দলের ভিতর ধমকি, গালাগালি, কু-কথায় বিস্তর অস্বস্তিতে রাজ্য বিজেপি

0
413

বিশেষ প্রতিনিধি কলকাতা :- কি ঘটছে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে? কিসের অসন্তোষ প্রায় প্রতিদিন দলের জেলা নেতাদের। হয় দল বদল নয় পারস্পরিক কাদা ছোঁড়া। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ অবশ্য এসবকে বিশেষ আমল না দিয়ে ঘনিষ্ট মহলে বলেছেন “দল বড় হচ্ছে। একটু আধটু ছোটখাট সমস্যা তো হতেই পারে।”
বাঁকুড়ায় গত কয়েকদিন ধরে আট মিনিটের একটি অডিও ক্লিপ নিয়ে দারুণ অস্বস্তিতে বিজেপি। ওই ক্লিপে দলের সাংগঠনিক জেলা সম্পাদক বিবেকানন্দ পাত্র আর ছাতনা তিন নম্বর মণ্ডল সভাপতির উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে যে সব হুমকি, শাসানি ও ধমক এখন সেখানে জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে মুখ পড়েছে বিজেপির। বিবেকানন্দকে বলতে শোনা যাচ্ছে ” আমাকে কেউ পদ থেকে সরাতে পারবে না।” পাশাপাশি সদ্য নিযুক্ত যুব মোর্চার রাজ্য সহ সভাপতি সৌভিক পাত্র সম্পর্কে তিনি হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন “ওকে আমার জেলায় কাজ করতেই দেব না।” বিষয়টি নিয়ে ছাতনা তিনের মণ্ডল সভাপতি সিদ্ধেশ্বর কুণ্ডু বলেন ” হ্যাঁ উনি খুব উদ্ধতভাবে ধমকেছেন আমাকে। এটা নিয়ে যা বলার দল বলবে।” বিবেকানন্দ আবার বলছেন “ওকে ধমক দেওয়ার দরকার ছিলো। তাই যা বলার বলেছি। এটা দলীয় ব্যাপার।”
বাঁকুড়ার তর্জা ঠান্ডা না হতেই দলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় দল সম্পর্কে কড়া সমালোচনা করে পোস্ট করে বসলেন পরেশ চন্দ্র দাস। অবসর প্রাপ্ত ওই আমলা বর্ধমান (পূর্ব) লোকসভা আসনে বিজেপি প্রার্থী ছিলেন ২০১৯-এ। তাঁর বিতর্কিত পোস্টে তিনি লেখেন” বিভিন্ন জেলায় যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের অনেকেই মানুষের সাথে সম্পর্কহীন এবং নানা ধরনের অসামাজিক ও অসৎ কাজে লিপ্ত। এসব কি রাজ্য নেতৃত্ব জানেন না? পাশাপাশি তিনি দলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়ে প্রশ্ন তোলেন” মুসলমানদের বিষয়ে দলের স্ট্র্যাটেজি কি? তাঁরা কি অচ্ছুৎ নাকি ? মুসলমানরা কি সরকার গঠনে অংশগ্রহণ করবে না? “দল যখন এ রাজ্যে সংখ্যালঘু মোর্চাকে তুলে ধরতে চাইছে, তখন পরেশের এই খোঁচায় সমস্যায় বিজেপি। কারন দলেরই একাংশ জানিয়েছেন, “মুসলমানদের তুষ্ট করতে ধরি মাছ না ছুঁই পানি ‘ নীতি নিয়ে চলতে গিয়ে আদতে বেকায়দায় পড়েছে বিজেপি। কেউ ঠিকঠাক জানেন না – আদতে মুসলমানদেরকে দলের মূল স্রোতে নেওয়া হবে, নাকি’ অচ্ছুৎ ‘ করেই শাক দিয়ে মাছ ঢাকা হবে।” কারন মাত্র এক সপ্তায় আগেই, বিজেপি তে মুসলমানদের প্রতি অবস্থার অভিযোগ তুলে দল ছাড়েন বর্ধমানের এক সময়ের দাপুটে সিপিএম নেতা আইনুল হক। গত ২০১৯ লোকসভা ভোটের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। তাঁর বিজেপি তে আসার নেপথ্যে ছিল বর্ধমান – দুর্গাপুরের সংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়ার আগ্রহ। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও আইনুলের বিষয়ে যথেষ্ঠ আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু দলীয় সূত্রের খবর, বিজেপির সর্ব ভারতীয় সম্পাদক কৈলাশ বিজয় বর্গীয়া আইনুল হককে মাথায় তুলতে আপত্তি করেছিলেন মেরুকারণের রাজনীতির দারুণ। আইনুলের পরই একই প্রশ্নে দলকে বিঁধে পরেশ ফের উস্কে দিলেন দলের মৌলিক অবস্থান প্রসঙ্গ।

এরই মাঝে আসানসোলেও বিজেপির অন্দরে বিস্তার কলহ। দলের আসানসোল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি লক্ষণ ঘোড়ই আর সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়’র দ্বন্দ্ব প্রায়ই প্রকাশ্যে এসে পড়ছে। বাবুলের নিজস্ব নেট ওয়ার্ক জেলা কমিটির পাশাপাশি স্বতন্ত্র একটা ব্যবস্থা চালিয়ে যাচ্ছে, বলে দলের কাছে একাধিকবার ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ঘোড়ই। এরই মাঝে বিজেপি ছেড়ে অন্য দলে মূলতঃ তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের একটা হিড়িক দেখা যাচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুরের খড়্গপুরে চার জেলা নেতা শৈলেনদ্র সিং, সজল রায়, অজয় চ্যাটার্জি, রাজদীপ গুহ বুধবারই তৃণমূল ভবনে এসে ঘাষ ফুলে যোগ দিলেন পদ্ম ছেড়ে। যেমনি গত সপ্তাহে পূর্ব বর্ধমানের গালসি বিধানসভার দু’বারের প্রার্থী সুন্দর পাশোয়ান বিজেপি’ কে তৃণমূলের ‘বি’ টিম তকমা দিয়ে দল ছাড়েন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here