মোহন বাগান সেল ফুটবল একাডেমীর অনুশীলনের মাঠ এখন আবাধ গোচারণ ভূমি

0
463

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- সারাদেশ যখন ফিফা কাপের উত্তেজনায় থরথর করে কাপছে , তখন শহর দুর্গাপুরে কেন্দ্রীয় সরকারি এবং কলকাতার নামী ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা ফুটবলার তৈরীর কারখানায় চলে বেড়াচ্ছে গবাদি পশু। একটা সময় ছিল, যখন ভারতের ফুটবলের বিকাশ অচল অবস্থায় ছিল। হারানো গর্ব এবং ভারতীয় ফুটবলের গৌরব ফিরিয়ে আনতে ২০ জুলাই ২০০২ এ দুর্গাপুরে নিজস্ব আবাসিক একাডেমী স্থাপন করে মোহন বাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব। মোহন বাগান সেল ফুটবল একাডেমী ভারতকে ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার লক্ষ্য বেশি সংখ্যক তরুণ প্রতিভাকে মূল স্রোতে আনার জন্য চেষ্টা করে। মোহুনবাগান সেল ফুটবল একাডেমীর প্রাথমিক লক্ষ্যটি ছিল ফুটবলের আধুনিক কৌশল, শারীরিক ও মানসিক কন্ডিশনিং এবং সম্পর্কিত ইনপুট গুলি ব্যবহার করে সর্বোত্তম প্রশিক্ষণ সহ “দ্য ইয়ুথ স্পট এন্ড গ্যউম”, যাতে অদূর ভবিষ্যতে ভারত তাদের দেখতে পায় জাতীয় প্ল্যাটফর্ম।

গত কয়েক বছর মোহন বাগান সেল ফুটবল একাডেমী মনীশ ভরগব (মোহুনবাগান এসি), রাম মালিক (মোহুনবাগান এসি), দিপেন্দু দোয়ারি (ভবানীপুর স্পোর্টিং ক্লাব), সৌভিক চক্রবর্তী (মোহুনবাগান এসি, ইউনাইটেড স্পোর্টস ক্লাব, দিল্লি ডায়নামোস), জামশেদপুর এফসি, শঙ্কর ওরাওন (মোহুনবাগান এসি), সাফার সরদার (পূর্ব বাংলা), ভাসুম (পূর্ব বাংলা, টিআরএইউ এফসি), প্রনয় হালদার (ডেম্পো এসসি, মোহুনবাগান এসি, ভারত জাতীয় দল), তীর্থঙ্কর সরকার (মোহুনবাগান এসি) , সঞ্জয় বোরো (অসম বিদ্যুৎ বোর্ড), আরঘা চক্রবর্তী (মহুন বাগান এসি), সৌরভ চক্রবর্তী (ভবানীপুর এসসি), টি.লালনুন পুইয়া (রংদাজিড এফসি), অমিত সাহা (রংদাজিদ এফসি), আদর্শ লামা তামাং (মোহুন বাগান এসি), সুদীপ্তা ব্যানার্জি (ভবানীপুর স্পোর্টিং ক্লাব) এবং আরও অনেক যারা এখন ভারতীয় ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করছেন তারা মোহুন বাগান সেল ফুটবল একাডেমীর ক্যাডেট ছিলেন । এবং তাদের জন্য গর্ব বোধ করে ভারতীয় ফুটবল।

প্রগতিশীল শহর দুর্গাপুরকে মোহন বাগান সেল ফুটবল একাডেমীর কেন্দ্র হিসাবে শুরু করে। সজ্জিত অতিথিশালা, হোটেল সহ সর্বোত্তম সম্ভাব্য সুবিধাসমূহের সাথে খেলোয়াড়দের জন্য একটি অনুশীলনের মাঠ ছিলো টেগোর হাউসে। দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট আধুনিক ও আরামদায়ক সুবিধাগুলি দিয়ে ছিলেন খেলোয়াড়দের জন্য। কিন্তু সেই মোহন বাগান সেল ফুটবল একাডেমীর অনুশীলনের মাঠ এখন আবাধ গোচারণ ভূমি ।

দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর প্রাণকেন্দ্র বিখ্যাত প্রিয়দর্শিনী ইন্দিরা সরণির রাস্তার ধারে সুসজ্জিত টেগোর হাউসে রয়েছে মোহন বাগান সেল ফুটবল একাডেমীর অফিস ও অনুশীলনের মাঠ । সেখানে গিয়ে দেখা গেল অনুশীলনের মাঠে গোচারণ ভূমি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবাধে চরে বেড়াচ্ছে গরু-মোশ/গবাদি পশু। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভেঙে পড়েছে গোলপোস্টের বার গুলিও। বড় বড় ঘাসে ঢেকে গেছে গোটা মাঠ। দেখে সহজেই অনুমান করা যায় যে বহুদিন ধরে অব্যবহৃত হিসেবে পড়ে রয়েছে এই খেলার মাঠটি।

অন্যদিকে মোহন বাগান সেল ফুটবল একাডেমীর অফিস ঘরের সামনে রয়েছে একটি অ্যাম্বুলেন্স । সহজেই দেখে অনুমান করা যায় যে বহুদিন না ব্যবহার করার জন্য অ্যাম্বুলেন্সটি এখন ফাটা চাকা, রং বিহীন ও বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সের গায়ে জ্বলজ্বল করছে মোহন বাগান সেল ফুটবল একাডেমীর নাম। মোহন বাগান সেল ফুটবল একাডেমীর টেগোর হাউসের মূল কার্যালয়টি ও বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে বহুদিন ধরে। একজন কেয়ারটেকারের দায়িত্বে রয়েছে শুধুমাত্র অফিস ঘর ও সংলগ্ন এলাকা। মোহন বাগান সেল ফুটবল একাডেমীর একাধিক খেলায় অর্জিত মান পত্র ও স্মারক গুলো পড়ে পড়ে ধুলো খাচ্ছে অফিস ঘরের বাইরে। মোহন বাগান সেল ফুটবল একাডেমী এলাকাগুলি এখন দেখে মনে হয় ভূতের বাসা। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচা করে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা ও মোহনবাগান ক্লাব যে স্বপ্ন নিয়ে এখানে এই একাডেমী টির শুভ আরম্ভ করেছিল তা আজ ভগ্নদশায় । কিন্তু কেন? এই বিষয়ে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার জনসংযোগ বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের ফুটবলপ্রেমী মানুষদের অভিযোগ সাধারণ মানুষের করের টাকায় তৈরি এই মোহন বাগান সেল ফুটবল একাডেমীর এই ভগ্নদশার পেছনে যারা রয়েছে তাদের অবিলম্বে শাস্তি হওয়া দরকার ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here