বাঁকুড়া জেলার কেঞ্জাকুড়া তে বিখ্যাত জিলিপি মেলা… সাইকেলের চাকার মতো সাইজ

0
1064

প্রতিনিধি, বাঁকুড়া:- সামনেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব আর এই দুর্গ উৎসবকে কেন্দ্র করে নতুন জামাকাপড়, আসবাবপত্র, সাথেসাথে প্রিয়জনদের কে বিশেষ কিছু উপহার দেওয়ার একটা উদ্দীপনা দেখা যায় রাজ্যবাসীর মধ্যে। আপনিও নিশ্চয়ই ভাবছেন যে কি উপহার দেওয়া যায় আপনার প্রিয়জনকে এই উৎসবের মরসুমে, ভেবেচিন্তে যদি কিছু না পান তাহলে অবিলম্বে চলে আসুন বাঁকুড়া জেলার কেঞ্জাকুড়া গ্রামে। বাঁকুড়া জেলার অন্তর্গত এক প্রত্যন্ত গ্রাম, যার নাম- কেঞ্জাকুড়া। প্রতি বছর ভাদ্রমাসের সংক্রান্তিতে রাঢ় বঙ্গে ভাদুপুজা হয়। আর সেই পুজাকে কেন্দ্র করেই কেঞ্জাকুড়া গ্রামে বসে জিলিপির মেলা। বাঁকুড়া ছাপিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ভিড় করেন এখানে, একদিনের এই জিলিপি মেলায়। এই সময় এখানে প্রতিটি মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে জিলিপি তৈরি হয়। এই মেলায় প্রধান আকর্ষণ হলো জিলিপির সাইজ। এমনকি কে কতো বড় সাইজের জিলিপি করতে পারেন তা নিয়ে কারিগরদের মধ্যেও প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এক একটির সাইজ দেখলে মাথা ঘুরে যাওয়া টাই স্বাভাবিক। একটির ওজন প্রায় এক কেজি থেকে তিন কেজির ওপর, যা সাইকেলের চাকার মতো সাইজের। ভূ ভারতের কোথাও এখানকার মতো বড় ও সুস্বাদু জিলিপি” আর কোথাও পাবেন না। অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি। স্বাভাবিক ভাবে জিভে জল আনা, গরম মুচমুচে” স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয় এই জিলিপি। এখানকার মানুষ এই দিনটিতে নিজেদের প্রিয়জনদের কাছে জিলিপি পৌঁছানোর বিশেঅপ রীতি ও রয়েছে।
এতবড় জিলিপি বাঁশের গোলা, চাঁচ এবং শুকনো শালপাতা ও পেপার দিয়ে মুড়ে একটি বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে প্যাকেটিং করা হয়। কেঞ্জাকুড়ার মাটিতেই জন্মেছেন” বর্তমানে বাঁকুড়ার একজন বিখ্যাত সাহিত্যিক কবি ধীরেন্দ্রনাথ কর। আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর ও তাঁরো বেশি আগে, কেঞ্জাকুড়ার পাশের হানুলিয়া নামে এক ছোট্ট গ্রামের- মদন দত্ত নামে এক দক্ষ মিষ্টির কারিগর ছিলেন, সেই সময় তিনি বিউলি ডালের বেশনের খামির করে, এরপর ছিদ্র যুক্ত বিশেষ ধরনের কাপড়ের একটি থুপি করে, হাতের পাঁক দিয়ে ঘুরিয়ে, ঘি ভরতি গরম কড়াইয়ে ভেঁজে সেটাকে চিনির রসে ডুবিয়ে প্রায় তিন কেজির সাইজের একটা বৃহদাকার জিলিপি তৈরী করে সবার চোখে তাক লাগিয়ে ছিলেন। তাকে অনুসরণ করে এখানে সমস্ত মিষ্টান্ন ভাণ্ডারেই এই জিলিপি তৈরি হয়। তারপর থেকেই এই কেঞ্জাকুড়ার জিলিপি বিখ্যাত হয়ে উঠে। এই জিলিপি কেজি হিসেবে বিক্রি হয়। ক্রেতার যেমন সাইজের জিলিপির প্রয়োজন হয়, অর্ডার করলেই তা সহজেই পাওয়া যায়। বিশ্বকর্মা পুজোর দিনেই ভাদুপূজা ও এই মেলা। প্রচুর জিলিপি বিক্রি হয় মেলায়। মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই মেলা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here