চাষযোগ্য জমি সংস্কারের দাবি চাষীদের

0
382

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া:-

দামোদর নদীতে বন্যার কবলে পড়ে বিঘার পর বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন একাধিক চাষি। আর তাই ইতিমধ্যে দামোদর নদীর ভাঙ্গন রোধের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। ফলে স্বাভাবিকভাবেই খুশি এলাকাবাসী।

কিন্তু গত দু’বছর আগে দামোদর নদীর ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে বহু চাষযোগ্য জমি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। জমিতে তৈরি হয়েছে বড় বড় খাল। প্রাথমিকভাবে দেখলে মনে হতেই পারে ছোটখাটো কোনো একটা পুকুর। এছাড়াও চাষযোগ্য জমির উপরে প্রচুর পরিমাণে বালি জমা হয়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে একমাত্র চাষ যোগ্য জমি। স্থানীয় চাষিদের দাবি কিছু কিছু জমি সংস্কার করা হলেও এখনো অনেক জমি রয়েছে সেগুলো সংস্কার হয়নি। ফলে সেই সমস্ত জমি গুলিকে পুনরায় সংস্কারের দাবি জানাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীরা।

এ ছবি বাঁকুড়া জেলা সোনামুখী থানা রাধামোহনপুর পঞ্চায়েত এর উত্তর নিত্যানন্দপুর গ্রামের। একটা সময় ছিল এই তিন ফসলি জমিতে চাষ বাস করে তাদের সংসার চলত কিন্তু বন্যার কবলে পড়ে সমস্ত জমি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এখন সংসার চালানোর জন্য লোকের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতে হয়। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের অভিযোগ স্বয়ং জেলাশাসক এই এলাকা পরিদর্শন করে যান, সেইমতো জমি সংস্কারের বিষয়ে পঞ্চায়েত গত ভাবে মাপ করা হয়, কিন্তু তারপরেও সেই অর্থে তেমন একটা কাজ হয়নি। এই মুহূর্তে নির্মল মন্ডল, মহাদেব মণ্ডল , রমনী কান্ত বিশ্বাস, নিরাপদ বসু, অরবিন্দ বসু এই পাঁচজন চাষির জমি সংস্কার করা হয়নি। তাদের এই জমিগুলি সংস্কার করা হলে হলে তারা ভীষণ ভাবে উপকৃত হবেন।

এক ক্ষতিগ্রস্ত চাষির স্ত্রী নির্মল মণ্ডল বলেন, আমাদের তিন বিঘা জমি ছিল পুরোটাই বন্যার কবলে পড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এখন সংসার চালাতে হলে যখন যা পায় তাই করেই সংসার চালাতে হচ্ছে। আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় এই জমি সংস্কার করে পুনরায় চাষযোগ্য করে তোলা। তাই সরকারের কাছে আবেদন সরকার যদি এই জমি গুলো পুনরায় সংস্কার করে চাষযোগ্য করে তোলেন তাহলে খুবই ভালো হয়।

অরবিন্দ বসু নামে এক ক্ষতিগ্রস্ত চাষী বলেন , আমার জমিতে সংস্কারের কাজ শুরু হলেও ৪-৫ দিন কাজ করার পর আর কাজ হয়নি। তবে পঞ্চায়েতের গাফিলতি রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে গ্রামের মেম্বার আলোমতি মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ১০০ দিনের কাজের মাধ্যমে কিছু জমি সংস্কার করে চাষযোগ্য করা হয়েছে। যেগুলো এখনো সংস্কার হয়নি সেগুলো পুরো পুকুর হয়ে গিয়েছে। সেগুলো ভরাট করতে গেলে প্রচুর শ্রমিকের প্রয়োজন, সেই জন্য ১০০ দিনের কাজ ধরানো আছে। পুজোর পরেই আবার কাজ শুরু হবে। তবে পঞ্চায়েতের গাফিলতির অভিযোগ তিনি মানতে নারাজ। তিনি বলেন এখনো যে কাজ বাকি আছে ধীরে ধীরে সবটাই হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here