শারদীয়ার শেষলগ্নে মুর্শিদাবাদে গেরুয়ার স্ট্যান্ট

0
646

সংবাদদাতা,মুর্শিদাবাদ-

আগাম ইঙ্গিত ছিলই।শেষ লগ্নে উমার কৈলাস যাবার পালাই বাতাসে বিষাদের সুরে আনন্দ জিইয়ে রাখতে এবার শারদীয়ার ফুল সিজিনকেই নিজেদের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বেছে নিল গেরুয়া শিবির।মুর্শিদাবাদে বাজিমাৎ করল গেরুয়ার যুব সংঘঠন ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা। নিজেদের জনসংযোগ কে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে পুজোর দিন গুলকেই বেছে নিতে দেখা গেল লালগোলা যুব মোর্চার ১৮ নম্বর মন্ডলকে পদ্মা পাড় লাগোয়া জনপদ লালগোলা জুড়ে ।প্রায় তিন লক্ষ জনসংখ্যা ছুঁই ছুঁই এই এলাকায় ঘরোয়া ও বারোয়ারী মিলিয়ে প্রায় পঞ্চাশের অধীক পূজা হয়ে থাকে।তাই স্বাভাবিক ভাবেই সেই সকল স্থানে পুজোর দিন গুলিতে আসেপাশের গ্রাম গুলি থেকে জনতার ঢল নামে চোখে পড়ার মত।তাই গ্রাম্য এলাকায় অভিনব কিছু করার লক্ষ্যে শারদ সম্মান ২০১৯ এর মধ্যে দিয়ে একাধীক বিভাগের আয়োজন করা হয়।লালগোলা যুব মোর্চা ১৮ নম্বর মণ্ডল সূত্রে জানা যায়,মূলত তিনটি বিভাগ,সেরার সেরা দেবী প্রতিমা,সেরার সেরা মণ্ডপ সজ্জা ও সেরার সেরা মণ্ডপ চত্ত্বরের পরিবেশ বাছতেই এই প্রতিযোগিতা।পাশাপাশি সেরার সেরা বিশেষ পূজ আয়োজক কমিটিদেরও নির্বাচনের ব্যাবস্থা করা হয় এই প্রতিযোগিতায়।দল মত নির্বিশেষে নিরপেক্ষ বিচার করতে এলাকার বিশিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিয়ে তৈরি করা হয় একটি ৬ সদস্যের বিচারক মণ্ডলীর দল।সেখানে অভিজ্ঞ শিক্ষক,কলেজের অধ্যক্ষ থেকে আজকের দিনের যুব সমাজের প্রতিনিধি দেরও রাখা হয়।রাত ভর বিচারকরা সম্ভাব্য নিখুঁত ফলাফলের লক্ষ্যে মন্ডপ দর্শন করেন।এই বিষয়ে বিচারকের দায়িত্বে থাকা তরুণ অনুপম দাস বলেন,” চুল -চিরা বিশ্লেষন করার লক্ষ্যে প্রতিটি মণ্ডপকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হয়েছে।ফলে অনেক সময় এক মন্ডপ থেকে বেরিয়ে আবার কিছুদূর গিয়ে মনে হয়েছে আরও একবার দেখলে ভাল হয়”।

অপর দিকে বিচারক কলেজ অধ্যক্ষ দিলীপ সরকার,অরুপ দাস,কম্পিটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইনচার্জ তন্ময় দাস ও স্কুল শিক্ষক মৃদুল কুমার রায় একজোটে বলেন,”বিচারের কাজ আদতে খুবই কঠিন ওই অল্প সময়ের মধ্যেই ঠিক করে ফেলতে হয় কে একটু বেশী বা কম এগিয়ে,আর প্রত্যেকেই গুণমানে দিক দিয়ে এত কাছাকাছি অবস্থান করে যে নাম্বার দিয়ে তার মূল্যায়ন করাটা জটিল হয়ে যায় একজন বিচারক হিসেবে”।একদিকে যখন বাতাসে উমার বিদায়ের সুর অন্যদিকে অঝোর অসুর বৃষ্টি পুজোর শেষ মুহূর্তের আনন্দে মাটি করে চলেছে ।তাতে স্বাভাবিক ভাবেই পূজ উদ্যোক্তাদের মুখ ম্লান প্রায়।সেখানে সেরার সেরা হওয়ার পুরস্কার তাদের মনবল অনেক খানি বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করেন লালগোলা ১৮নং যুব মোর্চার সভাপতি বিশ্বজিৎ হালদার।তিনি বলেন,আমার আশা করি এই পুরস্কার পূজ উদ্যোক্তাদের মনবল শুধু বাড়াবেই না আগামী দিনে তাদের আরও ভালো ভাবে কাজ করতে উৎসাহও জোগাবে”।পূজা উদ্যোক্তারা বলেন,যুব মোর্চার এই উদ্যোগকে সাধু বাদ না জানিয়ে উপায় নেই,এই সম্মান আমাদের মনবল অনেক খানি বাড়িয়ে দিল”।মুর্শিদাবাদ যুব মোর্চার সাধারণ সম্পাদক দেবাঞ্জন মজুমদার খানিকটা ডিফেন্সিভ ভঙ্গিতে মুচকি হেসে বলেন,এলাকায় এই অভিনব ভাবনা হটাৎ ই আমরা গ্রহণ করেই যে আমরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এত সাড়া পাব তা ভাবতে পারেনি,ফলে আগামীদিনে আরও বড় কিছু করার ভাবনা নতুন করে তৈরি হল”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here