কোয়ারিন্টিন সেন্টার করা নিয়ে এবার রণক্ষেত্র কবি নজরুলের জন্ম ভূমি চুরুলিয়ায়

0
2543

সংবাদদাতা, আসানসোলঃ- কোয়ারিন্টিন সেন্টার করা নিয়ে এবার রণক্ষেত্র কবি নজরুলের জন্মস্থান চুরুলিয়ায়। আসানসোলে পরপর দুই রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে মহকুমার সেই সমস্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা লোকজন এদের কোয়ারিন্টিন সেন্টার পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন। সেই মোতাবেক কবি নজরুলের জন্ম ভূমি চুরুলিয়ায় রাজ্য সরকারের একটি যুব আবাস আছে। সেই যুব আবাসকে আসানসোলের কোয়ারিন্টিন সেন্টার করার চিন্তা করা হয় জেলা প্রশাসন থেকে। সেখানে আপাতত ২৫ জন আসানসোলবাসী রোগীকে কোয়ারিন্টিন করে রাখা হয়েছে। কোয়ারিন্টিন সেন্টার কেন চুরুলিয়া করা হলো তা নিয়ে উত্তাপ ছড়াতে থাকে জনগণের মধ্যে।

মঙ্গলবার সকালে পুলিশের একটি গাড়ি যখন কোয়ারিন্টিন সেন্টারে থাকা রোগীদের জন্য খাবার নিয়ে যায়, সেই সময় চুরুলিয়া গ্রামের চৌধুরী পুকুরের কাছে উত্তেজিত জনতা গাড়িটিকে আটকায় ও ভাঙচুর চালায়। ছুঁড়ে ফেলা হয় রোগীদের জন্য থাকা খাবার-দাবার। এর কিছুক্ষণ পরেই জামুরিয়া থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী দ্বিতীয়দফায় খাবার নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বেলা সাড়ে নটা নাগাদ সেই গাড়িটিও আক্রান্ত হয়। এই আক্রমণে ৬ জন পুলিশ কর্মী গুরুতর ভাবে আহত হন এবং গাড়িটি ভাঙচুর করা হয়।

এরপরেই কালবিলম্ব না করে জামুরিয়া থানা থেকে উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তাদের কাছে খবর পাঠানো হয় ও সাহায্য চাওয়া হয়। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এর পক্ষ থেকে দ্রুত নামানো হয় রেপিড অ্যাকশন ফোর্স। এ পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুসারে প্রায় ২০ রাউন্ড গুলি চলেছে ও আক্রান্ত হয়েছেন বেশ কিছু যুব তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী ও নেতাদের বাড়ি ও চুরুলিয়ায়। কয়েকশো উত্তেজিত জনতা এই আক্রমণ চালিয়েছে তাই চুরুলিয়ায় থাকা পুলিশ ক্যাম্পটি ও আর নিরাপদ নয়।

পুলিশের সাথে জনতার খন্ড যুদ্ধ শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে জামুরিয়া থানার ওসি সুব্রত ঘোষ ও আক্রান্ত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রানীগঞ্জের রয়েল কেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। চুরুলিয়ার পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ। বেছে বেছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের বাড়ি চড়াও হয়েছে আক্রমণ করেছেন চুরুলিয়ার শেখপাড়া, সাহপাড়া ও রুইদাস পাড়ার লোকেরা বলে এখন পর্যন্ত খবর পাওয়া গেছে। এই সম্পূর্ণ ঘটনার পেছনে ইন্ধনে রয়েছে চুরুলিয়ার ভট্টাচার্যী পাড়া , রুইদাস সাহপাড়ার লোকেরা বলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে।
একটি ফেসবুক পোস্ট কে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা বলে জানা গেছে। উক্ত ওই পোস্টটি করেছিলেন চুরুলিয়ার এক বাসিন্দা যিনি আসানসোল পৌরসভায় কর্মরত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here