উচ্চমাধ্যমিকে চোখ ধাঁধানো ফলাফল সুন্দরবনের অভিষেকেরঃ স্বপ্ন ডাক্তার হওয়ার

0
239

রঞ্জিত সর্দার ,দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ- ভাঙা খড়ের ঘরের চাল। মাটির ভাঙ্গা বেড়ার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারছে সূর্যের আলো। বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় আমফানের তাণ্ডবে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছিল পুরো ঘরটি। মাটির বেড়া দিয়ে খড়ের চাল কে আবার নতুন ভাবে আবার দাঁড় করিয়েছে পরিবারের সদস্যরা। ভাঙ্গা ঘর মেরামতি তে ও হাত লাগিয়েছিল অভিষেক। কারণ পরিবারের আর্থিক অনটনে সামর্থ্য নেই লোকজন দিয়ে কাজ করিয়ে বাড়ি মেরামতি করার। নিজের হাতে বানানো ঘরেই বসে চলছে পড়াশোনার পাঠ। ডাক্তার হতে চাইছে অভিষেক মন্ডল। উচ্চ মাধ্যমিকের চোখধাঁধানো ফলাফল তাকে আশা জাগিয়েছে আরো বেশি। তাই চিকিৎসক হয়ে এলাকার মুখ উজ্জ্বল করবে এমনটাই আশা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী থানার জ্যোতিষপুর গ্রামে বাড়ি অভিষেক মন্ডলের। বাসন্তী হাই স্কুল থেকে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৪৮১ নম্বর পেয়ে স্কুলের মধ্যে অন্যতম সেরা হয়েছে সে। বাংলায় ৯৫, ইংরেজিতে ৯২, বায়োলজি ৯০‌ অংক, ভৌতবিজ্ঞান ও জীবনবিজ্ঞানে ৯৮ নম্বর পেয়েছে সে। এত নম্বর পাওয়ার পরও তার আশঙ্কা সে আদৌ পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে কিনা? কারণ গরিব চাষি পরিবারের সমর্থন এই ছেলেটিকে চিকিৎসক বানানোর। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় বাড়ি ছেড়ে এলাকারই এক পরিচিত বাড়িতে গিয়ে থেকে পড়াশোনা চালিয়েছে সে। এ বিষয়ে অভিষেক বলেন আমফান ঝড়ের পর মনে হয়েছিল আর পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিতে পারবো না। পরীক্ষায় পাস করেছি এখন বুঝতে পারছিনা ডাক্তার হতে পারব কিনা। কারণ বাড়ির আর্থিক অবস্থা যথেষ্টই খারাপ।বাবা মা ও দুই ভাই নিয়ে এক সাথেই থাকে অভিষেক। বাবা গ্রামে নিজের অল্পকিছু জমিতে চাষবাসের কাজ করেন। মা গৃহকর্ত্রী। বাবা অরূপ কুমার মন্ডল বলেন, ছেলে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসক হওয়ার জন্য। যা সম্বল ছিল সবই প্রায় শেষ হয়ে যেতে বসেছে আমফান ও লকডাউনের কারনে। এলাকায় লকডাউন চলছে ফলে অন্য কাজ নেই। জমি যা ছিল তাতেই সংসার চলে না। ফলে তার এই ডাক্তারি পরীক্ষার খরচ কি করে মেটাবো। আফসোস বাবার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here