অতি বৃষ্টির ফলে নষ্ট ধান, তিল ও বাদাম, ঋণশোধ নিয়ে চিন্তায় কৃষকরা

0
406

শান্তনু পান, পশ্চিম মেদিনীপুর ও সঞ্জীব মল্লিক, বাঁকুড়াঃ- একনাগাড়ে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে প্রায় দশ দিন, এর ফলেই নষ্ট হতে বসেছে ধান, তিল ও বাদাম চাষ। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ২ নম্বর ব্লকে চাষবাসের অবস্থা বেহাল, মাথায় হাত চাষীদের । দশদিনের একটানা বৃষ্টিতে খেতে জল দাঁড়িয়ে থাকায় নষ্ট হয়েছে প্রচুর ধান, তিল ও বাদাম। ফলে সর্বস্বান্ত কৃষকরা। তাঁদের অভিযোগ জল নিকাশ সঠিকভাবে হচ্ছে না, ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সরকারি সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন । বছরের এই সময়টাতে ওই এলাকার বহু কৃষক ধান, তিল, বাদামের চাষ করেন। প্রবল বর্ষণে ধান, তিল, বাদাম পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চন্দ্রকোনার বেশিরভাগ কৃষকই ঋণ নিয়ে চাষ করেন। ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা ঋণ পরিশোধ নিয়ে চিন্তিত তারা। সরকারি সাহায্য পেলে তবেই ঋণের টাকা মেটানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন চন্দ্রকোনার কৃষকরা।

অন্যদিকে এই মুহূর্তে গোটা দেশের পাশাপাশি এ রাজ্যের বাঁকুড়া জেলাতেও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে করোণা আক্রান্তের সংখ্যা । এই রকম কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে তীব্র সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার ধান চাষীরা । করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে ধান কাটার জন্য মিলছে না প্রয়োজনীয় শ্রমিক ফলে মাঠ থেকে সঠিক সময়ে তারা ধান ঘরে তুলতে পারছেন না । তার ওপর গত কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির ফলে আরও সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাদের । এই রকম পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে ধান রক্ষা করতে যন্ত্রচালিত মেশিন দিয়ে ধান কাটার চেষ্টা করছেন কৃষকরা কিন্তু তাতে তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে । কেননা যে পরিমাণ টাকা খরচ করে ধান চাষিরা ধান চাষ করেছিলেন বৃষ্টির কবলে পড়ে তাদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তার ওপর গাঁটের পয়সা খরচ করে আবার যদি যন্ত্রচালিত মেশিন দিয়ে ধান কাটতে হয় তাহলে স্বাভাবিকভাবেই খরচের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে। সবমিলিয়ে একদিকে করোনা প্রকোপে মিলছে না শ্রমিক অন্যদিকে বৃষ্টি আবার যন্ত্রচালিত মেশিন দিয়ে ধান কাটা রীতিমতো নাজেহাল অবস্থা ইন্দাস ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকার ধান চাষীদের ।

মির ফরিদুল নামে এক কৃষক আমাদের ক্যামেরায় মুখোমুখি হয়ে জানান , এই সময় যে শ্রমিকরা ধান কাটতে আসতো বাইরে থেকে তারাও আসছে না ফলে মেশিন দিয়ে আমাদের ধান কাটতে হচ্ছে এবং বৃষ্টির ফলে সেই ধান শুকাতে ও পারছি না ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে আমাদের । অন্যদিকে সিয়াজুল খাঁ নামে অপর এক কৃষক বলেন , এই মুহূর্তে আটশ টাকা বস্তা ধান তাও নিতে চাইছে না । যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়েছে তার অর্ধেক টাকাও আমাদের উঠছে না । আগামী দিনে কিভাবে সংসার চলবে তাই ভেবে রাতের ঘুম ছুটেছে আমাদের ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here