারিক গত ১০ বছর ধরে শহর দুর্গাপুর, এমনকি রানিগঞ্জ, আসানসোল সহ পার্শ্ববর্তী বাঁকুড়া জেলার কয়েকটি জায়গা থেকে হরেক রকম চাকরি, জমি, ফ্ল্যাটের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি কোটি টাকার লুঠের চক্র চালিয়ে গেছেন। দু- একটি ক্ষেত্রে সরকারিভাবে অভিযোগ জমা পরার পর অরূপ নন্দী নামের এক জাল আই.এ.এস এখন সি.আই.ডি হেফাজতে। ধরা পড়েছে তার একজন শাগরেদও। তবে, সি.আই.ডি.র আধিকারিকদের মতে, এই চক্রের সাথে যুক্ত আরও বেশ কয়েকজন এখনো অধরা।

বিদ্যুৎ পোদ্দার এবং অঞ্জন দুয়ারি নামে একটি সংস্থার দুজন তথাকথিত ‘ডিরেক্টর’ কে নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল দুর্গাপুরে। খোঁজখবর শুরু হয়েছে দুর্গাপুরের পুলিশ প্রশাসনিক মহলে। পোদ্দার-দুয়ারির যুগলবন্দী দুর্গাপুরে কারবার ফেঁদে বসেন প্রায় চার বছর আগে। তারা তাদের কাজ শুরু করেন ‘চা সঙ্গী’ নামে একটি আজগুবি প্রকল্প আমদানি করে। তারপর ক্রমান্বয়ে শুরু হয় সুরা, নারী, সিংহাসনের রাজপাট। ঢালাও ব্যবহার হতে থাকে শাসকদলের হরেক মাপের নেতা থেকে শুরু করে মহকুমা শাসক, পুলিশ আধিকারিকদের সাথে ওই মানিকজোড়ের তুলে রাখা ছবি। যা দিয়ে ডজন ডজন বেকার যুবকের থেকে শুরু করে জমি-ফ্ল্য়াট প্রত্যাশীদের ফাঁদে ফেলার জাল ব্যবসার গোড়াপত্তন। সামাজিক মাধ্যমে, বিশেষত ফেসবুকে এইসব ছবি ঢালাও প্রচার করে বাজার জমানোর ‘কাজ’ও শুরু হয়ে যায় দেদার। পোদ্দারের ভিজিটিং কার্ড বেশ চমকপ্রদ! তার পরিচয় তিনি ডঃ বিদ্যুৎ পোদ্দার। রীতিমতো সরকারি অশোক স্তম্ভ সহ তার পরিচিতি। তিনি একাধারে কেন্দ্র সরকারের আঞ্চলিক শলাদানকারী একটি কমিটির সদস্য আবার তিনি-ই হলেন সামাজিক কাজের ক্ষেত্রে নেপাল সরকারের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। এটা কিভাবে সম্ভব ? ভারত সরকারেরও যিনি প্রতিনিধি, নেপাল সরকারেরও তিনিই প্রতিনিধি ? এ প্রশ্নের জবাবে দুর্গাপুর শহরে দাপিয়ে বেড়ানো কেউকেটা পোদ্দার বলেন,” আমি দুর্গাপুরে একটি ভালো চা প্যাকেজিং প্রকল্প করার চেষ্টা করেছিলাম। রাজ্য সরকারের সহায়তায় সরকারি স্তরে একটি কর্মতীর্থ ও আমার প্রকল্পে জড়িত হওয়ার বিষয়ে সরকারি আধিকারিকেরাই নবান্নে প্রস্তাব পাঠান। তারপর কোভিড অতিমারিতে সবকিছু গোলমাল হয়ে যায়। আমার দুর্গাপুরের ৫৪ ফুট এলাকায় একটি দপ্তরও আছে। প্রকল্পে বলা ছিল ৩৫০০ মহিলা কাজ পাবেন।” এদিকে, ওই প্রকল্পেই ‘কাজ’ পাওয়া স্বপ্না চাঁই নামে এক মহিলা ইতিমধ্যেই পোদ্দারের বিরুদ্ধে দুর্গাপুর থানায় প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্বপ্নার বক্তব্য, “উনি আমার মত বেশ কয়েকজনকে ঠকিয়েছেন। উনি খুব বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমাদের সর্বনাশ করেছেন।” ভাইরাল হওয়া কিছু ছবিতে পোদ্দারের সাথে কয়েকজন স্বল্পবসনা মহিলার ছবি ঘিরেও তোলপাড় শুরু হয়েছে। বহু নারীর সাথে পোদ্দারের গোপন সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসায় শহরের প্রভাবশালী কিছু পরিবারেও অশান্তি শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

পোদ্দার- দুয়ারির যুগলবন্দীকে নিয়ে দুর্গাপুর পুলিশ এখনো কোনো পদক্ষেপ না নিলেও, আরেক ‘ঠকবাজ’ অরূপ নন্দীর বিষয়ে, তাকে গ্রেপ্তারের পরও নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে সি.আই.ডি- বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here