প্রেমিকের আত্মহত্যায় সভাধিপতির বিরুদ্ধে প্ররোচনা, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দায়েরঃ বর্ধমানে

0
616

সংবাদদাতা, বর্ধমানঃ- শেষ পর্যন্ত প্রাক্তন প্রেমিক কে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ দায়ের-ই হয়ে গেল জেলা পরিষদের সভাধিপতির বিরুদ্ধে। শুক্রবার দুপুরের পর এই নিয়ে বিস্তর চাঞ্চল্য বর্ধমান আদালত চত্বর থেকে জেলা পরিষদ কার্যালয়, সর্বত্রই।
যদি ও, সভাধিপতি শম্পা ধাড়া, মামলা রুজু হয়ার পর নিজের মুখে শুধু বলেছেন, “অবাস্তব অভিযোগ। আমি এখনো কোনো আইনি নোটিশ পাইনি। পেলে দেখা যাবে”।
পূর্ব বর্ধমানের খন্ডঘোষ থানা এলাকার দুবরাজহাট গ্রামের যুবক পবিত্র ঘোষ গত ১৩ জানুয়ারি বিষ পান করে আত্মঘাতী হন। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া’র সাথে তার প্রনয়ের সম্পর্ক ছিল দীর্ঘদিন। আত্মঘাতী যুবক তার স্যুইসাইড নোটে বার বার শম্পা’র সাথে তার গভীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে এও দাবি করেন- তার হেপাজতে থাকা তাদের প্রনয়ের গোপন নথি কেড়ে নিতে শম্পা কিছু গুন্ডা ও জেলা পরিষদের ঠিকাদার কে সাথে নিয়ে তার বাড়ী চড়াও হয়েছিলেন। একটি পেন ড্রাইভে শম্পা সম্পর্কিত কিছু ‘গোপন নথি’ রাখা আছে। পেশায় বেসরকারি পশু চিকিৎসক পবিত্র তার মৃত্যুকালীন জবানবন্দীতে স্পষ্ট লিখে যান- জেলা পরিষদের এক ঠিকাদার অতনু গুপ্ত, খন্ডঘোষের ই কাপশিট গ্রামের এক বাহুবলী প্রসাদ ঘোষ কে সাথে নিয়ে তার বাড়ীতে গিয়ে তাকে ও তার পরিবার কে “উড়িয়ে দেওয়ার” হুমকি দিচ্ছিলেন।
শুক্রবার বর্ধমানের মুখ্য দায়রা আদালতে শম্পা সহ তার শাগরেদ অতনু গুপ্ত ও তার মিডিয়া ম্যানেজার জয় বসু এবং প্রসাদ ঘোষের নামে আত্মহত্যার প্ররোচনা, অপরাধ মূলক ষড়যন্ত্র এবং সন্মিলিত ভাবে একই উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া (৩০৬, ১২০- বি এবং ৩৪ আই.পি.সি) র মামলা রুজু হয়। মুখ্য দায়রা বিচারপতি রতন কুমার গুপ্তার এজলাশে মামলাটি উঠতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় আদালতে। অভিযোগ টি দায়ের করেছেন পবিত্র’র মা কল্পনা ঘোষ। তার আইনজীবি স্বপন বন্দোপাধ্যায় বলেন, “ওই যুবক কে যে ভাবে দিনের পর দিন মানসিক নির্যাতন, হুমকি দেওয়া হচ্ছিল, তাতে ভেঙে পড়েই যে সে আত্মঘাতী হয়েছে, তার যথেষ্ট প্রমান, নথি আমাদের হাতে এসে গেছে”। গোড়ায় খন্ডঘোষ থানা শম্পার বিরুদ্ধে অভিযোগ নথিভুক্ত করতে বার বার অস্বীকার করেছে বলে ও পরিবারের অভিযোগ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here