দুর্গাপুরে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু , বেসরকারি হাসপাতালের ২ জন চিকিৎসক সহ ২৭ জনকে কোয়ারিন্টিনে

0
25112

নিজস্ব সংবাদদাতা ,দুর্গাপুরঃ- মারণ রোগ করোনা ভাইরাসের দাপট দেশজুড়ে চলছে। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকার সমস্ত মানুষজনকে ঘরে গৃহবন্দী থাকার আবেদন বহুদিন ধরেই করে আসছে। কিন্তু এত কিছুর পরও মানুষজন এই মহামারী করোনা ভাইরাস রোগ কে উপেক্ষা করে দেদার ঘুরে বেড়াচ্ছেন রাস্তাঘাটে, হাটে-বাজারে, মানছেন না সোশ্যাল ডিস্টেন্সসিং এর নিয়ম। দেশে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যেই বহু মানুষকে পাঠানো হয়েছে সরকারি কোয়ারিন্টিন সেন্টারে।

গত বুধবার বিকেলে দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক একটি রিপোর্টে জানিয়েছিলেন এ পর্যন্ত দুর্গাপুর সাব ডিভিশন এলাকায় ৩২৩ জনকে কোয়ারিন্টিন করা হয়েছে। মহকুমা শাসক আরো জানান দুর্গাপুর পৌরসভা এলাকায় ১১৭ টি কোয়ারিন্টিন সেন্টর তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু দুর্গাপুর সাব ডিভিশন এলাকায় এখনো পর্যন্ত কোন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর খবর নেই।

এরই মধ্যে হঠাৎ দুর্গাপুর শহরজুড়ে করোনা আতঙ্কের ছায়া ঘনীভূত হল। দুর্গাপুরের বেসরকারি একটি হাসপাতাল সূত্রের খবর থাকে জানা গেছে আসানসোলের এক ইউনানী চিকিৎসক (৭১)বছর বয়সের ব্যক্তি যিনি জাহাঙ্গীর মহোলায় তার একটি চেম্বার চালাতেন, দুর্গাপুরের সনোকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে / কভিড-১৯ হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে গত রাত্রে। আদতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা হল পেশায় ইউনানী চিকিৎসক ৭১ বছরের ওই বৃদ্ধ আসানসোলে চেম্বার করতেন। জানা গেছে ওই ব্যক্তি ৯ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। কিন্তু তিনি তাও পেশার তাগিদে সাধারণ রোগীদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন জাহাঙ্গীর মহোলায় আসানসোলে। চার দিন আগে তার শ্বাসকষ্ট জনিত অসুবিধা হওয়ায় তাকে কার্ডিওভাস্কুলার ইউনিট দুর্গাপুর মিশন হসপিটালে ভর্তি করা হয়। মৃত ব্যক্তির পুত্র জানান ” ৯ দিন ধরে বাবার জ্বর আসছিল। তার মধ্যেও তিনদিন চেম্বার করেছেন। একথা আমরা দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালের সুপার বাবাকে পরীক্ষা করে বললেন বাবার হূদযন্ত্রে গোলমাল রয়েছে, তাই জ্বর, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। ” চারদিন আগে বৃদ্ধকে আনার পর গোড়ায় ‘মিশন হাসপাতাল’ রোগীর উপসর্গ দেখে ভর্তি নিতে চাননি। একটি সূত্র থেকে পাওয়া খবরের প্রকাশ হাসপাতাল সুপারই ওই রোগীকে যেচে ভর্তি করেন।

দুর্গাপুর মিশন হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন তার করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ায় তার সোয়াব টেস্ট করতে পাঠানো হয়। সেই রিপোর্ট পজিটিভ আসতেই ওই করোনা আক্রান্তকে রাজ্য সরকারের নির্ধারিত দুর্গাপুরের সনোকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে/ কভিড-১৯ এর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় গতকাল বিকেল। হাসপাতালের একটি সূত্রে খবর ওই ব্যক্তির বৃহস্পতিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন, তার মৃত্যু হয়েছে রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ।

এই ঘটনা জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা দুর্গাপুর মিশন হাসপাতালের ২ চিকিৎসক, ৫ জন নার্স সহ প্যারামেডিক্স, অ্যাম্বুলেন্সের চালক সহ ২৭ জন ব্যক্তিকে ইতিমধ্যেই কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে ওই ব্যক্তির বাড়ির লোকজনকেও কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। দুর্গাপুর মিশন হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ওই ব্যক্তি ও তার পাশে অন্যান্য রোগীও ছিলেন। এমনকি অন্যান্য রোগীকে দেখতে তাদের বাড়ির লোকজনও হাসপাতালে এসেছিলেন তাদের কি হবে সটি সবার অজানা।

দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে করোনা আক্রান্তের মৃত্যুর এই খবর আগুনের মতন ছড়িয়ে পড়ে। দুর্গাপুরের সাধারণ জনগণের মধ্যে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক আরো গভীর ও প্রকট ভাবে ছড়িয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডক্টর দেবাশিষ হালদার জানান “নাইসেড থেকে পুরো বিষয়টির রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃতের দেহ পরিবারকে দেওয়া হবে কি-না, সেটা ঠিক করা হবে “। যদিও রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর বা দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের কাছে থেকে এখনো এই ঘটনা আধিকারিক ভাবে সংবাদিকদের বলা বা জানানো হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here