জমা জল -মশার আতঙ্ক

0
64

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী,গুসকরাঃ- একে কি বলা হবে – নিষ্ঠুর রসিকতা! সার্বিক পরিস্থিতি লক্ষ্য করলে সম্ভবত সেটাই যুক্তিগ্রাহ্য হবে। ঘটনাটি গুসকরা পুরসভার।

শহরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য পুরসভা কর্তৃপক্ষ সতর্ক আছে। লক্ষ্য ডেঙ্গুতে শহরের বুকে যেন একজনেরও প্রাণহানি না ঘটে। লক্ষ্য পূরণের লক্ষ্যে পুরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত জনসচেতনামূলক প্রচার চলছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীরা বিভিন্ন ওয়ার্ডে মানুষকে সচেতন করে চলেছে। বাড়ির মধ্যে যাতে জল জমে না থাকে তারজন্য বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং শোওয়ার সময় মশারি ব্যবহার করতে অনুরোধ করা হচ্ছে । মশার লার্ভা ধ্বংস করার জন্য কয়েকদিন আগে শহরের অন্তত ছয়টি পুকুরে গাপ্পি মাছ ছাড়া হয়েছে। পুরসভায় আগত বাসিন্দাদের নজরে পড়ার জন্য গেটের সামনে রাখা আছে প্রচারমূলক ফেস্টুন। এককথায় বলা যায় পুরসভার পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সমস্ত রকম প্রতিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সবকিছুই ঠিকঠাক থাকলেও পুরসভা গেটের ঠিক উল্টোদিকে রয়েছে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন একটি অপরিচ্ছন্ন পুকুর, মশাদের আঁতুরঘর। দেখলে মনে হবে সে যেন পুরসভার প্রচারমূলক ফেস্টুনের দিকে তাকিয়ে অবজ্ঞার হাসি হাসছে। শুধু তাই নয় পুরসভার গেট থেকে ১০০ মিটার উত্তরে রয়েছে ঠিক এরকমই আর একটি পুকুর। প্রায় সম দূরত্বে পুরসভার পূর্ব দিকে ৯ নং ওয়ার্ডে রয়েছে মশাদের বাস করার উপযুক্ত জমা জল। ভ‍ৌগোলিক অবস্থার জন্য সেখানকার নিকাষী ব্যবস্হা দুর্বল এবং তারই সুযোগ নিয়ে মশককুল তাদের বংশ বৃদ্ধি করে চলেছে। দেখলে মনে হবে মশাদের আঁতুরঘর পুরসভাকে চারদিক দিয়ে ঘিরে আছে।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বাসিন্দা বর্ণালী চৌধুরী বললেন- জমা জলের জন্য যেমন মশার অত্যাচার বাড়ছে তেমনি দূষণও ছড়াচ্ছে। জায়গাটার অবস্থানগত অসুবিধা বুঝতে পারছি। পুরসভা যদি অস্হায়ীভাবে রাস্তার নীচ দিয়ে পাইপ দিয়ে দক্ষিণ দিকের ড্রেনের মধ্যে জমা জল ফেলার ব্যবস্থা করে তাহলে খুব উপকার হয়।

পুরপ্রধান কুশল মুখার্জ্জী বললেন – সমস্যাটা বুঝতে পারছি। পুরসভার সামনে অপরিচ্ছন্ন পুকুর থাকলে সেটা খুব দৃষ্টিকটু লাগে। পুকুরের মালিকদের অনুরোধ করেছি যাতে পুকুরটা পরিষ্কার করার ব্যাপারে তারা উদ্যোগ নেয়। নাহলে পুকুরের মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প কিছু ভাবব। তিনি আরও বললেন – ৯ নং ওয়ার্ডের সমস্যাটা জানি। পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে পরামর্শ করে দেখি বিকল্প কিছু করা যায় কিনা। তিনি পুরবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন – তাদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য পুরসভা সর্বদা সচেতন আছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here