ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বন্দুকের অনুমতি নিয়ে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্যই কি দুর্ঘটনা

0
1070

নিজস্ব সংবাদদাতা দুর্গাপুর:- সারাদেশে চলছে করোনা আতঙ্ক। সেই আতঙ্ককে ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠতে আনলক ১ শুরু করা হয়েছে সারা দেশে। আস্তে আস্তে মানুষজন বিভিন্ন শপিংমল,ব্যাংক, হাসপাতালের নির্ধারিত কাজগুলো সেরে ফেলতে চাইছেন তাড়াতাড়ি। দুর্গাপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টার তাই বেশ কয়েকদিন ধরেই যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছিল। সিটি সেন্টারে আসতে শুরু করেছিলেন মানুষজন। এরইমধ্যে ঘটল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের সিকিউরিটি কাজে নিযুক্ত থাকা সিকিউরিটি গার্ড হঠাৎই গুলির আওয়াজ শুনতে পেয়ে ব্যাংকের বাইরে বেরিয়ে দেখেন যে একটি বেসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থার দুই সিকিউরিটি গার্ড যারা এটিএম এ টাকা ভরার কাজে নিযুক্ত ছিলেন তাদের মধ্যে একজন হঠাৎই গুলির আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে তার দেহের এক অংশ।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় যে এটিএম এ টাকা ভরার সময় ওই নিরাপত্তারক্ষী এটিএম এর বাইরে পাহারারত ছিলেন। হয়তো অসাবধানতাবশত তাঁর বন্দুক থেকে গুলি ছিটকে যায় আর তাতেই গুরুতর জখম হন বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার ওই কর্মী। পুলিশ দ্রুততার সাথে গান্ধী মোড়ে অবস্থিত একটি বেসরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায় তাকে, কিন্তু বিকেল দিকে তার মৃত্যু হয়। জানা গেছে মৃত ব্যক্তি হল বছর পঞ্চান্নর শেখ জালালউদ্দিন, আউসগ্রাম এর বাসিন্দা। তিনি তার নিজস্ব বন্দুক থেকেই গুলিতে জখম হয়েছেন। স্বভাবতই এই মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় পুরো সিটিসেন্টার জুড়ে। দুর্গাপুর পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু করা হয়েছে কি বা কেমন ভাবে গুলি ছিটকে আহত হলেন ওই ব্যক্তি।

এর আগেও ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে এইরকম অনেক খবরই আছে যে নিরাপত্তারক্ষীর অসাবধানতাবশত গুলি ছিটকে মৃত্যু। সেইমতো বেশ কিছুদিন আগে সরকারের পক্ষ থেকে একটি অভিযান চালানো হয় যে বেসরকারি সংস্থার সিকিউরিটি গার্ডের কাছে বা নিরাপত্তা রক্ষীদের কাছে যেসব বন্দুক গুলি আছে তারা সেটি কিভাবে ব্যবহার করছেন। একটি সূত্র থেকে জানা গেছে যে ৮০% নিরাপত্তা রক্ষী যা বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত তাদের কাঁদে যে দুলালী বন্দুক গুলি থাকে সেগুলি তাদেরকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। স্বভাবতই একটা প্রশ্ন থেকেই যায় যে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য সরকারের থেকে বন্দুক ব্যবহার করার অনুমতি নিয়ে, কি করে এই সব নিরাপত্তারক্ষীরা নিজেদের ব্যক্তিগত বন্দুক নিয়ে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।

এছাড়াও আরেকটি সূত্র থেকে জানা গেছে যে অবৈধভাবে বন্দুকের লাইসেন্স এর বন্দুক নিয়ে বেশ কিছু বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাতে মানুষজন চাকরি করছেন তাদের বন্দুকের কোনো বৈধতা নেই বলে জানা যাচ্ছে। পাশের জেলা ঝাড়খন্ড ও বিহার থেকে সহজেই নাকি জাল বন্দুকের লাইসেন্স নিয়ে এইসব বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থায় কাজ করার জন্য মানুষজন আসছেন বা করছেন।
অনেক আগে কেন্দ্র সরকার ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সমীক্ষা চালানো হলেও কোনো এক অজানা কারণে মাঝপথেই তা থমকে যায়। তাই গত কালকের ঘটনা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যদি সরকারের পক্ষ থেকে আগামী দিনে কড়া পদক্ষেপ নিরাপত্তারক্ষীদের বন্দুক ব্যবহারের বিষয়ে না নেওয়া হয় তাহলে হয়তো ঐরকম অসাবধানতাবশত প্রাণ যাবে অনেক সাধারণ মানুষের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here