সাপের কামড়ে মৃত্যু কমাতে এবার সাপ চেনাতে গ্রামে গ্রামে বনদপ্তর

0
1334

বিশেষ প্রতিনিধি, পুরুলিয়াঃ- চেনা-অচেনা সাপের দাপটে বাড়ছে দিন দিন দক্ষিনবঙ্গের জেলাগুলিতে। তবে, সমস্যাটা গভীর হচ্ছে নির্বিষ সাপকেও বিষধর বলে পিটিয়ে মারার দরুন, সঙ্কট বাড়ছে এলাকার জীব বৈচিত্রে।
কোনটা বিষধর, কে নির্বিষ-তা সঠিক ভাবে সাধারন গৃহস্থদের চিনিয়ে দিতে উদ্যোগ নিল বনদপ্তর। শুধু তাই নয়, ছবি দেখিয়ে সাপ চেনার পাঠ দেওয়ার পাশাপাশি, সাপ কামড়ালে কি কি করনীয়, প্রয়োজনে সাপ কি ভাবে ধরা যাবে হাতে – কলমে এবার সে সবও শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে বনদপ্তর।
আপাততঃ পরুলিয়া জেলার কংসাবতী দক্ষিন বন বিভাগ এই কাজ শুরু করেছে বান্দোয়ান বনাঞ্চল লাগোওয়া গ্রামগুলিতে। বনবিভগের সাথে এই কাজে হাত মিলিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরে খড়্গপুরের একটি বন্যপ্রানী সংরক্ষন নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। তারা বান্দোয়ান- ১ ও ২, মানবাজার- ২, যমুনা ও বরাবাজার ব্লকগুলির ৬০ টি যৌথ বন পরিচালনা কমিটির সদস্যদের এ ব্যাপারে প্রশিক্ষন ও দিচ্ছে। কংসাবতী দক্ষিন বনবিভাগের বিভাগীয় আধিকারিক অর্ণব সেনগুপ্ত জানান, “সাপ সম্পর্কে মানুষের আতঙ্ক দুর করতে এবং সাপের কামড়ে মৃত্যুর হার কমাতে এই উদ্যোগ। আমরা মানুষকে এটাও বোঝাতে চাইছি- কি ভাবে সাপকে রক্ষা করা যায়”!
তিনি বলেন, “ছবি দেখিয়ে সাপ চেনানোর পাশাপাশি, সাপ কামড়ানোর পরও মানুষের আত্মবিশ্বাস যাতে অটুট থাকে, কি ভাবে, কত তাড়াতাড়ি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে, সে সবই এই প্রশিক্ষনে শেখানো হচ্ছে”।
পুরুলিয়ার পর একই উদ্যোগ নেওয়া হবে বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের বনবিভাগ গুলিতে, বলে বনদপ্তরের এক শীর্ষ কর্তা জানান। প্রতি বছর দক্ষিনবঙ্গেঁর জেলাগুলিতে সাপের কামড়ে মারা যান কম করে আড়াইশো মানুষ বলে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি সূত্র জানায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here