বর্ধমান স্টেশনের ৪ নম্বর প্লাটফর্মে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় নড়েচড়ে বসল রেল দপ্তর একাধিক নয়া পরিকল্পনা

0
905

মান্তু কর্মকার, বর্ধমান:- শুক্রবার বিকেলে বর্ধমান স্টেশনের ৪ নম্বর ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সিঁড়ি দিয়ে হুড়োহুড়ি করে নামার তাগিদে যে দুর্ঘটনা ঘটেছিল তার থেকে শিক্ষা নিল রেল দপ্তর। একাধিক পরিকল্পনাও নেওয়া হল। শুক্রবার তাড়াহুড়ো করে বর্ধমান স্টেশনের ৪ ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে পদপৃষ্ট হয়ে গুরুতর জখম হন প্রায় ১১ জন রেলযাত্রী। এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়ায় বর্ধমান স্টেশন এলাকায় একইসঙ্গে রেল দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতি ও যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে বড়োসড়ো প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দেয়। রেল দপ্তর সূত্রে জানা গেছে শুক্রবার বিকেল তিনটে দশ নাগাদ ৪ নম্বর প্লাটফর্মে দেওয়া হয় পুরুলিয়া লোকাল ট্রেন অন্যদিকে ৩টে ১৪ নাগাদ ৫ নম্বর স্টেশনে ঢোকে ডাউন পূর্বা এক্সপ্রেস। ৩টে বেজে ২০ মিনিটে পুরুলিয়া প্যাসেঞ্জার ছাড়ার ঘোষণা করা হয়। আর তারপরেই শুরু হয় ব্যাপক হুড়োহুড়।। ৪ নম্বর প্লাটফর্মে ২টি সিঁড়ি থাকলেও একটি সিড়িতে চলমান সিঁড়ি বসানোর কাজ চলতে থাকায় সেই স্মৃতি বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে একটি মাত্র সিঁড়ি খোলা ছিল এই দিন আর সেই দিক দিয়েই পূর্বা এক্সপ্রেসের প্যাসেঞ্জার উঠতে যান, অন্যদিকে ওপর থেকে প্যাসেঞ্জার নামতে থাকেন পুরুলিয়া যাওয়ার ট্রেন ধরার জন্য। এই সময় ব্যাপক ঠেলাঠেলি জেরে প্লাটফর্মে আছড়ে পড়েন প্যাসেঞ্জাররা। তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে অনেকেই পদপৃষ্ট হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। যাত্রীরা অভিযোগ করেন বর্ধমান রেল স্টেশনে ট্রেন আসা যাওয়ার ঘোষণা করা হয় একেবারে অন্তিম সময় হলে প্রতিদিন এই হুড়োহুড়ি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে উঠেছে। যাত্রীদের পক্ষ থেকে বারবার রেল দপ্তরকে জানানো সত্ত্বেও কোনো সুরাহা হয়নি। এদিকে শুক্রবার এর এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে রেল দপ্তর বর্ধমান স্টেশনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। এদিন জানান তারা বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন তার মধ্যে রয়েছে ট্রেনের ঘোষণা করার সময় সংক্রান্ত বিষয় তিনি জানিয়েছেন, সাধারণ ভাবে ঠিক সময়ে ট্রেনের ঘোষণা করতে হয় ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে। তবে শুক্রবারের ঘটনার পর জি আরপির পরামর্শ অনুসারে ৩টে বেজে ২০ মিনিটের পুরুলিয়া প্যাসেঞ্জার ৪ নম্বর প্লাটফর্ম এর পরিবর্তে ভিড়ের চাপ সামলাতে ৬ ও ৭ নম্বর প্লাটফর্মে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়াও ভাবা হচ্ছে, বর্ধমান স্টেশন মুখী রেল লোকাল ট্রেন গাংপুর স্টেশন ছাড়ার পর এই বর্ধমান স্টেশনে ঘোষণা করা হবে ওই ট্রেনটি এরপর কোন পথে করবেন এবং কোন পথে যাবে তা ঘোষণা করা হবে। এছাড়াও আরেকটি বিষয় নিয়ে ভাবা হচ্ছে সেটি হল কোন লোকাল ট্রেন আসার পর সহযাত্রীরা নেমে যাবার পর সিড়িতে উঠার যাবার পর ১০ মিনিট পরে ট্রেন কোথায় যাবে ঘোষণা করা হবে যাতে সিঁড়ি দিয়ে হুড়োহুড়ি করে ওঠানামা করা ঠেকানো যায়। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে বর্ধমান স্টেশনের প্লাটফর্মের ফুট ব্রিজের উপরে যে যে ডিসপ্লে বোর্ড রয়েছে সেগুলি কাজ না করায় নতুন করে ডিসপ্লে বোর্ড লাগানোর কাজ শুরু করা হবে। ওই আধিকারিক আরো জানিয়েছেন দুই থেকে আড়াই বছর ধরে পুরনো ডিসপ্লে পরিবর্তনের কাজ চলছে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ হওয়ার আশা রয়েছে এছাড়াও বড় ফুট ব্রিজের ওপর কাটোয়ার দিকে বড় জয়েন ডিসপ্লে লাগানোর কাজ শুরু হয়েছে। ওই আধিকারিক আরো জানিয়েছেন ইতিমধ্যেই বর্ধমান স্টেশনের ২ নম্বর ও ৩ নম্বর এবং 8 নম্বর প্ল্যাটফর্ম গুলিতে চলমান সিঁড়ি চালু হবে। বর্ধমান স্টেশনের ৪ ও ৫ নম্বরে এর কাজ শুরু হয়েছে আগামী ৬ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আগামী এক মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে। এছাড়াও ১ নম্বরের কাজ সবেমাত্র শুরু হয়েছে মোট চারটি চলমান সিঁড়ি ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সিঁড়িটি। শুক্রবার ওই সিড়িতেই দুর্ঘটনা ঘটেছে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সাধারণ সিঁড়িটি প্রায় ৪ ফুট চওড়া। ওই আধিকারিক জানিয়েছেন আরও ৬টি নতুন চলমান সিঁড়ি যা ওঠানামার জন্য তৈরি করার পরিকল্পনা হয়েছে। ফলে, মোট ১০টি চলমান সিঁড়ি চালু হয়ে গেলে যাত্রীদের যে চাপ তা অনেকটাই কমবে বলে আশা করেছেন তারা। বর্ধমান স্টেশনের ওই আধিকারিক জানিয়েছেন প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষ যাত্রী যাতায়াত করে বর্ধমান স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪৪ জোড়া ট্রেন যাতায়াত করে বর্ধমানের ওপর দিয়ে। এদিকে, শুক্রবারের দুর্ঘটনার পর শনিবার থেকে অতিরিক্ত জি আর পি ও আর পি এফ এর ফোর্স বাড়ানো হয়েছে। এরপর থেকে তারা গোটা স্টেশন জুড়ে দাঁড়িয়ে থাকবেন বিশেষ করে ২,৩ , ৪ ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের যে সিঁড়ির মুখে ও সিড়ির মাঝ বরাবর তারা ডিউটি করবেন এই বিষয়ে আর পি এফ নিজেও আলাদা করে প্রচার করছেন যাতে যাত্রীরা ওঠার সময় বা নামার সময় বা দিক ব্যবহার করেন সিঁড়ি থেকে ওঠা নামার জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here