এশিয়া মহাদেশে প্রথম এই রাজ্যে কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্রজ রায়ের দেহ অটোপ্সি হচ্ছে আজ

0
488

সংবাদদাতা, কলকাতা ও দুর্গাপুরঃ- দেশে তথা রাজ্যে এই প্রথম কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির দেহ অটোপ্সি হচ্ছে। করোনাক্রান্ত হয়ে মৃতদের ক্ষেত্রেও এই অটোপ্সির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বিশ্বের অনেক দেশ, তা করছেও। কিন্তু, এই রাজ্যে তথা দেশে এই ধরনের অটোপ্সি এর আগে করা হয়নি ।

একটি সূত্র মারফত জানা গেছে আজ শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গে প্রথম কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত ব্যক্তির প্যাথলজিক্যাল অটোপ্সি হতে চলেছে আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। করোণা আক্রান্ত রোগীর অটোপ্সি করা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা ছিল আই.সি.এম.আরের । কিন্তু গত অক্টোবর মাসে আই.সি.এম.আর একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে করোণা আক্রান্ত রোগীর অটোপ্সি বিধি নিষেধ প্রত্যাহার করে নেন । সেই আদেশের ওপর ভর করে ডাক্তারদের একটি বিশেষ দল আজকেই আই.সি.এম.আরের গাইডলাইন মেনে ‘মেডিকেল প্যাথলজিক্যাল অটোপ্সি’ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ব্রজবাবুর দেহের। সম্ভবত আজ দুপুরেই অটোপ্সি করা হবে ব্রজবাবুর দেহের।

এই বিষয়ে দুর্গাপুরে বামপন্থী আন্দোলনের প্রথম সারির শ্রমিক নেতা সৌরভ দত্ত জানান, ” ২০ বছরেরও আগে ব্রজদা’র কাছেই পড়েছিলাম, যে কোনো মৃত্যুতেই (দুর্ঘটনা, খুন, আত্মহত্যা ছাড়াও) প্রয়োজন ‘প্যাথলজিকাল পোস্টমর্টেম’ বা অটোপ্সির। এর থেকেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা যায় এবং পরবর্তীতে রোগীদের সঠিকতর চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়। কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃতদের ক্ষেত্রেও এই অটোপ্সির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। বিশ্বের অনেক দেশ, তা করছেও। কিন্তু, এই রাজ্য তথা দেশ যেহেতু শুরু থেকেই করোনা-কেস লুকোতেই ব্যস্ত ছিলো, ব্যস্ত ছিলো নিজেদের দায় ঝেড়ে ফেলাতে, তাই বহু কিছুই করে নি, বহু দাবিই মানে নি, তার মধ্যে এই দাবিও ছিলো (করোনাক্রান্তের মৃতদেহের অটোপ্সি)। শ্রমিক, মানবাধিকার ও বিজ্ঞান আন্দোলনের একজন কর্মী হিসেবে,’মুক্তচিন্তা দুর্গাপুর’- এর সম্পাদক হিসেবে আমি ৮ এপ্রিল, ২০২০ তে একটি চিঠি রাজ্যের মুখ্যসচিবকে দিই আইনজীবী সব্যসাচী চ্যাটার্জি ও গণদর্পণের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত সাহারায়ের পরামর্শ ক্রমে। ওই চিঠিতে আরও অনেক দাবির সাথে এই প্যাথলজিকাল পোস্টমর্টেমের দাবিটিও জোরের সাথে উত্থাপন করি। অবশেষে এই রাজ্য তথা দেশে মরণোত্তর দেহদান ও অঙ্গদানের পথিকৃৎ, বিজ্ঞানকর্মী ব্রজদার মৃত্যুর পরে তাঁর দেহ দিয়েই কাজটা শুরু হলো। যেটা না হ’লে বিজ্ঞান হেরে যেতো, অবশেষে তা করা গেলো ব্রজ রায় দা নিজে। ধন্যবাদ রাজ্যের বর্তমান স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তাকে। তাঁর সদর্থক ভূমিকা এক্ষেত্রে অনেকটা কাজে লেগেছে। এই দুঃখের সময়েও এই তৃপ্তি বুকে রইল।”

এই প্রসঙ্গে গণদর্পণ যে বিবৃতিটি দিয়েছে, “আজ ব্রজ রায়ের মরদেহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতাল থেকে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রোগ নির্ণায়ক ময়না তদন্ত হয়। করোনায় মৃত মানুষের এই পরীক্ষা হয়। যা এশিয়া মহাদেশে প্রথম । এরপর দেহ সরকারি ব্যবস্থাপনায় সৎকার করা হবে। এই ব্যবস্থার দাবি ব্রজদা দীর্ঘদিন করে এসেছেন। আজ ব্রজদার দেহ দিয়েই এই মহাদেশে সম্ভবত প্রথম প্যাথলজিক্যাল অটোপসি হতে চলেছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক মাইল ফলক। রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের পূর্ণ সহযোগিতায় এই কাজ হতে চলেছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here