স্বাস্থ্য শিবিরে যোগ দেয়া তৃণমূল কংগ্রেসের একগুচ্ছ হেভিওয়েট নেতা নেত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর দাবি জোরালো দুর্গাপুরে

0
1227

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুরে করোনা আতঙ্কের থাবা জোরালো হচ্ছে দিন দিন। গতকালকে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল হেলথ ওয়ার্ল্ড থেকে দুজন করনা আক্রান্ত রোগীর হদিশ পাওয়া গেছে। গত কালকে দুটি করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য কোভিড-১৯ হাসপাতাল, সনোকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। দুর্গাপুরে এক জন ইস্পাত নগরীর এ-জোনের ও অন্য জন ইস্পাত নগরীর বি-জোনের। আরো বেশ কিছু ভর্তি থাকা রোগীদের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে ওই (হেলথ ওয়ার্ল্ড) হাসপাতালে তবে রোগীদের রিপোর্ট এখনো আসেনি। যে দুজন করোনা আক্রান্ত রোগীর কাল হদিশ পাওয়া গিয়েছে তাদের কোন ট্রাভেল হিস্ট্রি নেই বলে দুর্গাপুর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। স্বভাবতই প্রশ্ন এখানেই যে তাহলে কি করে এই দুই ব্যক্তি করোনা সংক্রমিত হলেন। এখনো পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুসারে ওই বেসরকারি হাসপাতাল হেলথ ওয়ার্ল্ড এই করোনা আক্রান্তের উৎসস্থল বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। আর ঠিক এই কারণেই চিন্তার ভাঁজ কপালে এখন একগুচ্ছ তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা নেত্রীদের।

উল্লেখ্য দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর সাত নম্বর ওয়ার্ড অন্তর্গত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল দু দিন আগে। ইস্পাত নগরীর এ জনের দয়ানন্দ ফুটবল মাঠে এই স্বাস্থ্য শিবিরটি আয়োজন হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা নেত্রীরাই এই স্বাস্থ্য শিবির পরিচালনা করেছিলেন। মূলত লকডাউনে থাকা দুর্গাপুরের সাধারণ ইস্পাত নগরীর বাসিন্দাদের চিকিৎসা জন্য এই শিবির করা হয়েছিল। সাধারণ ইস্পাত নগরীর বাসিন্দাদের চিকিৎসা জন্য এসেছিলেন ওই বেসরকারি হাসপাতাল হেলথ ওয়ার্ল্ডের ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। কালকে দুর্গাপুরে দুটি করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য কোভিড-১৯ হাসপাতাল, সনোকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। দুর্গাপুরে এক জন ইস্পাত নগরীর এ-জোনের ও অন্য জন ইস্পাত নগরীর বি-জোনের। ‘হেলথ ওয়ার্ল্ড’ বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ওই দুই করোনা আক্রান্ত রোগী। কালকের করোনা আক্রান্তের এই ঘটনাটি জানাজানি হতেই এখন দুর্গাপুরে সাধারণ ইস্পাত নগরীর বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন যে যখন ওই হাসপাতালে করোনা আক্রান্তের উৎসস্থল তাহলে সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে যাওয়া সমস্ত রোগীরাই এখন সন্দেহের তালিকায়। অবিলম্বে ওই স্বাস্থ্য শিবিরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে যাওয়া সমস্ত বাসিন্দাদের করোনা টেস্ট করাতে অনুরোধ করছেন ইস্পাত নগরীর সাধারণ বাসিন্দারা।

অন্যদিকে এই স্বাস্থ্য শিবির উদ্বোধনের সময় দুর্গাপুর আসানসোল এর একগুচ্ছ তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা নেত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। যদি ওই হেলথ ওয়ার্ল্ড হাসপাতাল করোনা আক্রান্ত রোগীদের উৎসস্থল হয়ে থাকে তাহলে অবিলম্বে এইসব হেভিওয়েট নেতা নেত্রীদের করোনা পরীক্ষা করা দরকার বলে মনে করছেন সাধারণ শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দারা। শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দাদের মতামত যে যেসব হেভিওয়েট নেতা নেত্রীরা এখানে এসেছিলেন স্বাস্থ্য শিবির তারা সবসময় মানুষের কাছে যাচ্ছেন তাদের সাহায্যের করবার জন্য। কোথাও চাল-ডাল বিলি করছেন, কোথাও স্যানিটাইজার, মাস্ক দিয়ে সাহায্য করছেন নিরন্তর। ওই সব তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা নেত্রীদের উচিত অবিলম্বে নিজেদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর।

সাধারণ ইস্পাত নগরীর বাসিন্দাদের অভিযোগ নিয়ে আমার দুর্গাপুর ১ নম্বর ব্লক সভাপতি রাজীব ঘোষ এর সঙ্গে কথা বলি। রাজীব ঘোষ জানান “ব্যাপারটি নিয়ে চিন্তিত আছেন। গতকাল এই ঘটনার জানাজানি হওয়ার পরই আমি যোগাযোগ করেছিলেম হেলথ ওয়ার্ল্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে এবং জানার চেষ্টা করেছিলেম যে যদি এই হসপিটালে করোনা আক্রান্ত রোগীর উৎসস্থল হয় তাহলে যে সমস্ত ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সেই দিনকে স্বাস্থ্য শিবিরে এসেছিলেন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে সাধারণ মানুষের তাদের দ্বারা সংক্রমণ ছড়ানোর যৌক্তিকতা কতদূর।” তিনি আরও বলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে তাদেরকে জানানো হয়েছে যে যে সমস্ত ডাক্তাররা ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সেই দিনকে স্বাস্থ্য শিবিরে গিয়েছিলেন তারা কখনোই হাসপাতালের ভেতরে আই সি ইউ এলাকায় আসেন না তাই তাদের সংক্রমণের সন্দেহ না করাই ভালো। রাজিব বাবু নিজের থেকে সাবধানতা অবলম্বনের কথা বলে জানান, যে তার মনে হয়, যে সব হেভিওয়েট নেতা নেত্রীরা সেই দিনকে ওই স্বাস্থ্য শিবিরে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের সবারই করোনা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত। এমত অবস্থায় দুর্গাপুর যে এক বড় বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে তা বলাই বাহুল্য। আগামী দিনে যদি শিল্পাঞ্চলবাসীরা সতর্ক না হোন তাহলে সংক্রমণের সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।

অন্যদিকে হেলথ ওয়ার্ল্ড হাসপাতালের অন্যতম অধিকর্তা ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অরুণাংশু গঙ্গোপাধ্যায় একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে দাবি করেন তাদের হাসপাতাল থেকে সংক্রমণ ছড়ায়নি বলে। তিনি আর দাবি করেন তাদের হাসপাতালের পক্ষ থেকে ৯০ জনের করোনা পরীক্ষা জন্য নমুনা পাঠিয়েছিলান। তার মধ্যে দু’জনের করোনা পজিটিভ এসেছে, বাকি ৮৮ জনের করোনা পরীক্ষা নেগেটিভ এসেছে। দুর্গাপুরের মানুষের কাছে সোশাল মিডিয়া-সহ মুখে মুখে গুজব না ছড়ানোর আবেদন করলেন তিনি। দুর্গাপুর পুলিশের পক্ষ থেকে ডি.সি.পি অভিষেক গুপ্তা জানিয়েছেন দুর্গাপুরের সব সোশাল মিডিয়াতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই অনেকেই যারা গুজব ছড়িয়েছে তাদের মধ্যে দু-তিন জনকে থানায় ডাকা সাবধান করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here