মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কোভিড আক্রান্ত মৃতদেহ পোড়ানোর জন্য ক্যানিংয়ে বানানো হল প্রথম ইলেকট্রিক চুল্লীর শ্মশান

0
724

সংবাদদাতা, ক্যানিংঃ- কোভিড আক্রান্ত মৃতদেহ পোড়ানোর জন্য এবার একটি শ্মশান কে পুরোপুরি তৈরি করা হলো মাতলা নদীর পাড়ে। নতুন এই ইলেকট্রিক চুল্লির শ্মশান ক্যানিং শহরে বানানো হয় বেশ কয়েকমাস আগেই। শুধু জেলা নয় কলকাতা শহরের এবং আশপাশ এলাকার মৃত দেহকে এখানে পড়ানো সম্ভব হবে। হলে কোভিড আক্রান্ত মৃতদেহ নিয়ে হয়রানি যথেষ্ট কমবে এমনটাই মত প্রশাসনের। এ বছরে জানুয়ারি মাসের সাত তারিখের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাথরপ্রতিমা থেকে এই ইলেকট্রিক চুল্লির উদ্বোধন করেন। তারপর মার্চ মাসের ২৬ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে চুল্লিটি উদ্বোধন করার পরিকল্পনা ছিল প্রশাসনের। কিন্তু  ভারতবর্ষজুড়ে লকডাউন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কারণে এই চুল্লিটির কোন রকম ব্যবহার হয়নি। হলে সম্পূর্ণ তৈরি হওয়ার পরও চুল্লিটি পড়েছিল অব্যবহৃত অবস্থায়।ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনকে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ দিয়েছেন অতি দ্রুত চুল্লিটি কে কোভিড আক্রান্ত মৃতদেহ পোড়ানোর জন্য তৈরি করার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে তড়িঘড়ি জেলা প্রশাসনের কর্তারা এই চুল্লি টিকে মঙ্গলবার পরিদর্শন করেন। এরপর করোনা আক্রান্ত মৃতদেহ গুলি পড়ানোর ব্যাপারে সবুজসংকেত দেন বিশেষজ্ঞরা । সেই সবুজ সংকেত পাওয়ার পর এ দিন থেকেই এই চুল্লির শুরু করে দিল। এ বিষয়ে ক্যানিং পশ্চিমের বিধায়ক শ্যামল মন্ডল বলেন,” এই চুল্লি বানাতে খরচা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা। শুধু ইলেকট্রিক চুল্লি নয় আশপাশ এলাকার সৌন্দর্যায়ন রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। আপাতত শুধুমাত্র কোভিড আক্রান্ত মৃতদেহই এখানে পড়ানো হবে। সমস্যা মিটে গেলে পরবর্তীতে অন্যান্য মৃতদেহও পড়ানো যাবে।”
এতদিন সুন্দরবন তথা এই সমস্ত এলাকার মৃত দেহ ইলেকট্রিক চুল্লিতে পড়ানোর জন্য সোনারপুর, বারুইপুর, বিষ্ণুপুর অথবা কলকাতায় নিয়ে যেতে হতো। না হলে কাঠে পোড়াতে হতো গ্রামের মধ্যেই। এবার সেই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে এই এলাকার মানুষজন। করোনা প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকেই কলকাতা ও শহরতলীর বিভিন্ন শ্মশানে বাইরের মৃতদেহ পড়ানোর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় পুরসভা গুলি। ফলে এলাকারই মৃতদেহগুলোকে এলাকায় পড়াতে হচ্ছে। কিন্তু বহু মানুষের পারিবারিক পরম্পরা আছে নির্দিষ্ট শ্মশানে পোড়ানোর। করোনার কারণে বিঘ্নিত হয়েছে সেই পরম্পরা। ক্যানিংয়ের এই ইলেকট্রিক চুল্লিটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্যানিং ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির হাতে। ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে তাই পুরো পরিষেবা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে পরিকাঠামো। এ বিষয়ে ক্যানিং ১ নম্বর ব্লকের বিডিও নিলাদ্রি শেখর দে বলেন, ইতিমধ্যেই আটজনকে নিয়োগ করা হয়েছে এই বৈদ্যুতিক চুল্লি চালানোর জন্য যার মধ্যে দুজন ইলেকট্রিশিয়ান ও ব্রাহ্মণ আছেন। তবে মৃতদেহের পরিবার যদি অস্থি কলস চায় সেই ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে তা দেওয়া সম্ভব কিনা তা নিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রতিটা মৃতদেহ কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন মেনেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে। ইতিমধ্যেই ক্যানিংয়ে তৈরি করা হয়েছে কোভিড হসপিটাল। হসপিটাল থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে তৈরি করা হল শ্মশান।ফলে মৃতদেহ শ্মশানে নিয়ে যেতে গেলে পুরোপুরি জনবসতিকে এড়িয়ে শ্মশানের দেহ নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে সংক্রামণে ছড়ানোর ঝুঁকি কমবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here